TheBangladeshTime

ডাকসুর উদ্যোগে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মাণ হচ্ছে আধুনিক জিমনেসিয়াম

2026-03-06 - 15:44

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নারী শিক্ষার্থীদের ক্রীড়াচর্চা বাড়াতে আধুনিক জিমনেসিয়াম স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রের বিভিন্ন অবকাঠামো সংস্কার, খেলার মাঠ আধুনিকায়ন এবং নিরাপত্তা জোরদারসহ ক্রীড়া সুবিধা উন্নয়নের কাজও এগিয়ে চলছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) চলমান সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে ডাকসু নেতারা ঢাবির ক্রীড়াঙ্গনে চলমান কাজের অগ্রগতি, সময়সীমা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন ও ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, গত পাঁচ মাসে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে কাজ করেছি, অনেক উদ্যোগ সম্পন্ন হয়েছে, কিছু বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। আমরা কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাসী এবং আগামী দিনের জন্য আরও উন্নত ক্যাম্পাস রেখে যেতে চাই। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা জিমনেসিয়াম করতে প্রায় ৬০ লাখ টাকার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কেন্দ্রীয় মাঠ সংস্কারে প্রায় ২ কোটি টাকার বাজেট এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সহযোগীদের সমর্থনে কাজ দ্রুত শুরু হবে। মাঠকে আধুনিকায়ন, ইনডোর জিম উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সরঞ্জাম সংগ্রহ, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন বলেন, শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রে নারীদের জন্য একটি আধুনিক ও সুসজ্জিত জিমনেসিয়াম স্থাপনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীরা পৃথক ব্যবস্থাপনায় জিম ব্যবহার করতে পারবেন। জিমে এরই মধ্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এরপর প্রস্তুত থাকা জিম ইনস্ট্রুমেন্টগুলো স্থাপন করে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হবে। খেলার মাঠ উন্নয়ন কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে প্রাপ্ত ২ কোটি টাকার অর্থায়নে মাঠ সংস্কারের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। প্রাথমিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে। সংস্কারকাজের আওতায় মাঠের মান উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও খেলোয়াড়বান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করা হবে। খেলার মাঠের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আরমান হোসেন বলেন, মাঠের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পশ্চিম পাশের দেয়ালে তারকাঁটা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি আটটি সিসি ক্যামেরা স্থাপনের অনুমোদন পাওয়া গেছে, যা অচিরেই স্থাপন করা হবে। এসব উদ্যোগ মাঠ ও অবকাঠামো সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) স্মারক জমা দেওয়ার পর আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবার বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া সংস্থার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে। আগামী ৩ মাসের মধ্যে সব খেলা শুরু হবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক ক্রীড়া সংস্কৃতি আরও বিকশিত হবে। এফএআর/এমএমকে

Share this post: