বিয়েতে কত কেজি সোনার গহনা পরেছিলেন রাশমিকা?
2026-03-06 - 13:34
দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় তারকা জুটি বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা। তাদের বিয়েকে করেছেন একেবারেই আলাদা ও অনন্য। শুধু বন্ধনের আনন্দ নয়, বরং তাদের বিয়েতে ব্যবহার করা সোনার গয়নার সংগ্রহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এই জুটি বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে এটি ছিল কেবল আরেকটি তারকাখচিত বিয়ে নয়। বরং প্রাচীন ঐতিহ্যের ছোঁয়া এবং তাদের আন্তরিক আনন্দে ভরা এক বিশেষ আয়োজন। ‘বিরোশ’-বিজয় ও রাশমিকার নাম মিলিয়ে তৈরি-এই উদযাপনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল দক্ষিণ ভারতীয় মন্দির শিল্পের আদলে তৈরি সম্পূর্ণ কাস্টমাইজড সোনার গয়না। ধারণা থেকে নকশা এবং একাধিক ট্রায়াল মিলিয়ে পুরো সংগ্রহটি তৈরি করতে লেগেছে প্রায় ১০ মাস। গয়নার বিশেষত্ব শুধু জাঁকজমক বা আকারে নয়। বর্তমান সময়ে যেখানে কনের সাজে হীরা এবং আন্তর্জাতিক ধাঁচের ডিজাইন বেশি দেখা যায়, সেখানে বিজয়-রাশমিকা বেছে নিয়েছেন শিকড়ের কাছাকাছি ঐতিহ্যবাহী ছোঁয়া। রাশমিকাকে কল্পনা করা হয়েছিল এক ‘জীবন্ত দেবী’ হিসেবে, আর বিজয়কে ‘সার্বভৌম রাজা’ রূপে। রাশমিকাকে সাজানো হয়েছিল ১১টি প্রধান সোনার অলংকার দিয়ে, যা দক্ষিণ ভারতীয় মন্দির ঐতিহ্যের অনুপ্রেরণায় তৈরি। গলার অলংকার ছিল পুরো সাজের কেন্দ্র। কলারবোনের কাছে বসানো ছিল লক্ষ্মী মূর্তির নকশা করা চোকার। স্তরে স্তরে ছিল কাসু মালা, যেখানে ক্ষুদ্র লক্ষ্মী মুদ্রার নকশা খোদাই করা হয়েছিল সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে। রাশমিকা মান্দানা বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের মন্দির স্টাইলের হারাম গলায় সাজানো হয়েছিল। সবশেষে একটি লম্বা মন্দির-চেইন শাড়ির আঁচলজুড়ে নেমে আসার ফলে পুরো অবয়বকে আরও দীর্ঘ ও ভারসাম্যপূর্ণ করা হয়েছে। প্রতিটি অংশে ছিল গভীর নাক্ষি খোদাই এবং রাভা গ্রানুলেশন, যা সোনার গয়নায় কোমলতা ও গভীরতা যোগ করেছে। ফিনিশ ছিল অ্যান্টিক ম্যাট, উজ্জ্বল পালিশ নয়। ফলে গয়নাগুলো নতুনের চেয়ে বরং বহু প্রজন্মের ঐতিহ্য বহন করা পুরনো অলংকারের অনুভূতি দেয়। মুখের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহার করা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী মাথাপট্টি ও চুলের বেণিতে চাম্পাসারালু হেয়ারলাইন চেইন। সঙ্গে ছিল সূক্ষ্ম সোনার নাকফুল, উপরের বাহুতে দেবী মোটিফের বাজুবন্ধ, চুলের বেণিতে জাডা বিল্লা এবং কোমরে কামারবন্দ-সব মিলিয়ে প্রতিটি গয়নাই আলাদা গুরুত্ব বহন করেছে। গয়নাগুলোর মূল্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে বাজার বিশ্লেষকের ধারণা অনুযায়ী, প্রায় তিন কেজি সোনা ব্যবহার করা হয়েছে। এর সম্ভাব্য মোট মূল্য ধরা হচ্ছে প্রায় সাত কোটি রুপি। নিখুঁত কারুকাজে তৈরি এই সময়হীন ‘বিরোশ’ গয়নাই আজ এক ধরনের শিল্পকর্ম হিসেবে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। আরও পড়ুন মোশাররফ-চঞ্চলসহ তারকাদের ফার্স্টলুকে রঙিন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ উল্টো কৃতজ্ঞতা জানালেন হানিফ সংকেত বিয়ের এই গয়না শুধু সাজ নয়, বরং একটি গল্প বলার মাধ্যম হিসেবে উপস্থিত হয়েছে। নতুন যুগের তারকাদের মধ্যে এমন ঐতিহ্যবাহী ও নান্দনিক বিয়ের আয়োজন বিরল এবং সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়েছে। এমএমএফ