ফুরিয়ে আসছে দেশীয় গ্যাসের মজুত
2026-03-22 - 03:30
দেশে গ্যাসের মজুত ও উৎপাদন—দুটিই ধারাবাহিকভাবে কমছে। গত ছয় অর্থবছরে গ্যাস উৎপাদন কূপের সংখ্যা বাড়েনি। দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতাও কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। একই সঙ্গে দ্রুত হারে কমছে দেশের অবশিষ্ট গ্যাসের মজুতও। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের হাইড্রোকার্বন ইউনিটের বিগত ছয় বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া যায়। জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম প্রত্যাশিত হারে না বাড়ায় এবং পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিল্পখাতের গ্যাস সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। হাইড্রোকার্বন ইউনিটের তথ্য বলছে, দেশে গ্যাস উৎপাদন কূপের সংখ্যা ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১১২টি, ২০২০-২১ অর্থবছরে ১১৩টি, ২০২১-২২ অর্থবছরে ১০৪টি, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১০৭টি, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১০৭টি এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছিল ১১০টি। এসব কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদন ক্ষমতা ২০১৯-২০ অর্থবছরে দিনে গড়ে ছিল ২৪২৩ দশমিক ৩১ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি), ২০২০-২১ অর্থবছরে ২৬১৫, ২০২১-২২ অর্থবছরে ২৩৩৬, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২২০০, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২০০০ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছিল ১৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অনুসন্ধান চলমান। তবে আরও বাড়ানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে দরকার হলে অন্য সেক্টর থেকে অর্থ সরিয়ে এনে এই কাজ করা উচিত। কারণ আগামী দুই বছর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সেক্টরে এখন যে অর্থ লাগবে পরে আর অত অর্থ লাগবে না।-জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত খনির মোট গ্যাসের মধ্যে শুরু থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত মোট উৎপাদন করা হয় ১৭ দশমিক ৭৯ টিসিএফ, ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৮ দশমিক ৬৮, ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৯ দশমিক ৫১, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২০ দশমিক ৩৫, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২০ দশমিক ৭২ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত মোট উৎপাদন করা হয় ২১ দশমিক ৭৭ টিসিএফ গ্যাস। গ্যাস কূপের সংখ্যা তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে গ্যাসের মজুত ছিল ১২ দশমিক ২৬ টিসিএফ, ২০২০-২১ অর্থবছরে ১১ দশমিক ৩৭, ২০২১-২২ অর্থবছরে ১০ দশমিক ৪২, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৯ দশমিক ৫৭, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯ দশমিক ০২ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসে মোট গ্যাসের মজুত দাঁড়ায় ৮ দশমিক ১৫ টিসিএফ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের হার কম হওয়া এবং পুরোনো ক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে গ্যাসের মজুত দ্রুত কমছে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প, বিদ্যুৎ ও আবাসিক খাতে গ্যাসের চাহিদা বাড়তে থাকায় উৎপাদিত গ্যাস দ্রুত উত্তোলিত হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা এবং আমদানিনির্ভরতার ঝুঁকি মোকাবিলা করা বড় চ্যালেঞ্জ। গ্যাসক্ষেত্রে থাকা সব গ্যাস কখনোই উত্তোলন করা সম্ভব হয় না। তাই দেশের মোট মজুত ৮ দশমিক ১৫ টিসিএফ হলেও পুরোটা তোলা সম্ভব হবে না। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূগর্ভে থাকা সব গ্যাস বাস্তবে উত্তোলন করা সম্ভব হয় না। সাধারণত কোনো গ্যাসক্ষেত্রে থাকা মোট মজুতের একটি অংশ প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক কারণে ভূগর্ভেই থেকে যায়। কারণ, গ্যাস উত্তোলনের সঙ্গে সঙ্গে রিজার্ভারের স্বাভাবিক চাপ কমতে থাকে। এক সময় চাপ এত কমে যায় যে অবশিষ্ট গ্যাস আর সহজে উত্তোলন করা যায় না। এছাড়া কিছু গ্যাসস্তর খুব গভীরে বা জটিল ভূতাত্ত্বিক কাঠামোর মধ্যে থাকায় সেগুলো থেকে গ্যাস উত্তোলন প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রে মোট মজুতের গড়ে প্রায় ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হয়। বাকি অংশ সাধারণত রিজার্ভারের ভেতরেই থেকে যায়। সেই হিসাবে দেশে বর্তমানে যে প্রায় ৮ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুত রয়েছে বলে ধরা হচ্ছে, তার পুরোটা উত্তোলনযোগ্য নাও হতে পারে। বর্তমান উৎপাদন হার বিবেচনায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে প্রতিদিন প্রায় ১৮শ থেকে দুই হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। বছরে প্রায় ০ দশমিক ৬ থেকে ০ দশমিক ৭ টিসিএফ গ্যাস উত্তোলিত হয়। সে হিসাবে অবশিষ্ট গ্যাস দিয়ে বর্তমান হারে উৎপাদন অব্যাহত থাকলে আনুমানিক আরও ৮ থেকে ১০ বছর গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হতে পারে। তবে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার, অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করলে এই সময়সীমা আরও বাড়ানো সম্ভব। সব সরকারের ঝোঁক ছিল আমদানিতে দেশে গ্যাস আমদানি শুরু হয় ২০১৮ সালে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাদ দিয়ে অনেকটাই আমদানির দিকে ঝুঁকে পড়েছিল। তখন কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিট এবং এক্সিলারেট এনার্জির দুটি ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) নির্মাণ করা হয়। আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এনে পরবর্তীসময়ে রিগ্যাসিফিকেশন (রূপান্তর) করে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম বেড়ে যায়। সেসময় বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। ডলার সংকটে টানা সাত মাস খোলাবাজার থেকে গ্যাস আমদানি বন্ধ রাখতে হয়েছিল। এর আগে অবশ্য ২০১৭ সালে প্রথম এলএনজি আমদানি করতে ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তি করে বাংলাদেশ। এর সরবরাহ শুরু হয় ২০১৮ সালে। পরে ২০১৮ সালে ফের ১৫ বছর মেয়াদি দ্বিতীয় চুক্তি করা হয়। পরের চুক্তির এলএনজি সরবরাহ শুরু হয় ২০২৬ সালে। এই দুই চুক্তি ছিল কাতারের সঙ্গে। এছাড়া ওমানের সঙ্গে ২০২৩ সালে ১০ বছর মেয়াদি এলএনজি আমদানির চুক্তি করে সরকার। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৬ সালে এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়। তবে চুক্তির অধীনে এখন পর্যন্ত কোনো এলএনজি কার্গো দেশে আসেনি। সংকটে বেশি দামে কিনতে হয় এলএনজি বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থা বা সংকটে যদি এলএনজি সরবরাহ বন্ধ থাকে তাহলে স্পট মার্কেট থেকে অতিরিক্ত দামে এলএনজি কিনতে হয়। সবশেষ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যায়। এতে পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত দ্বিগুণের বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো এলএনজি কেনে সরকার। পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, স্পট মার্কেট থেকে যে দুই কার্গো এলএনজি গত মাসে ১১শ কোটি টাকায় কেনা হয়েছে, সেটি কিনতে এখন ২৩শ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরে ব্লক পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান গানভোর গ্রুপ থেকে একটি এলএনজি কার্গো প্রতি ঘনফুট কিনতে খরচ হবে ২৮ দশমিক ২৮ ডলার। ভিটলের কাছ থেকে আরেকটি এলএনজি কার্গোর প্রতি ঘনফুট গ্যাসের জন্য ব্যয় হবে ২৩ দশমিক ০৮ ডলার। গানভোরের কার্গোর দাম প্রায় এক হাজার ২৭৯ কোটি টাকা হবে, যা চলতি বছরের জানুয়ারিতে একই ধরনের চালানের জন্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ছিল। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘সংকট মোকাবিলায় দুই কার্গো এলএনজি কেনা হয়েছে। আগামী ১৫ অথবা ১৬ মার্চ এক কার্গো এবং আরেকটি কার্গো ১৮ মার্চ আসার কথা।’ তিনি বলেন, ‘এলএনজি কিনতে দাম বেশি পড়ছে। একটি দ্বিগুণের কাছাকাছি, আরেকটি কার্গো দিগুণেরও বেশি দামে কিনতে হয়েছে।’ নতুন কূপ খননের পরিকল্পনা বিদায়ী বছরের (২০২৫ সাল) ১২ নভেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) জানায়, দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট নিরসনে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়িয়ে জ্বালানির চাহিদা ও সরবরাহের মাঝে স্থিতিশীল ভারসাম্য বজায় রাখতে পেট্রোবাংলা ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে ৫০টি ও ২০২৬-২৮ সালের মধ্যে ১০০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মপরিকল্পনাসহ দেশের বিভিন্ন ব্লকে অনুসন্ধান জোরদার করা হয়েছে। সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান শুরুর আলাপ নেই ২০১২ সালে ভারত ও ২০১৪ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে সামুদ্রিক সীমানার বিরোধ নিষ্পত্তি হয় বাংলাদেশের। এরপর প্রথমবারের মতো সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বড় উদ্যোগ নিয়েছিল তৎকালীন সরকার। আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল ঘটা করে। তবে কোনো কাজেই আসেনি সেই উদ্যোগ। এরই মধ্যে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। বিদেশি সাতটি কোম্পানি দরপত্র কিনলেও তখন জমা দেয়নি কেউ। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও এ বিষয়ে অগ্রগতি হয়নি। অগভীর সমুদ্রের ১১টি ব্লকের মধ্যে নয়টি (এসএস-০১, ০২, ০৩, ০৫, ০৬, ০৭, ০৮, ১০ ও ১১) এবং গভীর সমুদ্রের ১৫টি ব্লকের (ডিএস-০৮ থেকে ডিএস-২২) জন্য তখন দরপত্র আহ্বান করা হয়। সেসময় বহুজাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানির মধ্যে মার্কিন কোম্পানি এক্সনমবিল ও শেভরন, মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস, নরওয়ে ও ফ্রান্সের যৌথ কোম্পানি টিজিএস অ্যান্ড স্লামবার্জার, জাপানের ইনপেক্স করপোরেশন ও জোগম্যাক, চীনের সিনুক, সিঙ্গাপুরের ক্রিস এনার্জি এবং ভারতের ওএনজিসি আগ্রহ প্রকাশ করে বিভিন্ন সময় পেট্রোবাংলার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। এর মধ্যে সমুদ্রে বহুমাত্রিক জরিপের তথ্য কিনেছিল শেভরন, এক্সনমবিল, ইনপেক্স, সিনুক ও জোগোম্যাক। দরপত্র কিনেছিল শেভরন, এক্সনমবিল, ইনপেক্স, সিনুক, জোগম্যাক, ক্রিস এনার্জি এবং ওএনজিসি। কিন্তু সে সময় শেষ পর্যন্তু দরপত্র জমা দেয়নি কোনো কোম্পানি। ফলে উদ্যোগ নিলেও তা ভেস্তে যায়। গভীর সমুদ্রে ১৫টি ও অগভীর সমুদ্রে ১১টি মিলে মোট ২৬টি ব্লক আছে বঙ্গোপসাগরে। এর মধ্যে ২০১০ সালে গভীর সমুদ্রে দুটি ব্লকে কাজ নেয় কনোকো ফিলিপস। তারা দ্বিমাত্রিক জরিপ চালালেও পরে গ্যাসের দাম বাড়ানোর দাবি পূরণ না হওয়ায় কাজ ছেড়ে চলে যায়। এছাড়া একইভাবে চুক্তির পর কাজ ছেড়ে চলে যায় অস্ট্রেলিয়ার স্যান্তোস ও দক্ষিণ কোরিয়ার পস্কো দাইয়ু। এখন একমাত্র কোম্পানি হিসেবে অগভীর সমুদ্রের দুটি ব্লকে অনুসন্ধান চালাচ্ছে ভারতের কোম্পানি ওএনজিসি। পেট্রোবাংলার মহাব্যবস্থাপক (কন্ট্রাক্ট) হাসান মাহমুদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘পিএসসির (উৎপাদন ভাগাভাগি চুক্তি) কিছু ধারা পরিবর্তন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আপাতত এতটুকুই। নির্দেশনা এলে নতুন করে কাজ শুরু হবে।’ ‘সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে গ্যাস অনুসন্ধানের গুরুত্বকে বিবেচনা করতে হবে’ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষক, জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘অনুসন্ধান চলমান। তবে আরও বাড়ানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে দরকার হলে অন্য সেক্টর থেকে অর্থ সরিয়ে এনে এই কাজ করা উচিত। কারণ আগামী দুই বছর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সেক্টরে এখন যে অর্থ লাগবে পরে আর অত অর্থ লাগবে না।’ তিনি বলেন, ‘অনুসন্ধানে আমরা গ্যাস পাবো কী পাবো না সেটি তো জানি না। ধরেই নিলাম আমরা কিছু পেলাম না কিন্তু টাকা তো খরচ হলো। যখন আমরা জানবো যে এখানে গ্যাস নেই, আমরা সরে যাবো। তখন তো অন্যভাবে ম্যানেজ করতে হবে। এ বিষয়টি সরকারকে অনুধাবন করতে হবে। এজন্য যথেষ্ঠ ফান্ড দিতে হবে। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এই গুরুত্ব বিবেচনা করতে হবে।’ এই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ‘অনতিবিলম্বে ডিপ অফশোর (সমুদ্র) অনুসন্ধান শুরু করতে হবে। আমরা পিএসসিতে যত সুযোগ সুবিধা দেই না কেন সেটা এলএনজি আমদানি থেকেও বেটার হবে।’ এনএস/এএসএ/এমএফএ