এখনো ঢাকা ছাড়ছেন অনেকে, মহাখালী টার্মিনালে ভিড়
2026-03-22 - 05:50
শনিবার দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। তবে এখনো থামেনি ঘরমুখো মানুষের যাত্রা। ঈদের পরদিনও মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে বেড়েছে যাত্রীর চাপ। নিজ গন্তব্যের বাসে ভ্রমণে কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটছেন তারা। আর টিকিট ছাড়া যেসব বাস যাত্রী পরিবহন করছে, সেগুলো টার্মিনাল ছাড়তে খুব বেশি সময় লাগছে না। ঘরমুখো যাত্রীরা বলছেন, সাধারণত ঈদের আগে যাত্রীর প্রচুর চাপ থাকে। ঠিকমতো বাসের টিকিট পাওয়া যায় না। অনেক সময় সড়কেও যানজট থাকে। তাই নির্বিঘ্নে যাতায়াতে ঈদের পর ভ্রমণ উত্তম সময়। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার ঈদের দিন ও আগের সময়ে মহাখালী টার্মিনালে যাত্রীচাপ খুব একটা বেশি ছিল না। স্বাভাবিক দিনের মতোই যাত্রীরা টিকিট কেটে ঈদ করতে গ্রামে গেছেন। তবে এখনো সেভাবে গ্রামে যাওয়া মানুষদের ঢাকায় ফিরতে দেখা যায়নি। সোমবার (২৩ মার্চ) থেকে ঢাকামুখী যাত্রীচাপ বাড়বে বলে জানান তারা। তারা জানান, আজ সকাল থেকেই মহাখালী বাস টার্মিনালে যাত্রী চাপ রয়েছে। ময়মনসিংহ ও উত্তরাঞ্চলের যাত্রীর সংখ্যাই বেশি। সড়কের কোথাও যানজট নেই। যাত্রীরা নির্বিঘ্নে নিজ গন্তব্যে যাতায়াত করতে পারছেন। ঈদ উপলক্ষে ১৭ মার্চ থেকে টানা সাতদিনের লম্বা ছুটি পেয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। একইভাবে ওই সময় থেকে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও ছুটি হয়েছে। আর লম্বা ছুটি হওয়ায় এবার ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তির হয়েছে বলে জানিয়েছেন যাত্রী ও পরিবহন মালিকেরা। রাজধানীর মহাখালী আন্তজেলা বাস টার্মিনাল থেকে মূলত ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী, রংপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নওগাঁ, নাটোর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, জয়পুরহাট, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় প্রায় দুই হাজার বাস যাত্রী পরিবহন করে। রোববার সকাল ১০টায় সরেজমিনে দেখা যায়, বাস টার্মিনালে যাত্রীর প্রচুর চাপ। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে যাত্রীরা টার্মিনালে আসছেন। নিজ নিজ গন্তব্যের কাউন্টারে বা বাসের সামনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটছেন। নির্দিষ্ট সময় পরপর বাসগুলো গন্তব্য ছেড়ে যাচ্ছে। আর যেসব বাসের টিকিট কাউন্টার নেই, সেগুলোতে যাত্রীদের জন্য চালক-সহকারীরা হাঁকডাক করছেন। তবে কোনো পরিবহনকে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিতে দেখা যায়নি। এর মধ্যে মহাখালী-ময়মনসিংহ রুটে চলাচলকারী ইউনাইটেড পরিবহন, মহাখালী-নেত্রকোনা রফরফ, মহাখালী-শেরপুর সোনার বাংলা, মহাখলী-কিশোরগঞ্জ অনন্যা পরিবহন, মহাখালী-ব্রাহ্মণবাড়িয়া লাবিবা ক্লাসিক, মহাখালী-টাঙ্গাইল বিনিময় পরিবহন, মহাখালী-সিরাজগঞ্জে এসআই এন্টারপ্রাইজ, মহাখালী-বগুড়া একতা পরিবহন, মহাখালী-সিলেট এনা পরিবহন, মহাখালী-টাঙ্গাইল নিরালা পরিবহনের কাউন্টারের সামনে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে। মহাখালী থেকে সবচেয়ে বেশি যাত্রী পরিবহন করে ইউনাইটেড পরিবহন। এ পরিবহনের কাউন্টারের সামনে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা টানানো রয়েছে। এ তালিকায় লেখা ‘ঢাকা-ময়মনসিংহ এসি ভাড়া ৪৫০ টাকা; ঢাকা-ময়মনসিংহ ননএসি ৩১০ টাকা’। যাত্রীদের এই ভাড়ায় টিকিট কাটতে দেখা গেছে। রামপুরা থেকে মহাখালী টার্মিনালে এসেছেন মুদি দোকানি জুলফিকার আলী। তার গন্তব্য সিলেটে। টিকিট কেটেছেন এনা পরিবহনের। জুলফিকার আলী জানান, রামপুরায় তার একটি মুদি দোকান রয়েছে। ঈদের দিন পর্যন্ত দোকানে বেচাকেনা ভালো হয়েছে। এ কারণে তিনি ঈদের আগে গ্রামে যান না। এখন পরিবার নিয়ে গ্রামের রওনা দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ঈদের পরে যাওয়াই সবচেয়ে উত্তম। ঈদের আগে যেমন মানুষের মধ্যে দ্রুত বাড়ি যাওয়ার একটা প্রবণতা দেখা যায়, সেটি ঈদের পরে থাকে না। একটা সুন্দর পরিবেশে যাতায়াত করা যায়। মোহাম্মদপুর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে মহাখালী বাস টার্মিনালে এসেছেন জহিরুল ইসলাম। ৩১০ টাকা দিয়ে তিনি ময়মনসিংহগামী ইউনাইটেড পরিবহনের ননএসি বাসের টিকিট কেটেছেন। জহিরুল বলেন, তিনি মোহাম্মদপুরে একটি বাসায় সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করেন। ঈদের দিন বাড়ি মালিকের বাসায় অনেক মেহমান এসেছেন। এ কারণে তাকে আগে ছুটি দেয়নি। এখন তিনি সাতদিনের ছুটিতে গ্রামে যাচ্ছেন। ইউনাইটেড পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা সোহাগ আহমেদ বলেন, ভোর ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত তাদের ৩১টি বাস ময়মনসিংহ যাত্রী নিয়ে গেছে। সবকটি বাসে যাত্রী পরিপূর্ণ ছিল। এখনো শতশত লোক টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। এক এক করে তাদের প্রত্যেককে টিকিট দেওয়া হচ্ছে। টার্মিনালে পর্যাপ্ত বাস রয়েছে। ঈদযাত্রায় যাত্রীদের তেমন কোনো ব্যাঘাত ঘটছে না। এমএমএ/ইএ