এবারো ঈদের আগে বিছট গ্রামে বেড়িবাঁধে ভাঙন, আতঙ্কে এলাকাবাসী
2026-03-20 - 08:30
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বিছট গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোরে সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-২ এর আওতাধীন ৭/২ পোল্ডারের বিছট গ্রামের জহুর আলী মোড়লের বাড়ির সামনে এ ভাঙন সৃষ্টি হয়। দ্রুত মেরামত করা না হলে পুরো বাঁধ খোলপেটুয়া নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে নদীর পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হতে পারে পুরো আনুলিয়া ইউনিয়ন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত বছর ঈদের দিন (৩১ মার্চ) সকালে বিছট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় আব্দুর রহিম সরদারের ঘেরের পাশ থেকে প্রায় দেড়শ ফুট এলাকা জুড়ে বেড়িবাঁধ হঠাৎ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়। পরে গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে একটি অস্থায়ী রিংবাঁধ নির্মাণের চেষ্টা করলেও দুপুরের জোয়ারে সেটি ভেঙে গিয়ে খোলপেটুয়া নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। এবারও ঈদের আগমুহূর্তে একই স্থানে ভাঙন দেখা দেওয়ায় গ্রামবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত বছরের ক্ষয়ক্ষতির ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই নতুন করে সর্বস্ব হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন তারা। বিছট নিউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আবু দাউদ বলেন, বুধবার সকালে নদীর ধারে গিয়ে দেখি জহুর আলী মোড়লের বাড়ির সামনে পাউবোর বেড়িবাঁধের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি অংশ ভেঙে নদীতে চলে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভোররাতের জোয়ারের সময় এই ভাঙন ঘটে। অল্পের জন্য এলাকা বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। আমরা আপাতত মাটি ফেলে ভাঙনস্থল রক্ষা করার চেষ্টা করছি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিছট গ্রামের বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গত বছর ভাঙনের আগে ও পরে একাধিক প্যাকেজে সংস্কারের বরাদ্দ দেওয়া হলেও কাজ সম্পন্ন হয়নি। এখনও বিপুল পরিমাণ বালুভর্তি জিওব্যাগ পড়ে থাকলেও তা ভাঙনস্থলে ব্যবহার করা হয়নি। ফলে ভাঙন পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহমান তাযকিয়া জানান, ভাঙনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জিওব্যাগ ও জিও রোলসহ জনবল পাঠানো হয়েছে। গ্রামবাসীর সহযোগিতায় আপাতত পানি প্রবেশ বন্ধের চেষ্টা চলছে। শুক্রবার সকাল থেকে জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী মেরামত কাজ শুরু করা হবে। আহসানুর রহমান রাজীব/এফএ/এমএস