ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ছে
2026-03-17 - 10:34
ঈদ সামনে রেখে ছুটির প্রথম দিনে রাজধানী ছেড়ে গ্রামের পথে মানুষের যাত্রা শুরু হয়েছে। এতে গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ধীরে ধীরে বাড়ছে যানবাহনের চাপ। তবে এখনো বড় ধরনের যানজট না হলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ধীরগতির সৃষ্টি হয়েছে। বিকেলের দিকে দ্বিতীয় ধাপে পোশাক কারখানাগুলো ছুটি হলে মহাসড়কে যাত্রীসংখ্যা আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেল পর্যন্ত মহাসড়কে যানজট নেই। এতে স্বস্তিতেই ঘরে ফিরছেন যাত্রীরা। ছুটির সুযোগে আগেভাগেই বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। সকাল থেকেই রাজধানী থেকে উত্তরবঙ্গ ও ময়মনসিংহমুখী যানবাহনের চাপ বাড়তে দেখা যায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে। বিশেষ করে রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর, টঙ্গী, ভোগড়া, চন্দনা চৌরাস্তা, চন্দ্রা ও মাওনা এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে যানবাহনের ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদকে কেন্দ্র করে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। মহাসড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস ও ট্রাকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কিছু স্থানে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। তবে পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে মহাসড়কে অতিরিক্ত পুলিশ কাজ করছে। কোথাও যানজট তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে গাজীপুর মহানগর পুলিশ ও জেলা পুলিশ বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে। মহাসড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় মহানগর পুলিশের প্রায় এক হাজার সদস্য এবং জেলা পুলিশের ৮৫৯ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া রয়েছে হাইওয়ে পুলিশ ও শিল্প পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবীরা। বিশেষ ব্যবস্থা হিসাবে যাত্রাপথে কোনো যানবাহন নষ্ট হলে যানজট নিরসনে দ্রুত অপসারণের জন্য ৯টি রেকার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া চান্দনা চৌরাস্তার উড়ালসড়ক চালু থাকায় এবার ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চাপ অনেক কম থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানজট নিয়ন্ত্রণে আট শতাধিক পুলিশ সদস্য ট্রাফিক ডিউটিতে থাকবেন। বিশেষ করে কালীগঞ্জের বিশ্বরোড এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হবে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেন, নাড়ির টানে ঘরে ফেরা মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে আমরা হাইওয়ে ও শিল্প পুলিশের সাথে সমন্বয় করে কাজ করছি। তিনি আরও বলেন, পোশাক শ্রমিকরা যেন ভোগান্তি ছাড়াই গ্রামের বাড়িতে যেতে পারেন ও মহাসড়কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি না হয়, সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই কারখানাগুলোকে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যত্রতত্র যাত্রী উঠানো ও অবৈধ পার্কিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, বিগত বছরের চেয়ে এবারের ঈদযাত্রা অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক হবে। মো. আমিনুল ইসলাম/এমএন/এএসএম