মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব, বল সংকটে ইংলিশ ক্রিকেট
2026-03-19 - 16:00
ইংলিশ ক্রিকেট মৌসুমের পর্দা উঠছে আগামী ৩ এপ্রিল থেকে। কিন্তু এর আগে বল সংকটে ভুগছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের জেরে ডিউক বলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে বললেই চলে! এতেই বিপাকে পড়েছে ইসিবি। দেশটির প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ডিউক বল অপরিহার্য। ফলে ডিউক বলের সরবরাহ বাধাগ্রস্থ হওয়ায় বল সংকটে পড়ছে ইসিবি। ডিউক বল তৈরির প্রক্রিয়াটি বেশ দীর্ঘ এবং জটিল। স্কটল্যান্ডের ‘অ্যাবাডিন অ্যাঙ্গাস’ জাতের গরুর চামড়া প্রথমে প্রক্রিয়াজাত হয় ইংল্যান্ডের চেস্টারফিল্ডে। এরপর সেই চামড়া পাঠানো হয় দক্ষিণ এশিয়ায়, যেখানে কারিগররা হাতে সেলাই করে বলের রূপ দেন। সবশেষে লন্ডনের ওলথামস্টো কারখানা থেকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এই বল। এই পুরো প্রক্রিয়ায় পণ্য আনা-নেওয়ার প্রধান রুট হলো মধ্যপ্রাচ্য। কিন্তু চলমান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে এশিয়ার কারখানাগুলোতে বল তৈরি হয়ে পড়ে থাকলেও তা সময়মতো লন্ডনে পৌঁছাতে পারছে না। চাহিদার তুলনায় অর্ধেক সরবরাহ ডিউক বল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘ব্রিটিশ ক্রিকেট বলস লিমিটেড’-এর মালিক দিলিপ জাজোদিয়া বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, প্রতি মৌসুমে গড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার বলের প্রয়োজন হলেও এবার ক্লাবগুলোকে চাহিদার মাত্র অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ বল সরবরাহ করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। তিনি ডেইলি মেইলকে বলেন, 'মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আমরা বড় ধরনের সংকটে পড়েছি। উপমহাদেশের কারখানাগুলোতে আমাদের প্রচুর বল প্রস্তুত রয়েছে, কিন্তু এয়ারলাইনগুলো পণ্য বহন করছে না।' আকাশচুম্বী পরিবহন খরচ যুদ্ধের প্রভাবে শুধু বলের সংকটই নয়, বেড়েছে পরিবহন খরচও। জাজোদিয়া জানান, আগে ১২০টি বলের এক বাক্স পরিবহনে কেজিপ্রতি খরচ হতো প্রায় ৫ ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ ডলারে। তার ভাষায়, 'বেশিরভাগ বলই মধ্যপ্রাচ্য দিয়ে যায়, কিন্তু সেখানে হঠাৎ করে রকেট হামলা শুরু হওয়ায় বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে।' বিকল্প পথের সন্ধানে সংকট মোকাবিলায় এখন বিকল্প রুটের কথা ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা, 'শুনেছি, কেউ একজন পাকিস্তান থেকে শ্রীলঙ্কায় পণ্য পাঠিয়েছে, যা বিকল্প পথ। মানুষ পথ ঠিকই খুঁজে নেয়। এটা অনেক ব্যয়বহুল হতে পারে, তবে একটা পথ তো বের করতেই হবে। শেষ পর্যন্ত কুরিয়ার সার্ভিসগুলোকে চার্টার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে হতে পারে।' এসকেডি/এএসএম