TheBangladeshTime

গভর্নরকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা শোকজ

2026-02-24 - 00:14

বাংলাদেশ ব্যাংক–এর বিভিন্ন নীতি ও সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে সংবাদ সম্মেলন করায় প্রতিষ্ঠানটির তিন কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের পরদিন আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে তারা গভর্নরকে ‘স্বৈরাচার’ বলে উল্লেখ করে দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণ, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদানসহ একাধিক ইস্যুতে প্রশ্ন তোলেন। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ১০ দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। শোকজপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন—নীল দলের সাধারণ সম্পাদক ও এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের পরিচালক নওশাদ মোস্তফা, বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক কর্মদিবস পর, হঠাৎ ডাকা সংবাদ সম্মেলনে তারা গভর্নরের কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর মধ্যে ছিল দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণ, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া। কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, তুলনামূলকভাবে কম দুর্বল এক্সিম ব্যাংক ও সোস্যাল ইসলামী ব্যাংককে পাঁচটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ–২০২৫ এর আওতায় ইতোমধ্যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে সরকারি মালিকানায় একটি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। এছাড়া তারা দাবি করেন, বিকাশকে দ্রুত ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সসহ মোট আটটি এজেন্ডা নিয়ে ওই দিন পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক ডাকা হয়েছিল। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্রের দপ্তর থেকেও জানানো হয়, শুধু বিকাশকে লাইসেন্স দেওয়ার জন্য সভা আহ্বান করা হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্টাফ রেগুলেশন অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা সংবাদ সম্মেলন বা প্রকাশ্য বক্তব্য দেওয়ার আগে গভর্নরের অনুমোদন নিতে বাধ্য। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা অভ্যন্তরীণ ফোরামে উত্থাপনের সুযোগ রয়েছে। এই বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগেই তিন কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সংবাদ সম্মেলনের দিন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর কয়েকটি গণমাধ্যমে বলেন, নির্বাচনের পর একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি ঘোলা করার চেষ্টা করছে। পরিচালনা পর্ষদের আলোচ্য বিষয় প্রকাশ্যে আনা শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ বলেন, ব্যাংক খাতে ‘খেয়ালি বক্তব্য’ পরিহার করে বস্তুনিষ্ঠ প্রক্রিয়ায় ব্যাংক রেজল্যুশন নিশ্চিত করতে হবে। মাসুম বিল্লাহ বলেন, তারা প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসন চান, কোনো ব্যক্তির নয়। তার ভাষায়, ‘স্বায়ত্তশাসন মানে এই নয় যে প্রতিষ্ঠানের প্রধান একনায়ক বা স্বৈরাচার হয়ে উঠবেন।’ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওই দিন তিনি আরও বলেন, আগে কথা না বললেও এখন নীরব থাকলে ভবিষ্যতে প্রশ্ন উঠতে পারে। নওশাদ মোস্তফা বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান না ঘটলে হয়তো আমরা এতটা খোলামেলা হতাম না। ইএআর/কেএইচকে

Share this post: