TheBangladeshTime

অনুষ্ঠান খরায় ভুগছে বরিশালের কনভেনশন সেন্টারগুলো

2026-03-22 - 04:10

বিভাগীয় শহর বরিশালে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ১৪টি কনভেনশন সেন্টার রয়েছে। পুরো রমজান মাসে কনভেনশন সেন্টারগুলোতে তেমন একটা অনুষ্ঠান ছিল না বললেই চলে। তবে ঈদ পরবর্তী কয়েকটি বিয়ের অনুষ্ঠান দিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখার আশায় আছেন কনভেনশন সেন্টারগুলোর মালিকরা। কনভেনশন সেন্টারের মালিকরা বলছেন, অনুষ্ঠান থাকুক বা না থাকুক কনভেনশন সেন্টার চালাতে সারা বছর ৮-১৫ জন স্টাফকে লাখ লাখ টাকা বেতন দিয়ে রাখতে হয়। বছর জুড়ে মেইনটেনেন্স খরচ বাবদ গুনতে হয় কয়েক লাখ টাকা। এর মধ্যে বিগত দুই বছরে দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে লোকসান আরও বেড়েছে। তবে শিগগিরই এটি কাটিয়ে উঠবেন বলে জানিয়েছেন কনভেনশন সেন্টারের ব্যবসায়ীরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত দুই বছর দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষ কোনো কনভেনশন সেন্টারে তেমন একটা বিয়ের আয়োজন কিংবা অনুষ্ঠান করেনি। যাও আয়োজন হয়েছে সেটা ঘরোয়া পরিবেশে নিজ নিজ এলাকায়। এতে বিশাল লোকসানের মুখে পড়েছেন এই ব্যবসায় জড়িতরা। নগরীর স্ব-রোড এলাকার পার্ট হাউজের পরিচালক আবু বকর সিদ্দিকী সুজিন জাগো নিউজকে বলেন, দেশের পরিস্থিতির কারণে এখন তেমন কোনো অনুষ্ঠানের বুকিং নেই। এক সময় অনুষ্ঠানের চাপে লোকজন ফিরিয়ে দিতে হয়েছে। অথচ এখন স্টাফদের বসিয়ে বেতন দিতে হচ্ছে। তবে ঈদের পর কয়েকটি প্রোগ্রাম রয়েছে, সেটাও প্রয়োজনের তুলনায় কম। তিনি আরও বলেন, একটি কনভেনশন সেন্টার চালাতে অনেক ধরনের খরচ আছে। যা টিকিয়ে রাখতে নিয়মিত অনুষ্ঠানের প্রয়োজন। এখন দেশের প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন হয়েছে। আশা করছি এরপর থেকে লোকজন সামাজিক অনুষ্ঠান করতে ক্লাবমুখী হবে। যদি অনুষ্ঠান না থাকে তাহলে লোকসান দিয়ে এ ব্যবসা টিকিয়ে রাখা যাবে না। নগরীর আমতলা মোড় এলাকার লায়লা কনভেনশন হলের ম্যানেজার রুহুল আমিন বলেন, রমজান মাসে তেমন কোনো অনুষ্ঠানের বুকিং ছিল না। ঈদের পর দুই তিন দিনের বুকিং রয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হবে বলে জানান তিনি। বরিশাল ক্লাব লিমিটেডের ম্যানেজার হাসান জাকারিয়া মান্না বলেন, বরিশাল ক্লাবের ‘অমৃত লাল দে’ মিলনায়তনে কম বেশি বুকিং থাকে, তবে ঈদের পর ২২ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত কয়েকটি বিয়ের বুকিং রয়েছে। এছাড়া বরিশাল ক্লাবে সারা বছরই বিভিন্ন অনুষ্ঠানের বুকিং থাকে। তবে বুকিং আগের তুলনায় কিছুটা কমলেও এই পরিস্থিতি শিগগিরই স্বাভাবিক হয়ে যাবে। নগরীর ইউরো কনভেনশনে হলের চেয়ারম্যান এসএম জাকির হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে পুরো ২ বছর লোকসান দিয়ে এ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হয়েছে। গত ২ বছরে তেমন কোনো অনুষ্ঠানের বুকিং ছিল না বললেই চলে। এ অবস্থায় লাখ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছি। তিনি বলেন, বরিশালের সব কনভেনশন সেন্টারের মালিকরা এই একই অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছে। তবে এখন দেশের পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। আশা করছি এখন থেকে নিয়মিত অনুষ্ঠানের বুকিং হবে। এফএ/জেআইএম

Share this post: