প্রস্তুত গোর-এ-শহীদ ঈদগাহ ময়দান, ঈদের জামাত সকাল ৯টায়
2026-03-20 - 03:01
এশিয়ার বৃহত্তম ঈদগাহ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড় ময়দান ঈদুল ফিতরের জামাতের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এই ময়দানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঈদের নামাজ পড়তে আসেন লাখো মানুষ। এরই মধ্যে এটি দেশের সর্ববৃহৎ জামাতের সুনাম অর্জন করেছে। এবার দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টায়। সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে জেলা প্রশাসন ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ। তবে এবার ঈদের জামাতে কে ইমামতি করবেন তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রিয়াজ উদ্দিন। ২০১৫ সালে এই ঈদগাহ মিনারের কাজ শুরু হয়। তার আগে এই মাঠে ছোট পরিসরে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হত। ২০১৭ সালে এই ঈদগাহে মিনার তৈরির পর প্রথম বৃহত্তর পরিসরে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এরই মধ্যে দেশের তথা এশিয়ার বৃহত্তম ঈদগাহ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড় ময়দান। গোর-এ-শহীদ ঈদগাহ ময়দানের আয়তন ২২.৯৯ একর। ঈদগাহ ময়দানের পশ্চিমে লাল খয়েরি আর সাদা রঙের মিশ্রণে নির্মিত মিনারটির সৌন্দর্য সহজেই সবার নজর কাড়ে। জেলা প্রশাসন সূত্র বলছে, এবারও সর্বোচ্চসংখ্যক মুসল্লির নামাজ আদায়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদের দিন সকাল নয়টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। পূর্ব পশ্চিমে ১১০০ ফিট ও উত্তর-দক্ষিণের পশ্চিমাংশে ৯১৬ ফিট এবং পূর্ব দিকে উত্তর দক্ষিণে ১০৩০ ফিট এই ময়দানে এবার ১৯২টি কাতারের জন্য চুন দিয়ে দাগ টানা হয়েছে। একটি কাতারে ৫ থেকে ৬০০ মুসুল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। ময়দানটি যদি পুরোপুরি ভরে তাহলে লক্ষাধিক মুসুল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে মাঠ ঘুরে দেখা যায়, দেড় শতাধিক শ্রমিক মিনার ধোয়ামোছা ও মাঠ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন। মাঠের চারপাশে ১৭টি প্রবেশপথ, তিনটি ওয়াচ টাওয়ার ও গাড়ি পার্কিংয়ের কাজ চলছে। স্থানীয় লোকজন বলছেন, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকে ছোট পরিসরে এখানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ২০১৫ সালে সাবেক সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম মাঠে ঈদগাহ মিনার নির্মাণের পরিকল্পনা করেন। ঈদগাহ মিনারটি নির্মাণ করা হয়েছে মোগল স্থাপত্য রীতিতে। ৫২ গম্বুজবিশিষ্ট ঈদগাহ মিনারের দুই প্রান্তে দুটি মিনারের উচ্চতা ৬০ ফুট। মাঝের দুটির উচ্চতা ৫০ ফুট। টাইলস করা মেহেরাবের উচ্চতা ৪৭ ফুট। এতে খিলান আছে ৩২টি। প্রতিটি গম্বুজে আছে বৈদ্যুতিক বাতি। এবার গোর-এ শহীদ ময়দানে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করায় মানুষের মনে খোলা মাঠে নামাজ আদায় নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। এ নিয়ে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। পরে সেনাবাহিনী ক্যাম্প থাকলেও ময়দানের চারপাশ থেকে কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে নেয়। জেলা প্রশাসন জামাত আয়োজনের ব্যবস্থা করায় শেষ পর্যন্ত সেই সংশয় দূর হয়। মাঠ পরিদর্শন করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রিয়াজ উদ্দিন জানান, গোর-এ শহীদ ময়দান ঈদের নামাজের জন্য প্রস্তুত। এরই মধ্যে আমরা একাধিক মিটিং করেছি। আশা করছি সর্বোচ্চ উপস্থিতির মাধ্যমে এবার ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। দিনাজপুর পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা বলেন, এবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সাড়ে ৩০০ পুলিশ আনসার বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। মাঠের প্রস্তুতি চমৎকার রয়েছে। জেলা প্রশাসকসহ আমরা মাঠ পরিদর্শন করেছি। এমদাদুল হক মিলন/এফএ/এমএস