ইরান যুদ্ধের প্রভাবে নতুন অর্থনৈতিক সংকটের মুখে শ্রীলঙ্কা
2026-03-27 - 13:51
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে নতুন করে অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কায় দিন পার করছে শ্রীলঙ্কা। জ্বালানি সংকট, মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। দেশটির মধ্যাঞ্চলের শহর ক্যান্ডিতে দেখা গেছে, জ্বালানি কিনতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে মানুষকে। সরকার এখন প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি বরাদ্দ দিচ্ছে—মোটরবাইকের জন্য ৮ লিটার, টুকটুকের জন্য ২০ লিটার, গাড়ির জন্য ২৫ লিটার। এই পরিস্থিতির মূল কারণ ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ করে দেয়, যার মাধ্যমে বিশ্ব জ্বালানির বড় অংশ পরিবহন হয়। শ্রীলঙ্কা তার প্রায় ৬০ শতাংশ জ্বালানি আমদানি করে এবং এক মাসের বেশি মজুত রাখার সক্ষমতা নেই। ফলে সরবরাহ কমে যাওয়ায় জ্বালানির দাম প্রায় ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে সার সংকট দেখা দেওয়ায় খাদ্যের দামও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যদ্রব্যের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলবে। বর্তমান পরিস্থিতি অনেকের কাছে ২০২২ সালের অর্থনৈতিক সংকটের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, যখন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ে রাজাপাকসের শাসনামলে দেশটি দেউলিয়ার পথে যায় এবং ব্যাপক জনবিক্ষোভের মুখে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। বর্তমানে প্রেসিডেন্ট অনুরা দিশানায়েকের সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে জ্বালানি ভর্তুকি দিচ্ছে, যদিও এতে প্রতি মাসে প্রায় ৬৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হচ্ছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সপ্তাহে একদিন (বুধবার) সরকারি অফিস ও স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু জ্বালানি নয়, খাদ্য নিরাপত্তাও বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে। সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত বলে জানালেও সাধারণ মানুষের উদ্বেগ এখনো কাটেনি। সূত্র: আল-জাজিরা এমএসএম