TheBangladeshTime

হঠাৎ বৃষ্টিতে বিপাকে কৃষক, তলিয়ে গেছে ১১০ হেক্টর জমির ফসল

2026-03-13 - 10:14

ফাল্গুনের শেষে হঠাৎ নামা বৃষ্টিতে জয়পুরহাটে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালের ভারি বর্ষণে জেলার প্রায় ১১০ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে মাঠের শেষ পর্যায়ে থাকা আলু, সরিষা, গম, স্ট্রবেরি ও বিভিন্ন শাকসবজি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাজারে আলুর কাঙ্ক্ষিত দাম না থাকায় আগে থেকেই হতাশ কৃষকদের জন্য এই অকাল বৃষ্টি যেন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। জেলায় ৩২ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই বৃষ্টিতে প্রায় ১১০ হেক্টর ফসলি জমিতে পানি জমেছে। এসব ফসলের মধ্যে আলু, সরিষা, স্ট্রবেরি ও শাকসবজি রয়েছে। সরেজমিনে জেলার কালাই উপজেলার আঁওড়া, হাতিয়র, তালোড়াবাইগুনি, কালিমহুর, ঝামুটপুর, বানিহারাসহ বিভিন্ন ফসলের মাঠে গিয়ে কৃষকদের হাহাকার দেখা গেছে। কৃষকরা জানান, মাঠে এখন আলু ও সরিষা তোলার শেষ মুহূর্তের কাজ চলছিল। বেশির ভাগ আলুই বীজ হিসেবে বা ভালো দামের আশায় হিমাগারে রাখার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু পানি জমে যাওয়ায় এখন আলু তোলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় পানি নিষ্কাশনের পথ ভরাট হয়ে যাওয়ায় উজান থেকে পানি নেমে এসে ক্ষেত তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ফসল বাঁচাতে সকাল থেকেই মাঠে শ্যালোমেশিন বসিয়ে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করছেন। কালাই উপজেলার আঁওড়া গ্রামের বাসিন্দা মেজবাহুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, রাস্তার পাশে পানি পারাপারের সব পথ ভরাট হওয়ার কারণে আজ মাঠের ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। সব জায়গাতে একই অবস্থা। পানি কীভাবে পার হবে, এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। একই গ্রামের লাবু মিয়া বলেন, দুই বিঘা জমির আলু তুলে শুকানোর জন্য জমিতেই রেখেছিলাম। বৃহস্পতিবার বস্তা করে হিমাগারে পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু বৃষ্টির পানিতে সব ডুবে গেছে। এখন এসব আলুতে পচন ধরবে। হাতিয়র গ্রামের কৃষক মাসুদ রানা ও আরিফুল ইসলাম জানান, এনজিও থেকে কিস্তি তুলে তারা আলুর আবাদ করেছিলেন। বাজারে দাম কম থাকায় গত বছরের লোকসান পুষিয়ে নিতে আলু হিমাগারে রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু অকাল বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন কীভাবে কিস্তি পরিশোধ করবেন, সেই চিন্তায় তারা দিশেহারা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক একেএম সাদিকুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের দ্রুত জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পানি নেমে গেলে ফসলের তেমন ক্ষতি হবে না। মাহফুজ রহমান/কেএইচকে/এএসএম

Share this post: