রাজনৈতিক মামলায় এখনও আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন ছাত্রদল নেতা
2026-03-25 - 06:20
রাজনৈতিক কারণে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে অস্ত্র, বিস্ফোরণ, ভাঙচুরসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা মামলাগুলোকে আদালত পাড়ায় রাজনৈতিক মামলা হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। আর এমনই বেশ কয়েকটি মামলায় আদালতের বারান্দায় ঘুরতে দেখা গেছে ছাত্রদলের এক কেন্দ্রীয় নেতাকে। সারা দেশে যখন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে, তখনও বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলের রাজনৈতিক মামলায় হাজিরা দিতে আদালতের বারান্দায় উপস্থিত হতে হয়েছে সাবেক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের অন্যতম সহ-সভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিতকে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ঈদের চতুর্থ দিনে তিনি ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে হাজিরা দিতে উপস্থিত হন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২০ অক্টোবর অস্ত্র মামলা, বিস্ফোরণ, ভাঙচুরসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা একাধিক মামলার প্রধান আসামি হিসেবে কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিতকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। এর আগে ১৭ অক্টোবর রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকা থেকে তৎকালীন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে তুলে নিয়ে দুই দিন গুম করে রাখে এবং বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ‘ক্রসফায়ার’ করার অপচেষ্টা চালানোর পর তৃতীয় দিন তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এসব মামলার প্রেক্ষিতে তিনি প্রায় ১১ মাস জেল খেটেছেন জিয়া উদ্দিন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেলেও মামলাগুলোর বিচারকার্য এখনও চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে তার সহযোদ্ধা জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুল আহমেদ রাহাত দাবি করেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত সক্রিয় থাকার কারণেই তাকে অস্ত্র মামলার মতো বড় বড় মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে।’ এ বিষয়ে কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী আমলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা আমার নামে দশটিরও অধিক মিথ্যা মামলা দেয়। আমি দীর্ঘদিন এসব মামলায় জেল খেটেছি। এখনও আমার চার থেকে পাঁচটি মামলার বিচারকার্য চলমান রয়েছে। ঈদে যেখানে সবার আনন্দ করার কথা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর কথা, সেখানে আজ আমি মামলায় হাজিরা দিতে এসেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সেই সংগ্রামের দিনগুলোর কথা এখনও মনে পড়ে। আমি চাই, বাংলাদেশের কোনো নাগরিক যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার না হন এবং মিথ্যা মামলায় কারাভোগ করতে না হয়।’ ঈদের আনন্দের সময়ে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ না পেয়ে তাকে আদালতের কার্যক্রমে অংশ নিতে হওয়ায় বিষয়টি সহকর্মী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এমডিএএ/এসএইচএস