কিডনির রোগীরা রোজার আগে ডাক্তারকে যে ৭ প্রশ্ন করবেন
2026-02-16 - 09:16
রমজান মাস সংযম ও আধ্যাত্মিক আত্মশুদ্ধির সময়। তবে এসময় রোজা রাখার ক্ষেত্রে কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রস্তুতি হওয়া উচিত সুপরিকল্পিত ও চিকিৎসক-নির্ভর। কারণ দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকা, ওষুধের সময়সূচি বদলানো এবং ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি - এসবই কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলতে পারে। তাই রোজা শুরুর আগে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে একটি আলোচনা জরুরি। জেনে নিন রোজার প্রস্তুতি হিসেবে ডাক্তারকে কোট ৭টি প্রশ্ন অবশ্যই করবেন - ১. আমার কিডনি রোগের পর্যায় অনুযায়ী রোজা রাখা কি নিরাপদ? ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (সিকেডি) পাঁচটি ধাপে বিভক্ত। প্রাথমিক পর্যায়ের রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল থাকলে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রোজা রাখা সম্ভব। তবে স্টেজ ৪-৫ এর ক্ষেত্রে বা ডায়ালাইসিসে থাকা রোগীর ঝুঁকি অনেক বেশি। ২. আমার কিডনি ফাংশন (ইজিএফআর, ক্রিয়েটিনিন) কতটা স্থিতিশীল? রোজার আগে সর্বশেষ রক্তপরীক্ষার রিপোর্ট পর্যালোচনা করা জরুরি। যদি ইজিএফআর কমে যায় বা ক্রিয়েটিনিন বেড়ে থাকে - তাহলে রোজা কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। তাই চিকিৎসকের কাছে জানতে চান - বর্তমান মান অনুযায়ী আপনার ঝুঁকির মাত্রা কতটা। ৩. ওষুধের সময় ও ডোজ কীভাবে সমন্বয় করব? অনেক কিডনি রোগীকে দিনে একাধিকবার ওষুধ নিতে হয়। রোজার সময় ওষুধ সেহরি ও ইফতারের মাঝে কীভাবে ভাগ করবেন, ডোজ পরিবর্তন লাগবে কি না - এসব স্পষ্টভাবে জেনে নিন। বিশেষ করে ডাইইউরেটিক (মূত্রবর্ধক), রক্তচাপের ওষুধ ও ইনসুলিনের ক্ষেত্রে সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে। ৪. কতটা পানি ও তরল পান করা দরকার? কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পানি যেমন ক্ষতিকর, তেমনি কম পানিও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই চিকিৎসকের কাছ থেকে তরলের নির্দিষ্ট সীমা জেনে নিন। ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ - যেমন মাথা ঘোরা, প্রস্রাব কমে যাওয়া, দুর্বলতা - দেখা দিলে কী করবেন তাও জেনে রাখা দরকার। ৫. আমার কি বিশেষ খাদ্যতালিকা অনুসরণ করতে হবে? পটাশিয়াম, ফসফরাস ও লবণ নিয়ন্ত্রণ কিডনি রোগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকের রোজার সময় একসঙ্গে বেশি খাওয়ার প্রবণতা থাকে, যা ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। তাই সেহরি ও ইফতারের জন্য চিকিৎসক বা ডায়েটিশিয়ানের কাছ থেকে নির্দিষ্ট খাদ্যপরিকল্পনা জেনে নিন। ৬. কোন লক্ষণ দেখলে রোজা ভাঙতে হবে? নিম্নলিখিত লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে রোজা ভাঙা ও চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে - >> তীব্র দুর্বলতা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া >> বুক ধড়ফড় বা অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন >> প্রস্রাবের পরিমাণ হঠাৎ কমে যাওয়া >> মারাত্মক মাথাব্যথা বা বিভ্রান্তি ৭. নিয়মিত ফলো-আপ কত ঘন ঘন দরকার? রোজা রাখার সিদ্ধান্ত নিলে মাঝামাঝি সময়ে পুনরায় রক্তপরীক্ষা বা চেকআপ প্রয়োজন হতে পারে। তাই ডাক্তারের সঙ্গে একটি মনিটরিং পরিকল্পনা আগে থেকেই নির্ধারণ করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। বিশেষ সতর্কতা >> ডায়ালাইসিস রোগীদের ক্ষেত্রে রোজা সাধারণত নিরুৎসাহিত করা হয়। >> কিডনি প্রতিস্থাপনের পর ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধের সময়সূচি পরিবর্তন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। >> উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস থাকলে ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়। সূত্র: ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব নেফ্রোলজি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, মায়ো ক্লিনিক এএমপি/এমএস