ফিফা বিশ্বকাপের বাকি ৬টি জায়গা, লড়াই ১২ দলের
2026-03-28 - 16:21
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল সামনে রেখে শেষ পর্যায়ের লড়াই এখন তুঙ্গে। বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি ৮০ দিনেরও কম সময়, অথচ এখনো নির্ধারিত হয়নি শেষ ৬টি দল। ইউরোপীয় প্লে-অফ থেকে চারটি এবং আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ থেকে দুটি দল নিশ্চিত করবে নিজেদের জায়গা। সব মিলিয়ে ১২টি দল এখনো লড়ছে এই মহাযজ্ঞে জায়গা করে নেওয়ার জন্য- যাদের মধ্যে আছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন থেকে শুরু করে নবাগত দলও। আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ: শেষ দুই টিকিটের লড়াই আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ পর্ব থেকে নির্ধারিত হবে দুটি দল, যারা সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা পাবে। ‘পাথ ১’-এ মুখোমুখি হবে আফ্রিকার কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও কনকাকাফ অঞ্চলের জ্যামাইকা। কঙ্গো ডিআর আফ্রিকা অঞ্চলের প্লে-অফে শক্তিশালী ক্যামেরুন ও নাইজেরিয়াকে হারিয়ে এখানে এসেছে এবং ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে ফেরার লক্ষ্য নিয়েছে। অন্যদিকে জ্যামাইকা কনকাকাফ অঞ্চলে সরাসরি কোয়ালিফাই করতে না পারলেও নিউ ক্যালেডোনিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে এসেছে এবং ১৯৯৮ সালের পর আবার বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখছে। এই ম্যাচের জয়ী দল জায়গা পাবে ‘গ্রুপ কে’-তে, যেখানে আগে থেকেই রয়েছে কলম্বিয়া, পর্তুগাল ও উজবেকিস্তান। ‘পাথ ২’-এ মুখোমুখি হবে ইরাক ও বলিভিয়া। ইরাক এশিয়ান বাছাইপর্বে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে এই পর্যায়ে এসেছে এবং ১৯৮৬ সালের পর দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপে খেলার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইয়ে সপ্তম হয়ে সুযোগ পাওয়া বলিভিয়া সুরিনামকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে এবং ১৯৯৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে ফেরার স্বপ্ন দেখছে। এই ম্যাচের জয়ী দল যাবে ‘গ্রুপ আই’-তে, যেখানে রয়েছে ফ্রান্স, নরওয়ে ও সেনেগাল। ইউরোপীয় প্লে-অফ: চার টিকিটে আট দলের লড়াই ইউরোপ অঞ্চল থেকে ইতোমধ্যে ১২টি দল সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে। বাকি চারটি টিকিট নির্ধারণ হবে প্লে-অফের মাধ্যমে, যেখানে এখনও আটটি দল চারটি পৃথক পথে ভাগ হয়ে লড়ছে। পাথ এ: ইতালি বনাম বসনিয়া এই পথের বিজয়ী যাবে ‘গ্রুপ বি’-তে, যেখানে রয়েছে কানাডা, কাতার ও সুইজারল্যান্ড। এখানে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি মুখোমুখি হবে বসনিয়া ও হার্জেগোবিনার। ইতালি গ্রুপ পর্বে নরওয়ের পেছনে ছয় পয়েন্টে পিছিয়ে দ্বিতীয় হয়ে প্লে-অফে এসেছে এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে। তারা টানা দুই বিশ্বকাপে খেলতে না পারার হতাশা কাটাতে মরিয়া। অন্যদিকে বসনিয়া ২০১৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে ফেরার লক্ষ্য নিয়ে লড়ছে এবং প্লে-অফের সেমিফাইনালে ওয়েলসকে হারিয়েছে। পাথ বি: সুইডেন বনাম পোল্যান্ড এই পাথের বিজয়ী খেলবে ‘গ্রুপ এফ’-এ, যেখানে রয়েছে জাপান, নেদারল্যান্ডস ও তিউনিসিয়া। সুইডেন, যারা ১৯৫৮ সালে রানার্সআপ এবং ১৯৯৪ সালে তৃতীয় হয়েছিল, ইউক্রেনকে হারিয়ে প্লে-অফের ফাইনালে উঠেছে এবং ১৩তম বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের লক্ষ্যে এগোচ্ছে। অন্যদিকে পোল্যান্ড আলবেনিয়াকে হারিয়ে উঠেছে প্লে-অফের ফাইনালে উঠেছে এবং এটি হতে পারে তাদের ১০ম বিশ্বকাপ ও টানা তৃতীয় অংশগ্রহণ। পাথ সি: তুরস্ক বনাম কসোভো এই পাথের বিজয়ী যাবে ‘গ্রুপ ডি’-তে, যেখানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, প্যারাগুয়ে ও যুক্তরাষ্ট্র। তুরস্ক ২০০২ সালে তৃতীয় হওয়ার পর আর বিশ্বকাপে খেলেনি, এবার রোমানিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে নতুন প্রজন্ম নিয়ে ফিরতে চায়। অন্যদিকে কসোভো স্লোভাকিয়াকে হারিয়ে প্লে-অফের ফাইনালে উঠে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ওঠার স্বপ্ন দেখছে। পাথ ডি: ডেনমার্ক বনাম চেকিয়া এই পাথের বিজয়ী যাবে ‘গ্রুপ এ’-তে, যেখানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ডেনমার্ক শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে হেরে সরাসরি সুযোগ হারালেও নর্থ মেসিডোনিয়াকে ৪-০ গোলে হারিয়ে প্লে-অফে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে এবং সপ্তম বিশ্বকাপের লক্ষ্যে রয়েছে। চেক প্রজাতন্ত্র, যারা ১৯৩৪ ও ১৯৬২ সালে রানার্সআপ হয়েছিল, রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডকে টাইব্রেকারে হারিয়ে প্লে-অফের ফাইনালে উঠেছে এবং ২০০৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে ফেরার স্বপ্ন দেখছে। শেষ লড়াই, শেষ সুযোগ সব মিলিয়ে ১২টি দল এখন দাঁড়িয়ে আছে স্বপ্ন আর বাস্তবতার সীমানায়। কেউ ফিরতে চায় পুরোনো গৌরব নিয়ে, কেউ প্রথমবারের মতো ইতিহাস গড়তে চায়। ৩১ মার্চ প্লে-অপের ছয়টি ফাইনাল ম্যাচই নির্ধারণ করবে কারা পূরণ করবে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ছয়টি স্থান। এরপরই সম্পূর্ণ হবে ৪৮ দলের এই মহারণের চূড়ান্ত তালিকা, যা হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। আইএইচএস/