ঈদে মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ১০০ টাকা, হিমশিম মধ্যবিত্তরা
2026-03-23 - 04:01
মৌলভীবাজারে ব্রয়লার ও সোনালিসহ সব ধরনের মুরগির অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মুরগির বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এতে নিত্যপণ্যের এই চড়া দামে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা মুরগির মাংস পাতে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। বাজারে গরুর মাংসের দামও চড়া থাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের ভরসা ছিল ব্রয়লার মুরগি। এই মুরগিরও এখন সোনার মতো দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। রমজানের শেষ সময় কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে বাজারে ব্রয়লার ও সোনালিসহ সব ধরনের মুরগির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি করেছেন ব্যবসায়ীরা। রমজান শুরু হওয়ার আগে যেখানে ব্রয়লার মুরগি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ও সোনালি মুরগি ২৩০-২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। রমজানে কয়েক দফা মুরগির দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি সবশেষে ঈদের আগের দিন থেকে বাজারে ব্রয়লার মুরগি ২১০ থেকে ২৪০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা ও লাল পাকিস্তানি প্রতি পিছ মুরগি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। সরেজমিন জেলার পৌর শহর, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে মুরগির বাজারে ঘুরে দেখা যায়, এক মাসের ব্যবধানে মুরগির দাম বেড়েছে কয়েক দফা। বর্তমানে বাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি দরে, সোনালি মুরগি ৩৫০-৩৮০ টাকা ও লাল পাকিস্তানি প্রতি পিছ মুরগি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা। ঈদের সময় মুরগির এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে ক্রেতারা বলেন, ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সব ধরনের মুরগির দাম বৃদ্ধি করে চড়া দামে বিক্রি করছেন। তাদেরকে কেউ জিজ্ঞেস করছে না কেন বেশি দামে মুরগি বিক্রি করছে। সারা বছর ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৬০ টাকায় ক্রয় করলেও রমজান ও ঈদ এলেই ২২০-২৩০ টাকা হয়ে যায়। প্রতি কেজি মুরগিতে ১০০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। শ্রীমঙ্গলে মুরগি কিনতে আসা নাজমা আক্তার বলেন, ঈদের সময় মেহমান এসেছে। বাজারে মুরগি কিনতে এসে অবাক হয়ে গেছি। একটা ২ কেজি ওজনের ব্রয়লার মুরগির দাম ৪৪০ টাকা। প্রতি কেজি ২২০ টাকা। নিম্ন আয়ের মানুষের এক পিছ মাংস খাওয়ার ভাগ্য মনে হয় হবে না। শমশেরনগর বাজারের ক্রেতা হুমায়ুন মিয়া বলেন, আমরা গরিব মানুষ। দিনমজুরের কাজ করি। ব্রয়লার মুরগি কিনতে এসে দাম দেখে অবাক হয়েছি। বেশি দামে মুরগি বিক্রির পরও বিক্রেতারা ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করেন। ওজনে কম দেন আবার মুরগির ভেতরে পানি ঢুকিয়ে রাখেন। এদিকে মুরগি ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমরা বেশি দামে মুরগি কিনেছি। এজন্য বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আমাদেরকে বলা হয়েছে খামারে মুরগি নেই। ব্রয়লার মুরগি কিছু পাওয়া গেলেও সোনালি মুরগির একেবারে সংকট। খুচরা মুরগি ব্যবসায়ী সাহান মিয়া বলেন, ঈদের আগে মুরগির চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়, আর এতেই সংকট দেখা দেয়। সংকট থাকায় দাম বৃদ্ধি হয়েছে। আমরা মুরগির দাম বৃদ্ধি করিনি। মূল জায়গায় দাম বাড়ানো হয়েছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন বলেন, রমজান মাস থেকেই ব্যবসায়ীরা কৃত্রিমভাবে সংকট দেখিয়ে ব্রয়লারসহ সব ধরনের মুরগির দাম বৃদ্ধি করেছেন। মুরগি যেখান থেকে পাইকারি বিক্রি হয় সেখানে দাম বাড়ানো হচ্ছে কৌশলে। ঈদের দিন থেকে দাম আরও বাড়ানো হয়েছে। আমরা স্থানীয়ভাবে বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছি। যারা বেশি দামে মুরগি বিক্রি করবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। মাহিদুল ইসলাম/এফএ/জেআইএম