TheBangladeshTime

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি: সাদিক কায়েম

2026-01-28 - 11:01

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি এবং ‘না’ মানে গোলামি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গণভোটই সবচেয়ে কার্যকর ও গণতান্ত্রিক মাধ্যম। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী করার লক্ষ্যে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ একসঙ্গে কাজ করবে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় ডাকসু প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচিত পাঁচ ছাত্র সংসদের সম্মিলিতভাবে গণভোটে ‌‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ক্যাম্পেইন পরিচালনার কর্মসূচি ঘোষণা প্রসঙ্গে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে জনগণ যে ন্যায়ভিত্তিক, নিরাপদ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেছে, গণভোট সেই স্বপ্নকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বড় রাজনৈতিক দল ও তাদের নেতৃত্ব গণভোট নিয়ে প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করছে না। একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান ঘণ্টার পর ঘণ্টা বক্তৃতা দিলেও গণভোটের পক্ষে বা রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তনের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বার্তা জনগণ পাচ্ছে না। তিনি বলেন, আমরা চাই এমন বাংলাদেশ, যেখানে কেউ বারবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারবে না। বিচার বিভাগকে কুক্ষিগত করার সুযোগ পাবে না, ক্ষমতার একচ্ছত্র অধিকার দিয়ে ফ্যাসিবাদ কায়েমের পথ বন্ধ থাকবে। ডাকসু ভিপি আরও বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী করার লক্ষ্যে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ একত্রিত হয়ে ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সংসদ’ ব্যানারে দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এই উদ্যোগে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু), এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু)। আরও পড়ুন ভারত নির্বাচন বিশ্লেষণ করতে পারে, মতামত দেওয়ার অধিকার রাখে না বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেবে না যুক্তরাষ্ট্র: রাষ্ট্রদূত সাদিক কায়েম জানান, এসব গণজমায়েতে ছাত্র প্রতিনিধিদের পাশাপাশি জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত জুলাই যোদ্ধা, ধর্মীয় নেতা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, শিক্ষক, ডাক্তার, শ্রমিক ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রথম বিভাগীয় গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় সিলেটের বন্দর বাজার কোর্ট পয়েন্ট এলাকায়। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরেও একই ধরনের কর্মসূচি পালন হবে। এ সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, এক বুক ভরা আশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তারা (আন্দোলনকারীরা) চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলেন। তারা চেয়েছিলেন বাংলাদেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে যেভাবে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও স্বেচ্ছাচারী রাজনীতির চর্চা শুরু হয়েছিল, তার অবসান ঘটিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করতে। একজন নাগরিক হিসেবে দেশের সবক্ষেত্রে তার ন্যায্যতা নিশ্চিত হবে এবং দেশ বিদেশি আধিপত্যবাদী শক্তির করাল গ্রাস থেকে মুক্তি পাবে- এই প্রত্যাশাই তাদের প্রেরণা ছিল। তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা এসেছে, যেগুলো বিগত ফ্যাসিবাদী কাঠামোকে ভেঙে দেয় এবং ইনসাফ ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে নতুন রাষ্ট্র কাঠামো গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে আমরা দেখেছি, কিছু কিছু রাজনৈতিক দল এসব সংস্কার প্রস্তাবনায় ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে। এর ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মতানৈক্য দেখা গেছে। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী করার মাধ্যমে বিগত বা পুরোনো ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিলোপ সাধন করে পরবর্তীতে যেন কেউ আর ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারী আচরণ করতে না পারে বা সে রূপে গড়ে উঠতে না পারে- তার একটি সুষ্ঠু সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মহিউদ্দিন খান, চাকসুর জিএস সাইদ বিন হাবিব, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, রাকসু জিএস সালমান সাব্বির প্রমুখ। এফএআর/কেএসআর

Share this post: