TheBangladeshTime

দুর্নীতির চেয়েও হয়রানি অনেক সময় বেশি ক্ষতিকর: হোসেন জিল্লুর রহমান

2026-03-09 - 11:53

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের অর্থনীতি, নীতি-নির্ধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিয়ে একটি বিস্তৃত জাতীয় আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, ‘শুধু সরকার নয়—প্রাইভেট সেক্টর, ব্যবসায়ী সমাজ ও সিভিল সোসাইটিকেও এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।’ সোমবার (৯ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর গুলশানের কার্যালয়ে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) আয়োজিত ‘নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ সবসময়ই মাল্টি-ড্রাইভার সোসাইটি। দেশের পরিবর্তন কখনোই এককভাবে সরকারের মাধ্যমে হয়নি। প্রাইভেট সেক্টর, উদ্ভাবন, ব্যক্তি উদ্যোগ—সব মিলিয়েই এই পরিবর্তন এসেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের আবারও ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের মানসিকতায় ফিরে যাওয়া যাবে না। শর্ট টার্মিজম নীতিনির্ধারণের বড় সমস্যা।’ প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা নিয়ে ‘ফরেনসিক অডিট’ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানকে বোঝার জন্য শুধু দুর্নীতির দিকে তাকালে হবে না। ইনস্টিটিউশনকে তিনটি লেন্স দিয়ে দেখতে হবে—করাপশন, ক্যাপাসিটি ও হয়রানি। ড. হোসেন জিল্লুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, ‘দুর্নীতির চেয়েও হয়রানি অনেক সময় বেশি ক্ষতিকর। একজন ব্যবসায়ীর যদি নিয়ম অনুযায়ী একদিনে অনুমতি পাওয়ার কথা থাকলেও এক মাস ঘুরতে থাকেন, তার প্রভাব অনেক বড়। এটা পুরো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ধীর করে দেয়।’ অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থায় গতি বা ‘স্পিড’ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের গতি বৃদ্ধি করা। দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রচলিত একটি বক্তব্যের সমালোচনাও করেন তিনি। ‘আমরা প্রায়ই বলি—বাংলাদেশ এগুচ্ছে। কিন্তু এই এগুচ্ছি শব্দটা এখন আমার কাছে অত্যন্ত ঘৃণামূলক। প্রশ্ন হলো—এটা কি যথেষ্ট?’ বলেন হোসেন জিল্লুর রহমান। ইএইচটি/এমএমএআর

Share this post: