ইতিহাসের দুয়ারে ভারত, প্রতিশোধের মিশনে ইংল্যান্ড
2026-03-05 - 03:23
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আবারও মুখোমুখি ভারত ও ইংল্যান্ড। টানা তৃতীয় আসরে শেষ চারে এই দুই পরাশক্তির লড়াই- যা কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং দুই যুগের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণের মঞ্চও হতে পারে। ২০২২ ও ২০২৪ সালের সেমিফাইনালের স্মৃতি এখনো টাটকা; এবার মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে সেই ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লেখার অপেক্ষা। ভারত বর্তমান চ্যাম্পিয়ন এবং টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই অন্যতম ফেবারিট। ঘরের মাঠে খেলছে তারা, আর মাত্র দুই জয় দূরে থেকে ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে তৃতীয়বারের মতো টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে। তবে তাদের যাত্রাপথ একেবারেই মসৃণ ছিল না। সুপার এইটে আহমেদাবাদে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বড় হারের পর চাপে পড়ে যায় সূর্যকুমার যাদবের দল। কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে স্নায়ুচাপের ম্যাচ জিতে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে হয়েছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের অভিযান ছিল আরও টালমাটাল। গ্রুপপর্বে নেপাল ও ইতালির বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত চাপে পড়েছিল তারা। তবুও শেষ পর্যন্ত টানা পঞ্চমবারের মতো সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন জয়ের পর আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক বলেছেন, ‘চাপের ম্যাচ জিতে আসাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমরা কখনোই পুরোপুরি ম্যাচের বাইরে ছিলাম না।’ দুই দলেরই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে স্কোয়াডের গভীরতা। ভারতের হয়ে রিংকু সিংয়ের অনুপস্থিতিতে সুযোগ পেয়ে সাঞ্জু স্যামসন ইডেন গার্ডেন্সে ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন- যা তার এই বছরে আগের সাত ইনিংসের মোট রানের চেয়েও বেশি। ইংল্যান্ডে একইভাবে স্যাম কারান আবার হয়ে উঠেছেন ডেথ ওভারের ভরসা, আর উইল জ্যাকস একাধিক ম্যাচে ম্যাচসেরা হয়ে দলের ভরাডুবি ঠেকিয়েছেন। তবে উদ্বেগও কম নয়। ইংল্যান্ডের ওপেনিং জুটি জস বাটলার ও ফিল সল্ট এখনো প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। সাত ম্যাচে তাদের উদ্বোধনী জুটিতে এসেছে মাত্র ৮৪ রান। বাটলার নিজে টানা পাঁচ ইনিংসে একটি বাউন্ডারিও মারতে পারেননি- ২৭ বলে করেছেন মাত্র ১৫ রান। সেমিফাইনালের মতো বড় মঞ্চে তার ব্যাট জ্বলে উঠবে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন। ভারতের আক্রমণের কেন্দ্রে থাকবেন জাসপ্রিত বুমরাহ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঝের ওভারে তার দুই উইকেট ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ইংল্যান্ডের পেসার জফরা আর্চারও পাওয়ারপ্লেতে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ শুরু করেছেন, তবে ভারতের ব্যাটারদের বিপক্ষে তার কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা দেখার বিষয়। ওয়াংখেড়ের পিচে ভালো বাউন্স থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সাম্প্রতিক গরম আবহাওয়ার কারণে ঘাসের আচ্ছাদন টিকে আছে। দুই দলের ব্যাটিং শক্তি বিবেচনায় ২০০-র বেশি রান হতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ছোট বাউন্ডারি এবং দ্রুত আউটফিল্ড ম্যাচটিকে আরও হাই-স্কোরিং করে তুলতে পারে। পরিসংখ্যানে বিশ্বকাপে ভারত-ইংল্যান্ড পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে। ভারত এগিয়ে ৩-২ ব্যবধানে। তবে কোনো দলই এখনো টানা দুইবার জেতেনি। সামগ্রিক টি-টোয়েন্টি মুখোমুখিতে ভারত ১৭-১২ ব্যবধানে এগিয়ে, বিশেষ করে ঘরের মাঠে শেষ সাত ম্যাচের ছয়টিতেই জয় তাদের। দলীয় সম্ভাব্য একাদশে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই। ভারতের একাদশ প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। ইংল্যান্ডে রেহান আহমেদের জায়গায় জেমি ওভারটন ফিরতে পারেন, বাড়তি পেস শক্তি যোগ করতে। ২০২২ সালে অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ড ১০ উইকেটে জিতে ভারতকে বিদায় করেছিল। ২০২৪-এ গায়ানায় পাল্টা জবাব দেয় ভারত, বড় ব্যবধানে জয় পেয়ে। এবার মুম্বাইয়ে যে দল জিতবে, তারা কেবল ফাইনালেই উঠবে না- সম্ভবত এক নতুন যুগের সূচনাও করবে। আইএইচএস/