সেহরি খেতে গিয়ে ‘ছাত্রলীগ’ আখ্যা দিয়ে ঢাবি শিক্ষার্থীকে মারধর
2026-03-09 - 06:04
জুলাই আন্দোলনে হামলার অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর দাবি, সেহরি করতে গিয়ে তাকে ‘ছাত্রলীগ’ আখ্যা দিয়ে তুলে নিয়ে কয়েক দফা মারধর করা হয় এবং পরে গুরুতর আহত অবস্থায় শাহবাগ থানার সামনে রেখে আসা হয়। সোমবার (৯ মার্চ) ভোর ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযুক্তরা হলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হাসিব আল ইসলাম, সর্দার নাদিম মোহাম্মদ শুভ, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও আবরারসহ আরও কয়েকজন। ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল বলেন, তিনি সেহরি খেতে বুয়েটের কাজী নজরুল ইসলাম হলে গিয়েছিলেন। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরে এবং প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন মিলে তাকে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা মারধর করে। পাভেল অভিযোগ করেন, প্রথমে বুয়েট ক্যাম্পাসের ভেতরে তাকে মারধর করা হয়। পরে রিকশায় তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সামনে নেওয়া হয় এবং সেখানে আবারও মারধর করা হয়। এরপর ভিসি চত্বর ও রাজু ভাস্কর্যের সামনে নিয়ে গিয়ে তাকে মারধর করা হয় এবং কিছু সময় আটকে রাখা হয়। তিনি বলেন, পরে তাকে শাহবাগ থানার সামনে ফেলে রেখে যাওয়া হয় এবং সেখানেও মারধর করা হয়। এ সময় তার একটি মোবাইল ফোন, বাইকের চাবি ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মারধরের ফলে তার সারা শরীরে আঘাত লেগেছে এবং মুখ দিয়েও রক্ত বের হয়েছে। তিনি বলেন, তাকে বাইকের চাবি দিয়ে ঘুষি মারা হয়েছে, বেল্ট দিয়ে পেটানো হয়েছে এবং মাটিতে ফেলে লাথি মারা হয়েছে। রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে পাভেল জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন এবং নিয়মিত ক্লাস করা একজন শিক্ষার্থী। প্রয়োজনে তার বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বললে বিষয়টি জানা যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ বলেন, পাভেল জিয়া হলে থাকতেন এবং গত জুলাই আন্দোলনে হামলার ঘটনায় তিনি অভিযুক্ত ছিলেন। এ কারণে তাকে বিভাগ ও হল থেকে বয়কট করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি পাভেল ক্যাম্পাসে এসে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে ইফতার মাহফিল ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছিলেন এবং ছাত্রলীগের পোস্টারিংও করেছেন বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে। সাইফুল্লাহ আরও বলেন, তাকে আটক করার পর মোবাইল ফোন চেক করতে বলা হলে তিনি ফোন দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং প্রতিক্রিয়া দেখান। পরে শিক্ষার্থীরা তাকে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে সাইফুল্লাহ লেখেন, ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ধরেছি। শাহবাগ থানায় নিয়ে যাচ্ছি। লীগ প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা মোহাম্মদ সাকিব দাবি করেন, পাভেল আগে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং হল ও বিভাগ উভয় জায়গা থেকেই বয়কটেড। এ বিষয়ে জানতে শাহবাগ থানার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও যোগাযোগ করা যায়নি। এফএআর/এএমএ