ফোনে আসা ভুয়া-স্ক্যাম লিঙ্ক শনাক্ত করবে চ্যাটজিপিটি
2026-03-15 - 06:54
ডিজিটাল যুগে প্রতারণার কৌশল দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। অচেনা লিঙ্ক, লোভনীয় অফারের মেসেজ কিংবা সন্দেহজনক ই-মেইলের মাধ্যমে অনেকেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে অনলাইন নিরাপত্তা বাড়াতে নতুন এক উদ্যোগ এসেছে। এখন থেকে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করবে ম্যালওয়ারবাইটসের নিরাপত্তা প্রযুক্তি। ফলে ব্যবহারকারীরা খুব সহজেই সন্দেহজনক মেসেজ, লিঙ্ক বা যোগাযোগের সত্যতা যাচাই করতে পারবেন। এই সুবিধাটি মূলত একটি স্মার্ট ‘স্ক্যাম ডিটেক্টর’ হিসেবে কাজ করে। আগে কোনো সন্দেহজনক মেসেজ বা লিঙ্ক যাচাই করতে আলাদা নিরাপত্তা অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে হতো। কিন্তু এখন একই কাজ করা যাবে সরাসরি চ্যাটজিপিটির ভেতরেই। অর্থাৎ ব্যবহারকারী যদি কোনো মেসেজ বা লিঙ্ক নিয়ে সন্দেহ করেন, সেটি চ্যাটে পেস্ট করলেই সিস্টেমটি বিশ্লেষণ করে জানিয়ে দেবে সেটি নিরাপদ নাকি প্রতারণার ফাঁদ। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একাধিক ধরনের তথ্য যাচাই করা সম্ভব। যেমন হোয়াটসঅ্যাপ বা ইনবক্সে আসা অস্বাভাবিক বা প্রলোভনমূলক বার্তা পরীক্ষা করা যাবে। পাশাপাশি ই-মেইল বা এসএমএসে পাওয়া অচেনা ওয়েব লিঙ্কের নিরাপত্তাও যাচাই করা যাবে। অপরিচিত ফোন নম্বর থেকে আসা কল বা মেসেজ সন্দেহজনক কি না, সেটিও যাচাই করার সুযোগ থাকবে। এমনকি ফিশিং ই-মেইল শনাক্ত করার ক্ষেত্রেও এই টুল ব্যবহার করা যাবে। আরও পড়ুন এআইকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা বিপজ্জনক চ্যাটজিপিটিকে যেসব প্রশ্ন ভুলেও করবেন না ব্যবহারকারীরা চাইলে খুব সহজেই এই সুবিধাটি চালু করতে পারবেন। এজন্য প্রথমে নিজের চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্টে লগইন করতে হবে। এরপর সেটিংস অপশনে গিয়ে অ্যাপস বিভাগে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে ম্যালওয়ারবাইটস খুঁজে বের করে ‘কানেক্ট’ অপশনে ক্লিক করলেই সেটআপ সম্পন্ন হবে। একবার সংযোগ হয়ে গেলে চ্যাট উইন্ডোতেই সন্দেহজনক লিঙ্ক, মেসেজ বা নম্বর কপি করে পরীক্ষা করা যাবে। ব্যবহার পদ্ধতিও বেশ সহজ। ধরুন আপনার ফোনে কোনো অচেনা নম্বর থেকে লোভনীয় অফারের মেসেজ এসেছে বা একটি সন্দেহজনক লিঙ্ক পাঠানো হয়েছে। তখন সেটি কপি করে চ্যাটজিপিটিতে পেস্ট করে জানতে চাইতে পারেন এটি কোনো প্রতারণামূলক কনটেন্ট কি না। সিস্টেমটি তখন ম্যালওয়ারবাইটসের বিশাল নিরাপত্তা ডাটাবেস ব্যবহার করে বিশ্লেষণ করবে এবং দ্রুত জানিয়ে দেবে সেটি নিরাপদ নাকি ঝুঁকিপূর্ণ। পাশাপাশি কেন সেটি ক্ষতিকর হতে পারে, তার ব্যাখ্যাও দেবে। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রতারকরা অনেক সময় খুব নিখুঁতভাবে ফিশিং বা স্ক্যাম মেসেজ তৈরি করছে, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা করে চেনা কঠিন। এমন পরিস্থিতিতে ম্যালওয়ারবাইটসের দীর্ঘদিনের সাইবার নিরাপত্তা অভিজ্ঞতা এবং চ্যাটজিপিটির বিশ্লেষণ ক্ষমতা একসঙ্গে কাজ করে প্রতারণা শনাক্ত করতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সবচেয়ে সুবিধার বিষয় হলো, এই সুবিধাটি সাধারণ ব্যবহারকারী এবং পেইড সাবস্ক্রাইবার উভয়ের জন্যই ব্যবহারযোগ্য। তবে প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, সচেতনতার বিকল্প নেই। তাই অচেনা লিঙ্কে ক্লিক করার আগে বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার আগে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়ার পাশাপাশি ব্যবহারকারীর নিজের সচেতনতাই অনলাইন প্রতারণা থেকে নিরাপদ থাকার সবচেয়ে বড় উপায়। সূত্র: দ্য ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেস কেএসকে