TheBangladeshTime

মহানবীর (সা.) অনাড়ম্বর জীবন

2026-03-25 - 11:21

আবু কাতাদা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের মেয়ে জয়নব ও আবুল আস ইবনে রবীআর কন্যা উমামাহকে কোলে নিয়ে নামাজ পড়তেন। যখন তিনি সেজদা করতেন তখন তাকে নামিয়ে রাখতেন, আর যখন দাঁড়াতেন তখন তাকে তুলে নিতেন। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)। সুনানে আবু দাউদের বর্ণনায় আরও বিস্তারিত এসেছে, আবু কাতাদা (রা.) বলেন, একদিন আমরা জোহর বা আসরের নামাজ আদায়ের জন্য রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অপেক্ষায় ছিলাম। বেলাল (রা.) তাকে নামাজের জন্য ডাকলে তিনি উমামাহ বিনতে আবুল আসকে কাঁধে নিয়েই ইমামতির জন্য তার জায়গায় দাঁড়ালেন এবং আমরা তার পেছনে দাঁড়ালাম। উমামাকে কাঁধে নিয়েই তিনি নামাজ শুরু করলেন, আমরাও তার সঙ্গে নামাজ শুরু করলাম। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রুকু করার সময় তাকে নিচে নামিয়ে রুকু ও সিজদা করতেন। সিজদা থেকে ওঠার সময় তাকে পুনরায় কাঁধে উঠিয়ে নিতেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি রাকাতেই এ রকম করেন এবং এভাবেই তিনি নামাজ শেষ করেন। (সুনানে আবু দাউদ) এই ঘটনা থেকে যে শিক্ষাগুলো আমরা পাই: ১. নবীজির (সা.) অনাড়ম্বর জীবন এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নবী ও আরবের বাদশাহ হয়েও অত্যন্ত অনাড়ম্বর ও সরল জীবন যাপন করতেন। তিনি সাহাবিদের নিয়ে নামাজ আদায়ের জন্য ঘর থেকে বের হতেন আর তার কাঁধে থাকতো তার শিশুবয়সী নাতনি। অর্থাৎ তিনি কোনো রকম কৃত্রিম গাম্ভীর্য নিয়ে থাকতেন না। মর্যাদার অহমিকায় নিজের পরিবার ও সঙ্গীদের দূরে সরিয়ে রাখতেন না। তার অনাড়ম্বর জীবন যাপনের কারণে তার মর্যাদা একটুও কমে যায়নি। ২. শিশুদের প্রতি নবীজির (সা.) ভালোবাসা নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উমামাকে কাঁধে নিয়ে নামাজের জন্য বের হয়েছিলেন। ঘরেও সম্ভবত তিনি তার সঙ্গে খুনসুটি ও খেলাধুলায় মগ্ন ছিলেন। তিনি বের হওয়ার সময় শিশুটি তাকে ছাড়তে চায়নি। তিনি তাকে না কাঁদিয়ে তাকে কাঁধে নিয়েই নামাজের জন্য বের হয়েছিলেন। নামাজের সময়ও তিনি তাকে কাঁধে রেখেছেন এবং রুকু-সিজদার জন্য নামিয়ে রাখলেও আবার তাকে তুলে নিয়েছেন নামাজের মধ্যেই। অর্থাৎ নবীজি (সা.) শিশুদের প্রতি অত্যন্ত কোমল ও দয়ার্দ্র ছিলেন। শত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি পরিবারের শিশুদের সময় দিতেন, তাদের আদর-যত্ন করতেন। ৩. নিজের মেয়েদের প্রতি নবীজির (সা.) ভালোবাসা নাতনির প্রতি নবীজির (সা.) স্নেহ তার মা অর্থাৎ নবীজির (সা.) মেয়ে জয়নবের (রা.) প্রতি নবীজির (সা.) স্নেহ ও ভালোবাসা প্রকাশ করে। নবীজি (সা.) নিজেদের মেয়েদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ছিলেন, তাদের তিনি ভালোবাসতেন ও ‍গুরুত্ব দিতেন। ফলে তাদের সন্তানদেরও তিনি স্নেহ করতেন। ৪. কন্যাসন্তানের গুরুত্ব ও মর্যাদা জাহেলি যুগে আরবরা পুত্রসন্তানদের গুরুত্ব দিত, কন্যাসন্তানদের তুচ্ছজ্ঞান করত। কন্যাসন্তানের আদর-যত্নেও অবহেলা করতো। নবীজি (সা.) নিজের নাতনিকে কাঁধে চড়িয়ে সাহাবিদের নিয়ে নামাজ আদায় করার মাধ্যমে তাদের শিখিয়েছেন কন্যাসন্তানকে পুত্রসন্তানের মতই স্নেহ ও সমাদর করতে হয়। যেন কন্যাসন্তানের প্রতি অবহেলার জাহেলি মানসিকতা তাদের অন্তরে থেকে থাকলে তা নির্মূল হয়ে যায়। ওএফএফ

Share this post: