TheBangladeshTime

উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে সবচেয়ে কঠিন ম্যাচ হবে: কিরণ

2026-03-04 - 14:54

এএফসি নারী এশিয়ান কাপে চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশ প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ভালো খেলেছে। এই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দল এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের কাছে মাত্র ২-০ গোলে হারের ম্যাচে বাংলাদেশের মেয়েদের পারফরম্যান্সের প্রশংসা চলছে চারিদিকে। এমন একটি ম্যাচের পর কী ভাবছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নারী উইংয়ের চেয়ারপার্সন মাহফুজা আক্তার কিরণ? ২০০৮ সাল থেকে তার নেতৃত্বেই পরিচালিত হয়ে আসছে নারী ফুটবল। বুধবার বাফুফে ভবনে বসে তিনি বিশ্লেষণ করছিলেন বাংলাদেশ-চীনের ম্যাচটি। মেয়েদের এই পারফরম্যান্স একদিনে হয়নি উল্লেখ করে কিরণ বলেছেন, ‘এই মেয়েরা একটা লম্বা সময় ধরে ট্রেনিংয়ে আছে। অনূর্ধ্ব-১২ থেকে ওদের আমরা পরিচর্যা করে আসছি, যাতে করে ৯০ মিনিট একই ছন্দে খেলতে পারে। চীনের বিপক্ষে ম্যাচের আগে মেয়েদের সাথে আমি কথা বলেছি। আমি মেয়েদের বলেছিলাম-তোমরা জানো কাদের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছো। ওরা ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন এবং র্যাংকিংয়ে আমাদের চেয়ে অনেক ওপরে। তবে তোমরা ওসব মাথায় রাখবে না। নিজেদের শক্তিশালীই মনে করবে। তোমরা মাঠে সেরা খেলাটা খেলবে। খেলায় হার-জিত থাকবে। সেটা কোনো বিষয় না। তোমাদের মনে রাখতে হবে এশিয়ার টপ টুর্নামেন্ট খেলছো। তোমাদের খেলা দেখে কেউ যাতে মনে না করে এরকম দল এই মানের টুর্নামেন্টে আসা উচিত না। তোমরা যদি ভালো খেলে হারো, তাতে সবাই খুশিই হবে। তাই তোমরা খেলবে নিজেদের সেরাটা।’ বাংলাদেশের মেয়েদের অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার সবুটুক দিয়ে নিজেদের সেরাটা খেলছেন বলে কিরণ খুশি, ‘আমরা দেখলাম মাঠে মেয়েরা সেরাটাই খেলেছে। বাংলাদেশের এই মেয়েরা দুইবারের সাফ চ্যাম্পিয়ন এবং যোগ্যতা অর্জন করে এশিয়া কাপে গিয়েছে। মাঠে সেটা প্রমাণ করেছে। আমাদের দল ভালো খেলেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।’ বাস্তবতার দিকটাও তুলে ধরেছেন কিরণ। তিনি বলেছেন, ‘আমি ম্যাচ নিয়ে একটা বিশ্লেষণ করতে চাই। সেটা অনেকের সাথে মিলতে নাও পারে। সেটা হচ্ছে নয়বারের চ্যাম্পিয়ন যে টিম, আমার মনে হয় গতকালের ম্যাচে সেই মানের টিমটা ছিল না। বেশিরভাগ খেলোয়াড়ের বয়স বেশি। কিছুটা অফফর্মেও ছিল চীনের খেলোয়াড়রা। এ বিষয়টাও বিবেচনায় রাখতে হবে। আমার মনে হয়, বাংলাদেশের সবচেয়ে কঠিন ম্যাচ হবে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে।’ কিরণ মনে করেন, ‘চীনের খারাপ পারফরম্যান্সের কথা বলে আমাদের দলকে খাটো করার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশের মেয়েরা নিঃসন্দেহে চমৎকার ফুটবল খেলেছে। আমি শুধু বাস্তবতার কথা বললাম। কারণ, আমি আগের এশিয়ান কাপের ফাইনালে চীনের খেলা দেখেছি। এবারও দেখলাম। খেলোয়াড়রা অনেক অফফর্মে।’ অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে স্বল্প প্রস্তুতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন কোচ পিটার বাটলার। বাংলাদেশ যদি পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে যেতে পারতেন তাহলে চীনের বিপক্ষে আরো ভালো রেজাল্ট সম্ভব হতো কিনা জানতে চাইলে কিরণ বলেন, ‘প্রস্তুতি আরো ভালো হলে ওদের আত্মবিশ্বাস আরো বাড়তো। তাহলে চীনকে হারাতে পারতো কি পারতো না, সে বিষয়ে আমি যাবো না। বেশি প্রস্তুতি নিতে পারলে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পেতো।’ চীনের বিপক্ষে ম্যাচে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক রূপনা চাকমাকে রেখে মিলিকে খেলানো ছিল বাটলারের বড় চমক। যার অর্থ দল গঠনে কোচের স্বাধীনতা আপনারা পুরোটাই দিয়েছেন, তাই না? জবাবে কিরণ বলেছেন, ‘শুধু পিটার বাটলার নন, আগে যারা প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন সবাই দল নির্বাচনে স্বাধীনতা ভোগ করেছেন। আমি ২০০৮ সাল থেকে নারী ফুটবলের সাথে আছি। কখনোই কোচের ওপর খবরদারি করা হয় না।’ ঋতুপর্ণার দর্শণীয় শটটি নিয়ে কিরণ বলেছেন, ‘আমার অফিসে কয়েকজনকে নিয়ে খেলা দেখছিলাম। ঋতু যখন শট নিয়েছিল আমি দাঁড়িয়ে গিয়েছিলাম গোল বলে। আসলে চীনের গোলরক্ষক ছিলেন অনেক লম্বা। তাই বলটি পাঞ্চ করে দলকে বিপদমুক্ত করতে পেরেছেন। ওই গোলটি হলে ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে যেতে পারতো।’ এরপর মেয়েদের নিয়ে পরিকল্পনা কী? কিরণ বললেন,‌ ‘আমাদের প্রথম অর্জন হলো এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করে খেলছি। এখানে জিতুক, হারুক তাতে কিছু যায় আসে না। আমরা এই লেভেলে খেলছি, সেটাই বড় কথা। আমি চাইবো মেয়েদের ফিরে আসার পর অনুশীলনের ধারাবাহিকতা রাখতে। আমরা যদি পরের এশিয়ান কাপে খেলতে চাই এবং সেখানে ভালো কিছু করতে চাই তাহলে সেই লেভেলে ওদের জন্য প্রস্তুতির ব্যবস্থা করতে হবে।’ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ভালো রেজাল্ট করতে পারলে বাংলাদেশের সামনে খুলে যেতে পারে অলিম্পিক বাছাইয়ের দুয়ার। বিশ্বকাপের একটা হিসেব তো আছেই। তবে মাহফুজা আক্তার কিরণ মনে করেন, ‘উজবেকিস্তানকে হালকা করে দেখার কিছু নেই। ওরা আমাদের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। ওই ম্যাচের আগে আমাদের কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হবে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে। আমি অবশ্যই চাইবো শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ভালো একটা রেজাল্ট করুক। দেখা যাক কী হয়।’ আরআই/এমএমআর

Share this post: