১৬ বছর বয়সী ডউম্যানের জাদু, শিরোপার আরও কাছে আর্সেনাল
2026-03-15 - 03:23
মাত্র ১৬ বছর বয়সী তরুণ ফুটবলার ম্যাক্স ডউম্যান ইতিহাস গড়ে আর্সেনালকে দারুণ এক জয় উপহার দিয়েছেন। তার গোলেই ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড তৈরি হলো এবং শেষ মুহূর্তে আর্সেনাল ২-০ গোলে হারিয়েছে এভার্টনকে। এ জয়ের ফলে ২২ বছর পর লিগ শিরোপা জয়ের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল গানাররা। ৩১ ম্যাচে আর্সেনালের পয়েন্ট ৭০। ২য় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির পয়েন্ট ৬১। এভার্টনের পয়েন্ট ৩০ ম্যাচে ৪৩, রয়েছে ৮ম স্থানে। লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরুতে আর্সেনাল বল দখলে আধিপত্য দেখালেও প্রথমার্ধে পরিষ্কার সুযোগ বেশি তৈরি করে এভারটন। বিশেষ করে ডোয়াইট ম্যাকনেইলের একটি জোরালো শট গোলবারে লেগে ফিরে আসে। দ্বিতীয়ার্ধেও আর্সেনালের জন্য কাজটা সহজ ছিল না। তবে ম্যাচের প্রায় এক ঘণ্টা পার হওয়ার পর কোচ মিকের আর্তেতা দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনেন। তিনি মাঠে নামান ভিক্টর গিয়োকেরেস এবং তরুণ ডউম্যানকে। এই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে ডউম্যানের ক্রস থেকে গোল করে আর্সেনালকে এগিয়ে দেন গিয়োকেরেস। ম্যাচের শুরুতে আর্সেনালের হয়ে প্রথম সুযোগ তৈরি করেন ননি মাদুয়েকে। কর্নার থেকে নেওয়া একটি শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন এভারটনের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। পরে রিকার্ডো ক্যালাফিওরির একটি ভলি সামান্য ওপর দিয়ে চলে যায়। আর্সেনাল ধারাবাহিক আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে। মার্টিন জুবিমেন্দি বল বাড়িয়ে দেন বুকায়ো সাকাকে; কিন্তু কাছ থেকে তার হেডও ঠেকিয়ে দেন পিকফোর্ড। ম্যাচের প্রায় ২০ মিনিটের দিকে প্রথম বড় সুযোগ পায় এভারটন। ইলিম্যান এনদিয়ায়ের শট আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়া আঙুলের স্পর্শে রুখে দেন। এরপর ফিরতি বলে শট নেন ম্যাকনিল; কিন্তু দারুণভাবে পা বাড়িয়ে ব্লক করেন কালাফিওরি। কিছুক্ষণ পর দূর থেকে ম্যাকনিলের আরেকটি শক্ত শট গোলবারে আঘাত করে ফিরে আসে। ফিরতি বলেও গোল করতে পারেননি এনদিয়ায়ে। প্রথমার্ধে একটি বিতর্কিত মুহূর্তও তৈরি হয়। কাই হাভার্টজকে ফাউল করার অভিযোগ ওঠে মাইকেল কিয়ানির বিরুদ্ধে। তবে ম্যাচের রেফারি অ্যান্ড্রু ম্যাডলি পেনাল্টি দেননি এবং ভিডিও সহকারি রেফারিও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে এভারটনই প্রথম সুযোগ পায়। কর্নার থেকে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে বেতো শট নেন, কিন্তু রায়া নিচু হয়ে তা ঠেকিয়ে দেন। এরপর আর্সেনাল কয়েকটি স্থির বল থেকে সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। ম্যাচের প্রায় এক ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার আগে পিকফোর্ড আরেকটি দারুণ সেভ করেন এবেরেচি এজের শট থেকে। এই সময় আর্সেনাল কোচ আর্তেতা পরিবর্তন আনেন। তিনি মাদুয়েকের পরিবর্তে মাটে নামান গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি এবং হাভার্টজের জায়গায় আনেন গিওকেরেসকে। ম্যাচের ৭৪ মিনিটে আরেকটি পরিবর্তন এনে জুবিমেন্দির জায়গায় মাঠে নামানো হয় ডউম্যানকে। একই সঙ্গে কালাফিওরির বদলে নামেন পিয়েরো হিনকাপিয়ে। শেষ দিকে আর্সেনাল গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। এমন এক মুহূর্তে আবারও শট নেন এজে, কিন্তু পিকফোর্ড তা রুখে দেন। অবশেষে ম্যাচের ৮৯ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। থ্রো-ইন থেকে বল পেয়ে ডউম্যান একটি দারুণ ক্রস দেন। বল ধরতে বের হয়ে এসে ভুল করেন পিকফোর্ড। ডিফ্লেকশনের পর বল গিওকেরেসের সামনে চলে আসে এবং সহজেই জালে জড়িয়ে দেন তিনি। এরপর যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে ম্যাচের শেষ গোলটি করেন ডাউম্যান। এভারটনের কর্নারের সময় পিকফোর্ডও আক্রমণে উঠে গিয়েছিলেন। সেই সুযোগে বল পেয়ে দ্রুত ছুটে গিয়ে ফাঁকা জালে গোল করেন তরুণ এই ফুটবলার। এই গোলের সঙ্গে সঙ্গেই উচ্ছ্বাসে লাফিয়ে ওঠেন কোচ আর্তেতা এবং উল্লাসে ফেটে পড়ে এমিরেটসের দর্শকরা। ডাউম্যানের ঐতিহাসিক গোলেই নিশ্চিত হয় আর্সেনালের গুরুত্বপূর্ণ জয়। আইএইচএস/