TheBangladeshTime

চোরাই শেভিং ব্লেডে সয়লাব বাজার, অস্তিত্ব সংকটে দেশীয় শিল্প

2026-03-28 - 15:51

দেশের শেভিং ব্লেডের বাজারে এখন অবৈধ পণ্যের দাপট। কোটি কোটি টাকার চোরাই ব্লেডে সয়লাব হয়ে উঠেছে পাইকারি ও খুচরা বাজার। সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্রের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তৎপরতায় এক দিকে যেমন বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, অন্যদিকে তীব্র সংকটে পড়েছে দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো। খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তপথে অবৈধভাবে শেভিং ব্লেড দেশে প্রবেশ করছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই চোরাচালান আরও সংগঠিত ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। চোরাকারবারিরা এখন ট্রাকের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে জিপিএস ট্র্যাকার ব্যবহার করছে। পাশাপাশি অভিনব কৌশলে পণ্য লুকিয়ে পাচার করা হচ্ছে—বিশেষ করে পাথরের নিচে ব্লেডের চালান লুকিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করানো হচ্ছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ‘জিলেট’ বাংলাদেশে তাদের অফিশিয়াল ডিস্ট্রিবিউশন কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। তবে প্রতিষ্ঠানটির নাম ব্যবহার করে ভারত থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অবৈধ ব্লেড দেশে ঢুকছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে একদিকে ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে বাজারে নকল ও অননুমোদিত পণ্যের বিস্তার ঘটছে। চোরাচালানের ব্যাপকতা বোঝা যায় সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিযানের চিত্র থেকে। গত বছরের ১৯ নভেম্বর হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়। এছাড়া ২৬ এপ্রিল সিলেটে সেনাবাহিনীর অভিযানে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার এবং বিজিবির পৃথক অভিযানে ৬ কোটি টাকার চোরাই মালামাল উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে একদিনেই ৭ কোটি ৪০ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দের ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। জব্দ করা এসব পণ্যের মধ্যে চোরাই পথে আনা শেভিং ব্লেডও ছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, এসব অভিযান বিচ্ছিন্ন হলেও বাজার পর্যায়ে নজরদারি কার্যত দুর্বল। পাইকারি বাজারগুলোতে প্রকাশ্যেই চোরাই ব্লেড বিক্রি হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর তৎপরতা খুব একটা চোখে পড়ে না। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, দেশের অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে ওঠে অভ্যন্তরীণ শিল্পকে কেন্দ্র করে। দেশীয় শেভিং ব্লেড প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো কঠোর নীতিমালা মেনে উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং নিয়মিত ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে সরকারের রাজস্বে অবদান রাখছে। কিন্তু চোরাচালান চক্র কোনো ধরনের শুল্ক বা কর পরিশোধ না করেই অবৈধ পণ্য বাজারে ছাড়ছে। এতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে বৈধ উৎপাদকদের জন্য। তাদের মতে, অবৈধ আমদানি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং বাজারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণের উপায় নেই। অন্যথায় সম্ভাবনাময় এই শিল্প খাত ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এমএএস/এমএমকে

Share this post: