ইরান যুদ্ধে কত খরচ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের?
2026-03-03 - 09:04
যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘এপিক ফিউরি’ শুরুর পর প্রশ্ন উঠেছে—ওয়াশিংটনের জন্য এই নতুন যুদ্ধ কতটা ব্যয়বহুল হতে পারে এবং তা কতদিন টেকসই? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, অভিযান চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ কী? গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প এক ভিডিও বার্তায় জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে ‘বড় ধরনের সামরিক অভিযান’-এ অংশ নিয়েছে। পেন্টাগন পরে এর নাম দেয় ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। এর লক্ষ্য ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, অভিযানের শুরু থেকে ইরানের ভেতরে ১ হাজার ২৫০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে এবং ১১টি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত দেশটির ১৩০টি স্থানে অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন। ইরান যুদ্ধে কোন অস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে? সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে স্থল, নৌ, আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা মিলিয়ে ২০টির বেশি অস্ত্রব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে— আকাশ শক্তি বি-১ ও বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান এফ-৩৫ ও এফ-২২ স্টিলথ যুদ্ধবিমান এফ-১৫, এফ-১৬, এফ/এ-১৮, এ-১০ যুদ্ধবিমান ইএ-১৮জি গ্রাউলার (ইলেকট্রনিক যুদ্ধ) এডব্লিউএসিএস নজরদারি বিমান ড্রোন ও দূরপাল্লার হামলা এমকিউ-৯ রিপার লুকাস একমুখী ড্রোন হিমার্স রকেট সিস্টেম টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর থাড কাউন্টার-ড্রোন সিস্টেম নৌ শক্তি রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ও ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বাধীন দুই ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পি-৮ পসেইডন নজরদারি বিমান ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কত খরচ হচ্ছে? চলমান সামরিক অভিযানের মোট ব্যয় নির্ধারণ করা কঠিন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়—ইরান যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কত খরচ হবে। স্টিমসন সেন্টারের জ্যেষ্ঠ ফেলো ক্রিস্টোফার প্রিবল বলেন, পেন্টাগন এখনো আনুষ্ঠানিক ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করেনি। ফলে বিশ্লেষকদের অনুমানের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। তার কথায়, পৃথক অস্ত্রব্যবস্থা, নৌ-অভিযান এবং সামরিক অপারেশনের সম্ভাব্য ব্যয় নিয়ে ধারণা করা গেলেও সামগ্রিক চিত্র নির্ধারণ জটিল। প্রথম ২৪ ঘণ্টার ব্যয় তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ শুরুর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৭৭৯ মিলিয়ন (৭৭ কোটি ৯০ লাখ) ডলার ব্যয় করে থাকতে পারে। এর আগে হামলার প্রস্তুতিমূলক ধাপে—বিমান পুনর্বিন্যাস, এক ডজনের বেশি নৌযান মোতায়েন এবং আঞ্চলিক সামরিক সম্পদ সক্রিয় করতে—অতিরিক্ত ৬৩০ মিলিয়ন (৬৩ কোটি) ডলার ব্যয় হয়েছে বলে অনুমান করা হয়েছে। নৌবহরের দৈনিক ব্যয় সেন্টার ফর নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির হিসাবে, একটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পরিচালনায় প্রতিদিন প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন (৬৫ লাখ) ডলার খরচ হয়। উদাহরণ হিসেবে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের মতো রণতরী বহরের ব্যয় উল্লেখ করা হয়েছে। সরঞ্জাম ক্ষয়ক্ষতির ব্যয় সামরিক সরঞ্জাম হারানোর খরচও যুক্ত হচ্ছে। কুয়েতে এক ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ ঘটনায় অন্তত তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রতিটি আধুনিক ফাইটার জেটের মূল্য ১০০ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। বড় উদ্বেগ: অর্থ নয়, অস্ত্রের মজুত বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এক ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট থাকায় শুধু অর্থের দিক থেকে যুদ্ধ টেকসই হতে পারে। কিন্তু বড় প্রশ্ন হলো অস্ত্রের মজুত—বিশেষ করে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র। প্রিবল বলেন, বর্তমান হারে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কার্যক্রম দীর্ঘদিন চালানো সম্ভব নাও হতে পারে। বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ও এসএম-৬ ধরনের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সীমিত। এগুলোর একটি বড় অংশ ইউক্রেন ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্যও নির্ধারিত। ফলে এক ফ্রন্টে অতিরিক্ত ব্যবহার অন্য অঞ্চলের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি সতর্ক করেন, প্যাট্রিয়ট ও এসএম-৬ ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত জটিল প্রযুক্তির পণ্য। এগুলো দ্রুত, বড় সংখ্যায় উৎপাদন করা সম্ভব নয়। সূত্র: আল-জাজিরা কেএএ/