পরিচিত তরুণীর স্বামীর পরিকল্পনায় রাকিব হত্যা: পুলিশ
2026-03-19 - 11:00
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় গুলি ও ছুরিকাঘাতে কলেজ ছাত্র (টিকটকার) রাকিব হত্যার ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, টিকটক ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য ভিডিও কন্টেন্ট/টিকটিক বানাতেন রাকিব। তার সঙ্গে জান্নাত মুন নামের এক তরুণীর পরিচয় হয়। পরে সন্দেহ থেকে মুনের স্বামী ‘সাজিদের পরিকল্পনাতেই’ এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। আর এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া সবাই ‘ভাড়াটে খুনি’। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আলম। গ্রেফতাররা হলেন- শিহাব, জয়, রাফিন, সাগর এবং সালাউদ্দিন। তাদের মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে রাফিনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে শিহাব আর জয়কে খুলনা থেকে, সাগরকে পটুয়াখালী থেকে ও সালাউদ্দিনকে গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়। উপ-কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, ‘খুলনা অঞ্চলের মাদক কারবারি সাজিদের সঙ্গে রাকিবেও একসময় ভালো সম্পর্ক ছিল। টিকটকের কারণে সাজিদের স্ত্রীর সঙ্গে রাকিবের যোগাযোগের ফলে সন্দেহ থেকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে তাকে হত্যা করান সাজিদ।’ তিনি বলেন, মুনের সঙ্গে যে সম্পর্ক এটা কোন পর্যায়ে গেছে তার সঙ্গে আবার কথা বললে বুঝতে পারবো। এটাকে হয়ত সাজিদ সন্দেহের চোখে দেখতেন। এটা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে সাজিদ কিন্তু তাকে থ্রেট করে আসছিলেন। এটারই ফলশ্রুতিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি, সাজিদ হত্যাকারীদের টাকা দিয়ে ফিট (ভাড়া) করে দেন। আরও পড়ুন শহীদ মিনারে রাকিব হত্যায় গ্রেফতার ৪, রহস্য উদঘাটনের দাবি পুলিশের রাকিব হত্যা: দুই আসামি স্বীকারোক্তি, দুইজনের ৫ দিনের রিমান্ড শহীদ মিনারে রাকিব হত্যা, নেপথ্যে নারী-মাদক সংশ্লিষ্ট দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত তিনি বলেন, যে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এর মধ্যে চারজন ছিল মোটামুটি একেবারে সরাসরি কিলিং মিশনের সঙ্গে। যে শুট করেছে তার নাম আলামিন, আলামিনকে আমরা এখনো পর্যন্ত পর্যন্ত ধরতে পারিনি। শিহাব, জয় এবং রাফিন চাপাতি এবং চাকু দিয়ে কোপায়। আর সাগর কোপায়নি কিন্তু একসঙ্গেই ছিল। আর অস্ত্র জোগান দেওয়া এবং কে কোথায় থাকবে সালাউদ্দিন সেটির সমন্বয় করেছিল। তিনি আরও বলেন, এর সঙ্গে যারা যারা জড়িত আছে আমরা মোটামুটি আইডেন্টিফাই করেছি। আমরা পাঁচজনকে ধরেছি। এর বাইরে আরো সাত-আট জন আছে। সবাইকে আস্তে আস্তে ধরে ফেলবো। ডিসি মাসুদ আলম বলেন, হত্যাকারীরা খুলনা থেকে এই হত্যার উদ্দেশ্যেই ঢাকাতে আসেন। এসে তারা ঢাকার বিভিন্ন হোটেলে বিশেষ করে ফকিরাপুল একটা হোটেলে বেশ কয়েকজন ছিল। সোনারগাঁ হোটেলেও দুইজন ছিল, যাদের আমরা সিসি ক্যামেরা ফুটেজও পেয়েছি। তারা এর মধ্যে রাকিবকে হত্যার জন্য রেকি করা হয়। রাকিব প্রতিদিন রাতে শহীম মিনার এলাকায় যেতেন। যেহেতু তিনি টিকটক করে টিকটক এ কন্টেন্ট ক্রিয়েট করে, তার একটা বড় সার্কেল ছিল। ঘটনার দিন পরিকল্পনা অনুযায়ী চারজন সরাসরি থাকে, আর বাদবাকি যারা থাকে তারা ব্যাকআপে থাকে। তিনি আরও বলেন, রাকিব দু-তিন বছর আগে বিয়ে করেছেন। তারপরও সাফা নামে একটা মেয়েকে ৪-৫ মাস আগে বিয়ে করেছে অনেকটা বাজি ধরে বা এ রকম কিছু একটা শুনেছি তার বন্ধু বান্ধবের কাছ থেকে। আর আরেকটা মেয়ে আছে তার সঙ্গে একসঙ্গে টিকটক করে। এটা হচ্ছে মুন ওরফে জান্নাত। জান্নাতের স্বামী সাজিদ আবার ড্রাগ ডিলার এবং খুলনা অঞ্চলে তার বসবাস। তিনি তাদের পাঠায় দেয় রাকিবকে কিল করার জন্য, তো এটা মোটামুটি আমরা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়েছি। তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে যে এলাকাগুলোতে মাঝে মাঝে বড় ধরনের ঘটনা দেখি, এটার পেছনে এদের কিন্তু বড় ধরনের হাত রয়েছে। এরা খুবই দুর্ধর্ষ এবং এরা টাকা পাইলে যে কাউকে খুন করতে পারে। কেআর/এমআইএইচএস