১২ শতাধিক শিক্ষানবিশের অধিকার নিয়ে হাইকোর্টে রুল
2026-03-13 - 06:54
২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১২ শতাধিক শিক্ষার্থীর রিভিউ ফলাফল বাতিল ঘোষণায় বার কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে, তাদের বিষয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে কেন পজেটিভ বিবেচনা করা হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলসহ সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এই সংক্রান্ত বিষয়ে দায়ের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এ রুল জারির আদেশ দেন। এর ফলে একটি পজেটিভ বার্তা আসতে পারে ১২ শতাধিক শিক্ষানবিশ আইনজীবীর পক্ষে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আদালতে এদিন রিটের পক্ষে শুনানি করেন সাবেক বিচারক ও সিনিয় আইনজীবী ফয়সল মাহমুদ ফয়েজী, সিনিয়র অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব, ব্যারিস্টার নাসির উদ্দীন অসীম, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার এম. আশরাফুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট গাজী মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্ট বারের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ব্যারিস্টার মো. মাহফুজুর রহমান মিলন ও অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব এহসান হাবিব। আদেশের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করে ব্যারিস্টার এম. আশরাফুল ইসলাম জানান, লিখিত ফলাফলে ৭, ৯১৭ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন। কিন্তু ফল প্রকাশের পর অনেক পরীক্ষার্থীই দাবি করেন যে, তারা পরীক্ষায় পাস করার মতো ভালো পরীক্ষা দিয়েছেন কিন্তু প্রকাশিত ফলাফলে তাদের রোল নম্বর আসেনি। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর বার কাউন্সিল একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে খাতা রিভিউয়ের আবেদন আহ্বান করে। নির্ধারিত বিধি ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন গ্রহণ ও পর্যালোচনা শেষে ওই বছরের ১৮ নভেম্বর বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ও এনরোলমেন্ট কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে রিভিউ ফলাফল প্রকাশ করে। এই রিভিউ ফলাফলে ১, ৯১৪ জন শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়। ফলে তারা পরবর্তী ধাপ ভাইভা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের একটি সুস্পষ্ট আইনসম্মত অধিকার পায়। কিন্তু শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের (এনরোলমেন্ট) সনদের জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে রিভিউ ফলাফল প্রকাশের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় অল্প কয়েকজনের আপত্তির মুখে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর আরেকটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পুরো রিভিউ ফলাফল বাতিল ঘোষণা করে বার কাউন্সিল। এর মাধ্যমে নতুন করে ১৫৫০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অথচ সেখানে ১২৯৪ জনের মতো শিক্ষানবিশ আইনজীবী আগে থেকেই ছিল তাদেরকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আশরাফুল ইসলাম বলেন, এরপর এ নিয়ে শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের কাছে স্মারকলিপি আবেদন ও মানববন্ধনসহ বিভিন্নভাবে দাবি-দাওয়া পেশ করে আসছিল। এরপরও কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় হাইকোর্টে ১২৯৪ জনের পক্ষে রিট আবেদন দায়ের করা হয়। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুল জারির আদেশ দেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২০ মার্চ দিন ঠিক করেছেন হাইকোর্ট। এফএইচ/এসএনআর