আপাতত বিরতি, নিখোঁজের তথ্য পেলে ফের উদ্ধার অভিযান চলবে
2026-03-26 - 07:30
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। জীবিত উদ্ধার হয়েছেন ৮ জন। উদ্ধার অভিযানে বিরতি দেওয়া হয়েছে। নিখোঁজের তথ্য পেলে ফের উদ্ধার অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে এসব তথ্য জানান ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. বেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, আপাতত বিরতি, কিছুক্ষণ পর আবার উদ্ধারকাজ শুরু হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে নিখোঁজের তথ্য কেন্দ্র চালু রয়েছে। কেউ যদি নিখোঁজ থাকে তাহলে তার আত্মীয়রা ইউএনও অফিস কিংবা ফায়ার সার্ভিসের কাছে তথ্য দিলে আমরা উদ্ধারের চেষ্টা করবো। এর আগে নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে মাইকিংয়ে বলেন, যদি কারও কোনো আত্মীয় নিখোঁজ থাকেন তাহলে আমাদের কাছে তথ্য দিন। ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড তাদের উদ্ধারে চেষ্টা চালাবে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিত উদ্ধার হয়েছেন ৮ জন। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, বুধবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রায় ৬০ ফুট গভীরে বাসটি ডুবে যায়। দীর্ঘ সময় অভিযান চালিয়ে রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে বাসটি উদ্ধার করা হয়। বাসটিতে আনুমানিক ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয়দের সহায়তায় ৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক দুই নারীকে মৃত ঘোষণা করেন। বাসের ভেতর থেকে ২২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ১১ জন নারী এবং ৫ জন শিশু (৪ জন ছেলে ও ১ জন মেয়ে) রয়েছে। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে। এর মধ্যে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার করেছে ২৩ জন, স্থানীয়দের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া ২ জনকে হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করা হয় এবং নৌবাহিনীর ডুবুরিরা উদ্ধার করেন ১ জন। উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট ও ১০ জন ডুবুরি অংশ নেন। এছাড়া সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরাও যৌথভাবে উদ্ধার কাজে অংশগ্রহণ করেন। টিটি/এমকেআর