TheBangladeshTime

আমদানি না হলে ২১ দিনে শেষ হবে অকটেন, ৩৩ দিনে পেট্রোল

2026-03-25 - 11:21

হালকা যানবাহনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত পেট্রোল ও অকটেনের বড় অংশ পাওয়া যায় দেশি উৎস থেকে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) দাবি, পেট্রোল শতভাগ দেশি উৎস থেকে পাওয়া যায়। তবে তথ্য বলছে, আমদানি করা পরিশোধিত অকটেনের একটি অংশও পেট্রোল তৈরিতে ব্যবহার করে ইস্টার্ন রিফাইনারি। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি আমদানিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিপিসিকে। দেশীয় উৎসগুলোতে উৎপাদন স্বাভাবিক থাকলেও আর আমদানি না করা গেলে অকটেন চলবে ২১ দিন। ৩৩ দিনে পেট্রোলের মজুত শূন্য হয়ে যাবে। বিষয়টি জানতে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দিনভর বিপিসিতে অবস্থান করেও কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিপিসির একটি সূত্র বলছে, চলতি মাসে অকটেন আমদানির কোনো শিডিউল নেই। এপ্রিলের ৫ থেকে ৭ তারিখের মধ্যে ২৫ হাজার টনের একটি পার্সেলের শিডিউল রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিপিসির দুই কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিপিসি পেট্রোল আমদানি করে না। দেশি উৎস থেকে পাওয়া পেট্রোল দিয়ে চাহিদা মেটানো হয়। দেশে কমবেশি চার লাখ টন অকটেন এবং সাড়ে চার লাখ টনের কিছু বেশি পেট্রোলের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু ইস্টার্ন রিফাইনারিতে কোনো অকটেন উৎপাদন হয় না। দেশি ফ্রাকশনেশন প্ল্যান্টগুলো থেকে পাওয়া অকটেনেও দেশের চাহিদা মেটে না। ফলে নিয়মিত অকটেন আমদানি করতে হয়।’ বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ মার্চ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের ইস্টার্ন রিফাইনারি ও তিন বিতরণ কোম্পানির ডিপোগুলোতে অকটেনের মজুত ছিল ২৪ হাজার ৯৯৬ টন। নিয়ম অনুযায়ী ডেড স্টক (অব্যবহারযোগ্য মজুত ১০ শতাংশ) ২৫শ টন বাদে সবরাহযোগ্য্য মজুত ছিল ২২ হাজার ৪৯৬ টন। আগে পেট্রোলের রন মান ৮০ ছিল। এখন বিএসটিআই পেট্রোলের রন নির্ধারণ করেছে ৮৯। ইআরএলের প্ল্যান্টটি প্রায় ৬০ বছরের পুরোনো। এখানে পেট্রোল উৎপাদিত হলেও বিএসটিআই মানের করতে পরিশোধিত অকটেনের সঙ্গে ব্লেন্ডিং করতে হয়।-ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শরীফ হাসনাত বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি মার্চ মাসের ১-২৩ তারিখ পর্যন্ত অকটেন বিক্রি হয়েছে ২৮ হাজার ৯৩৯ টন। তাতে চলতি মাসে দিনে গড়ে (প্রথম ২৩ দিনের) অকটেন বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ২৫৮ মেট্রিক টন। ২৪ মার্চ বিপিসিতে অকটেনের কমবেশি মজুত রয়েছে ১২ হাজার ৫শ টন। তা থেকে ডেডস্টক ১০ শতাংশ হিসেবে ১২শ ৫০ টন বাদ দিলে সরবরাহযোগ্য মজুত রয়েছে ১১ হাজার ২৫০ টন। চলতি মাসের গড় ব্যবহার অনুযায়ী বর্তমান মজুতে চলবে ৯ দিনেরও কম সময়। আরও পড়ুন হরমুজ সংকটে তেলের উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে কুয়েত তেল সংকটে থমকে ওয়াটার ট্যাক্সি, যাত্রীশূন্য টার্মিনাল এখন সেলফি স্পট তেলের অপেক্ষায় কাটছে সময়: কোথাও পাম্প বন্ধ, কোথাও লম্বা লাইন ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, দেশি উৎস হিসেবে সরকারি-বেসরকারি ফ্রাকশনেশন প্ল্যান্ট থেকে অকটেন পাওয়া যায় ২ লাখ ৬৩ হাজার ৯৫৯ টন। সে হিসেবে মাসে গড়ে পাওয়া যায় ২১ হাজার ৯৯৭ মেট্রিক টন। একইভাবে দৈনিক গড়ে পাওয়া গেছে ৭২৩ দশমিক ১৮ মেট্রিক টন। যদিও ওই অর্থবছরের তথ্য বলছে, মার্চ-এপ্রিল দুই মাসে মাত্র ৩৫ হাজার টন অকটেন পাওয়া গিয়েছিল। যদি দেশি উৎস থেকে গড়ে একই পরিমাণ অকটেন পাওয়া যায়, তবে দৈনিক গড় ব্যবহার হিসেবে প্রতিদিন ৫৩৪ দশমিক ৮২ টন মজুত কমবে। এতে আর নতুন করে আমদানি না হলে, দেশীয় উৎস থেকে নিয়মিত পাওয়া গেলেও ২১ দিনের মাথায় অকটেনের মজুত শূন্য হয়ে যাবে। একইভাবে গত ৯ মার্চ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের ইস্টার্ন রিফাইনারি ও তিন বিতরণ কোম্পানির ডিপোগুলোতে পেট্রোলের মজুত ছিল ২০ হাজার ৪৯ টন। নিয়ম অনুযায়ী ডেড স্টক (অব্যবহারযোগ্য মজুত ১০ শতাংশ) ২ হাজার ৫ টন বাদে সবরাহযোগ্য্য মজুত ছিল ১৮ হাজার ৪৪ টন। বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি মার্চ মাসের ১-২৩ তারিখ পর্যন্ত পেট্রোল বিক্রি হয়েছে ৩০ হাজার ৪৪ টন। তাতে চলতি মাসে দিনে গড়ে (প্রথম ২৩ দিনের) পেট্রোল বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৩০৬ মেট্রিক টন। ২৪ মার্চ বিপিসিতে পেট্রোলের কমবেশি মজুত রয়েছে ১৬ হাজার টন। তা থেকে ডেডস্টক ১০ শতাংশ হিসেবে ১৬শ টন বাদ দিলে সরবরাহযোগ্য মজুত রয়েছে ১৪ হাজার ৪শ টন। চলতি মাসের গড় ব্যবহার অনুযায়ী বর্তমান মজুতে চলবে ১১ দিনের মতো। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, দেশি উৎস হিসেবে ইস্টার্ন রিফাইনারিসহ সরকারি-বেসরকারি ফ্রাকশনেশন প্ল্যান্ট থেকে পেট্রোল পাওয়া গেছে ৩ লাখ ১৩ হাজার ৮১৫ টন। সে হিসেবে মাসে গড়ে পাওয়া গেছে ২৬ হাজার ১৫১ মেট্রিক টন। একইভাবে দৈনিক গড়ে পাওয়া গেছে ৮৫৯ দশমিক ৭৭ মেট্রিক টন। যদিও ওই অর্থবছরের তথ্য বলছে, মার্চ-এপ্রিল দুই মাসে মাত্র ৩৪ হাজার ৪শ টন পেট্রোল পাওয়া গিয়েছিল। যদি দেশি উৎস থেকে গড়ে একই পরিমাণ পেট্রোল পাওয়া যায়, তাতে বর্তমান দৈনিক গড় ব্যবহার হিসেবে প্রতিদিন ৪৪৬ দশমিক ২৩ টন মজুত কমবে। এতে দেশি উৎস থেকে নিয়মিত পাওয়া গেলেও ৩৩ দিনের মাথায় মজুত শূন্য হয়ে যাবে পেট্রোলের। বিপিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে দেশে বিপিসির অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার টন জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক ব্যবহার হয়েছে পরিবহন খাতে। পরিবহনে জ্বালানিতে মোট বিক্রিত জ্বালানির ৬৩ দশমিক ৪১ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে। পাশাপাশি কৃষিতে ১৫ দশমিক ৪১ শতাংশ, শিল্পে ৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ, বিদ্যুতের ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ, গৃহস্থালিতে শূন্য দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে অন্য খাতে। ব্যবহৃত জ্বালানি পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়েছে ডিজেল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিজেল ব্যবহার হয়েছে ৬২ দশমিক ৬৯ শতাংশ, ফার্নেস অয়েল ১৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ, পেট্রোল ৬ দশমিক ৩২ শতাংশ, অকটেন ৫ দশমিক ৯০ শতাংশ, কেরোসিন ১ শতাংশ, জেট ফুয়েল ৮ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং অন্য খাতে ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ পেট্রোলিয়াম পণ্য। দেশের মোট ২৭টি ডিপোর মাধ্যমে এসব জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়। বিপিসির তথ্য বলছে, তিন বিপণন কোম্পানি ও ইস্টার্ন রিফাইনারি মিলে বিপিসিতে পেট্রোল মজুত সক্ষমতা রয়েছে ৩৭ হাজার ১৩ মেট্রিক টন। এর মধ্যে চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে পেট্রোল বিক্রি হয় ৩৩ হাজার ৯৩৮ টন, ফেব্রুয়ারি মাসে বিক্রি হয়েছে ৩৬ হাজার ৫৯ টন। একইভাবে বিগত ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে পেট্রোল বিক্রি হয়েছিল ৩৪ হাজার ৯১৭ মেট্রিক টন এবং ফেব্রুয়ারিতে বিক্রি হয়েছিল ৪১ হাজার ১৯৯ মেট্রিক টন। দেশে অকটেনের স্টোরেজ ক্যাপাসিটি রয়েছে ৫২ হাজার ৩৬১ মেট্রিক টন। এর মধ্যে চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে অকটেন বিক্রি হয়েছে ৩২ হাজার ৮৩৫ টন, ফেব্রুয়ারি মাসে বিক্রি হয়েছে ৩৭ হাজার ৩৩৪ টন। একইভাবে বিগত ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে অকটেন বিক্রি হয়েছিল ৩০ হাজার ৬৮১ মেট্রিক টন এবং ফেব্রুয়ারিতে বিক্রি হয়েছিল ৩৬ হাজার ৫১১ মেট্রিক টন। বিপিসির তথ্য বলছে, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে পেট্রোল বিক্রি হয়েছিল ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৮৪৬ টন। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৬৪৭ টন, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৫৫৬ টন এবং ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে বিক্রি হয় ৪ লাখ ৩০ হাজার ৯৫২ টন। সবশেষ ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে পেট্রোল বিক্রি হয় ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪৭৫ টন। এতে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে দৈনিক গড়ে বিক্রি ও ব্যবহার হয় ১ হাজার ২৬৭ মেট্রিক টন (৩৬৫ দিনের হিসাবে)। একইভাবে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে অকটেন বিক্রি হয়েছিল ৩ লাখ ৩ হাজার ৯১৭ টন। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৫০২ টন, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫৫৭ টন এবং ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে বিক্রি হয় ৩ লাখ ৮৭ হাজার ২৫৬ টন। সবশেষ ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে অকটেন বিক্রি হয় ৪ লাখ ১৫ হাজার ৬৫৩ টন। এতে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে দৈনিক গড়ে বিক্রি ও ব্যবহার হয় ১ হাজার ১৩৮ দশমিক ৭৮ মেট্রিক টন (৩৬৫ দিনের হিসাবে)। বিপিসির তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে পেট্রোল আমদানি না হলেও অকটেন আমদানি হয় নিয়মিত। আমদানিতে অকটেনকে মোগাস (মোটর গ্যাসোলিন) হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে অকটেন আমদানি হয় ২ লাখ ৮৮ হাজার ২৮০ টন, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৫১৫ টন, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৮৬৬ টন এবং ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে আমদানি হয় ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৪৭ টন। সবশেষ ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে অকটেন আমদানি হয় ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩ মেট্রিক টন। অকটেন ও পেট্রোল একই জাতীয় জ্বালানি। দুটোই মোগাস (মোটর গ্যাসোলিন) হিসেবে পরিচিত। রন (রিচার্স অকটেন নাম্বার) মানের ভিত্তিতে পেট্রোল ও অকটেন নির্ধারিত হয়। ইস্টার্ন রিফাইনারিতে উৎপাদিত পেট্রোলকে বিএসটিআই মানের করার জন্য নিজেদের উৎপাদিত পেট্রোলের সঙ্গে আমদানি করা পরিশোধিত অকটেন ব্লেন্ডিং করা হয়। ইস্টার্ন রিফাইনারির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বিপিসির আমদানি করা ১ লাখ ১৬ হাজার ৯৯১ টন পরিশোধিত অকটেন পায় ইআরএল। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে পায় ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২৪ টন অকটেন। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে সরকারি-বেসরকারি ফ্রাকশনেশন প্ল্যান্টগুলো থেকে কী পরিমাণ পেট্রোল অকটেন পাওয়া গেছে, সে তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে বিপিসি ও ইআরএলের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ওই অর্থবছরে ইআরএলে পেট্রোল উৎপাদিত হয় ৪৩ হাজার ৩৭৫ টন। অকটেন আমদানি হয় ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৪৭ টন। সরকারি-বেসরকারি ফ্রাকশনেশন প্ল্যান্ট থেকে পেট্রোল পাওয়া যায় ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৪০ টন এবং অকটেন পাওয়া যায় ২ লাখ ৬৩ হাজার ৯৫৯ টন। এতে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে মোট অকটেন ও পেট্রোল পাওয়া যায়, ৮ লাখ ৩৭ হাজার ৪২১ মেট্রিক টন। বিপিসির তিন বিতরণ কোম্পানির মাধ্যমে একই অর্থবছরে অকটেন ও পেট্রোল বিক্রি করেছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ২০৮ মেট্রিক টন। এর মধ্যে অকটেন ৩ লাখ ৮৭ হাজার ২৫৬ টন এবং পেট্রোল ৪ লাখ ৩০ হাজার ৯৫২ টন। ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শরীফ হাসনাত জাগো নিউজকে বলেন, ‘আগে পেট্রোলের রন মান ৮০ ছিল। এখন বিএসটিআই পেট্রোলের রন নির্ধারণ করেছে ৮৯। ইআরএলের প্ল্যান্টটি প্রায় ৬০ বছরের পুরোনো। এখানে পেট্রোল উৎপাদিত হলেও বিএসটিআই মানের করতে পরিশোধিত অকটেনের সঙ্গে ব্লেন্ডিং করতে হয়।’ এমডিআইএইচ/এএসএ

Share this post: