TheBangladeshTime

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জ্বালানি অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ইরানের

2026-03-23 - 02:41

নিজেদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জ্বালানি ও পানিসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ‘অপরিবর্তনীয়ভাবে ধ্বংস’ করার হুমকি দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে, হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলার হুমকির জবাবেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ রোববার (২২ মার্চ) বলেন, জ্বালানি ও পানি লবণমুক্তকরণ (ডিস্যালিনেশন) স্থাপনাসহ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং প্রয়োজনে সেগুলো ধ্বংস করা হবে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হবে। এর জবাবে ইরানের সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ বলেছে, এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত সব জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও পানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং তা পুনরায় খোলা হবে না যতক্ষণ না ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণ করা হয়। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শঙ্কা মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করে বলেছে, বিদ্যুৎ, গরম এবং পানির মতো মৌলিক সেবা সরবরাহকারী অবকাঠামোতে হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। ইরানের হামলার ফলে হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয়। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ইউরোপে গ্যাসের দাম গত সপ্তাহে প্রায় ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে চীন, ভারত ও পাকিস্তানের মতো কিছু দেশকে সীমিতভাবে প্রণালি ব্যবহার করতে দেওয়া হলেও মোট জাহাজ চলাচল যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় পাঁচ শতাংশে নেমে এসেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান কেএএ/

Share this post: