বঙ্গবন্ধুর আমলের সেই সিনেমা হল চালু হচ্ছে, চলবে শাকিব খানের ‘প্রিন্স
2026-03-03 - 05:43
বগুড়ার প্রখ্যাত মধুবন সিনেপ্লেক্স দীর্ঘ পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর আবারও রুপালি জগতের আলোয় ফিরছে। আসন্ন ঈদুল ফিতরে শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিন্স’ চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রেক্ষাগৃহটি দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে সেই ১৯৭৪ সালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট এ এম ইউনুসের উদ্যোগে মধুবন সিনেপ্লেক্সটি যাত্রা শুরু করে। সেখানে প্রথম প্রদর্শিত হয়েছিল ‘ডাকু মনসুর’ চলচ্চিত্র। দিনে দিনে এটি বগুড়াবাসীর বিনোদনের প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছিলো। বাংলা সিনেমার সোনালি দিন পেরিয়ে ব্যবসায়িক ও মানসঙ্কটে বন্ধ হয়ে গেলেও ২০১৭ সালে ঢাকা অ্যাটাক প্রদর্শনের পর বড় ধরনের সংস্কারের কাজ শুরু হয়। ২০২১ সালে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে এটি আধুনিক সিনেপ্লেক্সে রূপান্তরিত হয়। সংস্কারের পর ‘প্রিয়তমা’, ‘তুফান’, ‘বরবাদ’, ‘তাণ্ডব’ এবং বলিউড ছবি ‘জাওয়ান’ ছবিগুলোর প্রদর্শন হয়। ছবিগুলো খুব ভালো ব্যবসা করে। তবে এরপর থেকেই শুরু হয় ভালো সিনেমার অভাব, দর্শকের খরা। সেইসঙ্গে চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর দেশের বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতিও সিনেমার ব্যবসার জন্য খানিকটা প্রতিকূল হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এটি বন্ধ করা হয়। গত পাঁচ মাস ধরে এটি কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। নতুন খবর হলো, আবারও বগুড়াবাসী সিনেমার বিনোদন ফিরে পাচ্ছে। আসছে রোজা ঈদকে কেন্দ্র করে সিনেপ্লেক্সটি আবার চালু হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এতে শাকিব খান অভিনীত ঈদের সিনেমা ‘প্রিন্স’ চালানো হবে। সেভাবেই নেয়া হচ্ছে প্রস্তুতি, জানালেন মধুবন সিনেপ্লেক্সের স্বত্বাধিকারী আর এম ইউনুস রুবেল। তিনি জানান, ‘সরকারের সহযোগিতা ও বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানির সুযোগ থাকলে প্রতিষ্ঠানটি টিকে থাকবে। ব্যবসার মধ্যে রাজনৈতিক জটিলতা না মেশানোই উচিত। আশা করি সামনের দিনগুলোতে সুন্দর পরিবেশ বজায় থাকবে।’ জানা গেছে, প্রতিষ্ঠাতা এ এম ইউনুস বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় অতীতে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তবে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট মহলের সহযোগিতায় প্রেক্ষাগৃহটি আবারও চালু হচ্ছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ঐহিত্যবাহী সিনেমা হলটি সবার প্রিয় সিনেপ্লেক্স হয়ে টিকে থাকবে। সিনেপ্লেক্সটির পরিচালক এস এম ইউনুস রোহান বলেন, ‘কর্মীদের কর্মসংস্থান ও দর্শকদের চাহিদা মাথায় রেখেই নতুনভাবে পথচলা শুরু করা হচ্ছে। খুব ভালো লাগছে আবারও সিনেপ্লেক্সটি চালু করতে পেরে। এই হলটি বগুড়া তো বটেই, সারা দেশের সিনেমার ব্যবসার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’ এদিকে মধুবন সিনেপ্লেক্স পুনরায় খোলার ঘোষণা পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তায় থাকা কর্মীরা উচ্ছ্বসিত। ৫০ বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করা শাজাহান জানান, ঈদকে সামনে রেখে আবারও কাজ ফিরে পাওয়ার স্বপ্নে বুক বাঁধা শুরু করেছেন। এলআইএ