TheBangladeshTime

রাজবাড়ীতে ২০০-৫০০ টাকার বেশি জ্বালানি তেল পাচ্ছেন না গ্রাহকরা

2026-03-06 - 12:44

রাজবাড়ীতে হঠাৎ করেই জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়ে গেছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে তৈরি হচ্ছে গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি। দীর্ঘ সময় সিরিয়ালে থেকে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত জ্বালানি না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে। একজন মোটরসাইকেলচালককে ২০০ এবং প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাসকে ৫০০ টাকার বেশি জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না। শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে রাজবাড়ীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। পেট্রোল পাম্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় হয়তো গ্রাহকরা তেল মজুত করতে পাম্পে ভিড় করছেন। তবে ডিপো থেকে তেল না পাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী গ্রাহকদের জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে পারছেন না পাম্প মালিকরা। ফলে মোটরসাইকেল চালকদের ১০০ থেকে ২০০ এবং প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস চালকদের ৫০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। রাজবাড়ী শহরের মুরগি ফার্ম এলাকায় অবস্থিত কাজী ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে অকটেন নেই। পেট্রোলও সীমিত পরিমাণে বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক গাড়িচালক পর্যাপ্ত জ্বালানি না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। শ্রীপুরের পলাশ ফিলিং স্টেশনেও দেখা যায় একই চিত্র। তবে প্রতিটি পাম্পেই ছিল মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি। মোটরসাইকেলচালক রায়হান রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘পাম্পে এসে ২০০ টাকার বেশি তেল নিতে পারলাম না। এই তেলেতো চলা কষ্টকর হয়ে পড়বে। আগামী দিনগুলোতে তেল পাওয়া যাবে কি-না, সেটারও কোনো নিশ্চয়তা পাচ্ছি না। শুনছি যুদ্ধের কারণে তেলের দাম নাকি অনেক বাড়বে।’ প্রাইভেটকারচালক সোহেল মিয়া বলেন, ‘পাম্পে এসে তেল না পাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছি। মাত্র ৫০০ টাকার তেলে গাড়ির কিছুই হয় না। এরকম হলে গাড়ি চালানো বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। কিন্তু গাড়ি চালাতে না পারলে আবার সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়বে।’ পাম্পে কর্মরত শ্রমিকরা জানান, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় সকাল থেকেই কয়েকগুণ বেশি গ্রাহক জ্বালানি নিতে আসছেন। অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে গ্রাহকপ্রতি সীমিত পরিমাণে জ্বালানি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পলাশ ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার বিপুল কুমার বৈদ্য বলেন, বৃহস্পতিবার মেঘনা পেট্রোলিয়াম থেকে তেল সরবরাহ না পাওয়ায় তাদের পাম্পে তেল সংকট দেখা দিয়েছে। তাছাড়া রাজবাড়ীর ৩১টি সরকারি অফিসের গাড়িতে নিয়মিত তেল সরবরাহ করতে হয়। বর্তমানে পেট্রোল শেষ হয়ে গেছে। অল্প কিছু অকটেন ও ডিজেল থাকলেও তা বেশিক্ষণ চলবে না। রাজবাড়ী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার দুর্জয় বলেন, মেঘনা ও যমুনা ডিপো থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় পাম্পগুলোতে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। দ্রুত সরবরাহ না এলে পাম্পগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কাজী ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সংকটের কারণে মোটরসাইকেলে ১০০-২০০ টাকা, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা এবং কৃষকদের ক্ষেত্রে ১০ লিটারের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। রুবেলুর রহমান/এসআর/এএসএম

Share this post: