TheBangladeshTime

এক মণ পেঁয়াজের দামে মিলছে এককেজি গরুর মাংস

2026-03-19 - 14:10

ফরিদপুরে পেঁয়াজের দাম নিম্নমুখী। এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে মিলছে এককেজি গরুর মাংস। তবে একই পরিমাণ পেঁয়াজ বিক্রির টাকায় মিলছে না এককেজি ইলিশ মাছ। পেঁয়াজের দাম নিম্নমুখী হওয়ায় চাষিদের মাঝে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জেলার বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফরিদপুরের সালথা উপজেলা ‌‘পেঁয়াজের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত। সালথা সদর বাজার, ঠেনঠেনিয়া, বালিয়া, মাঝারদিয়া, নকুলহাটি, ফুলবাড়িয়া, সোনাপুরসহ বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা যায়, চলতি সপ্তাহে এক মণ (৪২ কেজি) ভালো মানের পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ৭০০ থেকে ১১০০ টাকা পর্যন্ত দামে (১৭-২৭ টাকা কেজি) বিক্রি হচ্ছে। অথচ বাজারগুলোতে ছোট্ট সাইজের ইলিশ (২-৩ টায় কেজি) ৮০০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সেক্ষেত্রে একজন কৃষক এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে এককেজি ইলিশ কিনতে পারছেন না। আবার এককেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি পেঁয়াজ মৌসুমে উপজেলার আটটি ইউনিয়নে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১১ হাজার ২৫০ হেক্টর। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে ১১ হাজার ৫০০ হেক্টর। মুড়িকাটা ২০০ ও পেঁয়াজের বীজ ৫০ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে। সবমিলিয়ে চলতি মৌসুমে উপজেলায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় হালি পেঁয়াজ উত্তোলন শুরু হয়েছে। অনেকেই আবার অগ্রিম পেঁয়াজ উত্তোলন করছেন। আরও পড়ুন: ঈদের বাজারে চাপ, গরুর মাংসের দাম বেড়ে ৮৫০ টাকা বোয়ালমারীর বাসিন্দা পেঁয়াজ চাষি রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাজারে বিভিন্ন সাইজের এককেজি ইলিশের দাম ৮০০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫০০ টাকা। গতকাল সহস্রাইল বাজারে এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে এককেজি ইলিশ কিনতে গিয়ে দেখি টাকায় হয় না। এককেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা পর্যন্ত। তাই এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে ইলিশ না কিনে এককেজি গরুর মাংস কিনেছি।’ উপজেলার পেঁয়াজ চাষিরা জানান, চলতি মৌসুমে গতবছরের তুলনায় বেশি পরিমাণে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। ডিলাররা সিন্ডিকেট করে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। এতে বেশি দামে সার কিনতে হয়েছে। তাছাড়া বীজ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এসব কারণে মণপ্রতি কৃষকের খরচ হয়েছে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। মৌসুমের শুরুতে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করে পেঁয়াজের দাম ২৫০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা রাখার দাবি জানান তারা। হতাশা প্রকাশ করে পেঁয়াজ চাষি আকরাম মোল্লা বলেন, মৌসুমের মাঝামাঝি থেকে শেষ সময়ে পেঁয়াজ চলে যায় মজুতদারের হাতে। তখন দাম বাড়লে কৃষকের কোনো উপকার হয় না। পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগারের অভাবে পেঁয়াজ মজুত করা যায় না। বীজের অতিরিক্ত দামের কারণেও অনেকেই চারা উৎপাদন করতে পারেন না। সেক্ষেত্রে উচ্চ মূল্যে তাদের হালি পেঁয়াজ কিনে রোপণ করতে হয়। পরিবহনের কারণে অনেক সময় হালি পেঁয়াজ নষ্ট হয়, উৎপাদনেও এর প্রভাব পড়ে। ফড়িয়া ও ব্যাপারীরাও পেঁয়াজ চাষিদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন। এমন চলতে থাকলে পেঁয়াজ চাষে কৃষকরা মুখ ফিরিয়ে নেবেন। সালথা বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী এরশাদ মোল্যা। তিনি বলেন, ঈদ সামনে রেখে বাজারে পেঁয়াজের আমদানি প্রচুর। এজন্য আড়ত থেকে বাজার সব জায়গায় দাম কম। তাছাড়া অপরিপক্ক, কাটা ও ফাটা পেঁয়াজের বাজারে দাম কম থাকে। ঈদ সামনে রেখে ঢাকার অনেক আড়ত বন্ধ আছে। এজন্য পেঁঁয়াজের দামের ওপর প্রভাব পড়েছে। কিছুদিন পর হয়তো দাম বাড়বে। জানতে চাইলে সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুদর্শন সিকদার বলেন, চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ চাষ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। পেঁয়াজের দাম নিয়ে চাষিদের মাঝে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে। আশা করছি কৃষক পেঁয়াজের সঠিক দাম পাবে। একই সঙ্গে প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি পেঁয়াজ সংরক্ষণাগারের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেকে জানানো হবে বলে তিনি জানান। এসআর/এএসএম

Share this post: