নারী দিবসে প্রিয় নারীকে নিয়ে দেখুন বাংলাদেশের এই সিনেমাগুলো
2026-03-08 - 06:24
বছর ঘুরে আবার এলো আন্তর্জাতিক নারী দিবস। সারা বিশ্বের নারীদের অধিকার, সংগ্রাম ও সাফল্য উদযাপনের দিন। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অগ্রগতির মতোই চলচ্চিত্র জগতেও বহু আগ থেকেই উঠে এসেছে নারীর গল্প। যদিও অধিকাংশ চলচ্চিত্রে পুরুষ চরিত্রকেই কেন্দ্রে দেখা যায়, তবুও সময়ের পরিক্রমায় নির্মিত হয়েছে অসংখ্য নারীকেন্দ্রিক সিনেমা। সেখানে গল্পের মূল শক্তি একজন নারী। বাংলাদেশি চলচ্চিত্রেও এমন অনেক কাজ রয়েছে যেখানে নারীর সংগ্রাম, আত্মমর্যাদা, ভালোবাসা ও প্রতিরোধের গল্প ফুটে উঠেছে। বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে চলুন ফিরে দেখা যাক বাংলাদেশের কিছু আলোচিত নারীকেন্দ্রিক চলচ্চিত্র। রূপবান (১৯৬৫) বাংলা লোককাহিনি অবলম্বনে নির্মিত রূপবান চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন সালাউদ্দিন। ছবিটিতে গ্রামীণ বাংলার এক নারীর ধৈর্য, ভালোবাসা ও সংগ্রামের কাহিনি উঠে এসেছে। রূপবান চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান সুজাতা। লোককাহিনীনির্ভর এই চলচ্চিত্রটি তৎকালীন সময়ে ব্যাপক সাফল্য পায়। সারেং বউ (১৯৭৮) কথাসাহিত্যিক শহীদুল্লাহ কায়সারের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সারেং বউ পরিচালনা করেন আবদুল্লাহ আল মামুন। উপকূলীয় অঞ্চলের এক নারীর সংগ্রামময় জীবনের গল্প নিয়ে তৈরি এই ছবিতে নবিতন চরিত্রে অভিনয় করেন কবরী। এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ছবির জনপ্রিয় গান ‘ওরে নীল দরিয়া’ আজও শ্রোতাদের মনে জায়গা করে আছে। গোলাপী এখন ট্রেনে (১৯৭৮) পরিচালক আমজাদ হোসেন-এর নির্মিত গোলাপী এখন ট্রেনে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নারীপ্রধান সিনেমা। একজন খেটে খাওয়া গ্রামীণ নারীর জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন ববিতা। ছবিটি সেরা চলচ্চিত্রসহ মোট ১২টি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে। সূর্য দীঘল বাড়ী (১৯৭৯) কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাক-এর কালজয়ী উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সূর্য দীঘল বাড়ী পরিচালনা করেন শেখ নিয়ামত আলী ও মসিউদ্দিন শাকের। দুর্ভিক্ষ, দারিদ্র্য ও মাতৃত্বের করুণ বাস্তবতার মধ্যে জয়গুন নামের এক নারীর সংগ্রামের গল্প এই চলচ্চিত্রের কেন্দ্রবিন্দু। জয়গুন চরিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় পুরস্কার পান ডলি আনোয়ার। ভাত দে (১৯৮৪) পরিচালক আমজাদ হোসেন নির্মিত ভাত দে ছবিতে দরিদ্র এক নারীর জীবনের কঠিন সংগ্রাম উঠে এসেছে। জরি চরিত্রে অভিনয় করেন শাবানা। ছবিটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রসহ নয়টি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হয়। হাঙর নদী গ্রেনেড (১৯৯৭) মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত হাঙর নদী গ্রেনেড পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র বুড়ি। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের সন্তানকেও উৎসর্গ করেন। এই শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করে জাতীয় পুরস্কার পান সুচরিতা। নিরন্তর (২০০৬) পরিচালক আবু সাইয়ীদ নির্মিত নিরন্তর চলচ্চিত্রটি হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত। এতে সমাজের কঠিন বাস্তবতায় টিকে থাকার লড়াইয়ে এক নারীর জীবনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন শাবনূর। থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার (২০০৯) পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর আলোচিত চলচ্চিত্র থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার। সমাজের প্রচলিত ধারণার বিরুদ্ধে নিজের জীবনযাপন বেছে নেওয়া এক তরুণীর গল্প নিয়ে তৈরি এই ছবিতে রুবা চরিত্রে অভিনয় করেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। গেরিলা (২০১০) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র গেরিলা পরিচালনা করেন নাসিরউদ্দিন ইউসুফ। ছবিতে বিলকিস নামের এক সাহসী নারীর গল্প উঠে এসেছে, যিনি মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এই চরিত্রে অভিনয় করে জাতীয় পুরস্কার পান জয়া আহসান। সুতপার ঠিকানা (২০১৫) পরিচালক প্রসূন রহমান নির্মিত সুতপার ঠিকানা ছবিতে একজন নারীর নিজের পরিচয় খুঁজে পাওয়ার দীর্ঘ জীবনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন অপর্ণা ঘোষ। নতুন সময়ের নারীপ্রধান চলচ্চিত্র সাম্প্রতিক সময়েও বাংলাদেশে নারীপ্রধান চলচ্চিত্র নির্মাণের ধারা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে আলোচিত ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ন ডরাই’, ‘দেবীৎ’ এবং ‘চন্দ্রাবতী কথা’। পাশাপাশি অ্যাকশনধর্মী নারীপ্রধান ছবির মধ্যে রয়েছে ‘অগ্নি’, ‘অগ্নি ২’, ‘রক্ত’ এবং ‘বিজলী’। এলআইএ