পুরান ঢাকার সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে: ইশরাক হোসেন
2026-03-04 - 15:24
পুরান ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ দুই প্রধান সড়ক ধোলাইখাল রোড ও সুভাষ বোস অ্যভিনিউয়ের উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি সড়ক ও ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে শিগগির কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। সড়ক দুটি তার নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-৬ আসনের সূত্রাপুর থানার মধ্যে পড়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) লক্ষ্মীবাজার সংলগ্ন ধোলাইখাল এলাকায় চলমান উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ ঘুরে দেখেন প্রতিমন্ত্রী। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ধোলাইখাল সড়কের বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে। কোথাও কোথাও ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত সড়ক স্থায়ী কাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে দখল করা হয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী এসব দখল অপসারণ করে সড়ক ও ফুটপাত সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ধোলাইখাল রোডের দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৮০ মিটার। সড়কের উভয় পাশে মোট প্রায় ১ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। একইভাবে সুভাষ বোস অ্যাভিনিউয়ের দৈর্ঘ্য ৫৮০ মিটার এবং এর দুই পাশে ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণাধীন রয়েছে। উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হলে জলাবদ্ধতা কমবে এবং পুরো এলাকার অবকাঠামোগত চিত্র বদলে যাবে। অবৈধ দখল উচ্ছেদে সমন্বিত পদক্ষেপের কথা জানিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ডিসি ট্রাফিক, সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ, সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেট ও সম্পত্তি বিভাগের সঙ্গে শিগগির বৈঠক করা হবে। পাশাপাশি ধোলাইখালের দুই পাশের মার্কেট মালিক ও ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গেও আলোচনা করা হবে। ধোলাইখাল ট্রাকস্ট্যান্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত সীমানার বাইরে রাতের বেলায় ট্রাক দাঁড় করিয়ে পুরো সড়ক দখল করা হয়। প্রথম ধাপে সেই অবস্থা নিয়ন্ত্রণে এনে সড়ক যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে যেখানে ১৫ থেকে ২০ সেকেন্ড বা সামান্য যানজটে পাঁচ মিনিট সময় লাগার কথা, সেখানে অনেক সময় এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত যানজটে আটকে থাকতে হয়। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুরান ঢাকায় স্থায়ী বাসস্ট্যান্ডের অভাবে সড়কের ওপর বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডাবল বা ট্রিপল লেনে বাস দাঁড় করিয়ে পুরো রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার প্রবণতা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা সম্ভব। তবে যাত্রীসেবা বিবেচনায় আপাতত এক লেনে বাস দাঁড়ানোর ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি জাতীয় নীতির আওতায় এনে সমাধান করতে হবে। এক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। রাজধানীর যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী নিজেও বিভিন্ন বৈঠকে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। গণপরিবহন ব্যবস্থা শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে স্থায়ী বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমডিএএ/বিএ