পাম্পে পাম্পে ঘুরেও মিলছে না তেল, মোটরসাইকেল চালকদের ভোগান্তি চরমে
2026-03-23 - 11:11
‘খবরে বলছে তেলের অভাব নেই, অথচ পাম্পে গেলে মিলছে শুধু দীর্ঘ লাইন আর ‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড। যে পাম্পেই যায় সেখানেই দীর্ঘ লাইন। ছোটাছুটি করতে আর ভালো লাগছে না। ভাবলাম ঈদের ছুটিতে বউ নিয়ে ঘুরবো কিন্তু তা আর হলো না। সব আশা শেষ করলো এই পেট্রোল।’ সোমবার (২৩ মার্চ) মিরপুর ১ নম্বর সনি সিনেমা হল সংলগ্ন স্যাম অ্যাসোসিয়েট লিমিটেড তেল পাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন কুদ্দুস মোল্লা। পাম্পটিতে কেবল দেওয়া হচ্ছে এলপিজি, আর মাইকিং হচ্ছে অকটেন-পেট্রোল-ডিজেল নাই। তেল না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল ও গাড়িচালকরা। কয়েকটি গাড়িকে এলপিজি গ্যাস নিতে দেখা যায়। কুদ্দুস মোল্লা বলেন, সকাল থেকে কালশীসহ কয়েকটি পাম্প ঘুরলাম কোথাও তেল পেলাম না। সন্ধ্যায় বরিশাল যাব, তেল নাই। কোথায় যাব, কী করবো বুঝতে পারছি না। নজরুল ইসলাম নামের আরেক মোটরসাইকেলচালক বলেন, অকটেন যখন ৬৫ টাকা তখন থেকে এখানে তেল নেই। অথচ আজ প্রয়োজনের সময় তেল পাচ্ছি না। আরেক মোটরসাইকেলচালক বলেন, কচুক্ষেতের স্টেশনে তেল না পেয়ে এখানে এলাম। সবখানে বলছে তেলের কোনো সংকট নাই, কিন্তু অনেক পাম্পেই তেল দিচ্ছে না। সাংবাদিক পরিচয় শুনে স্যাম অ্যাসোসিয়েট পাম্পের কেউ কথা বলতে রাজি হলেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিক্রয়কর্মী বলেন, আমরা তিনদিন ধরে অকটেন, পেট্রোল তেল দিতে পারছি না। সকাল পর্যন্ত ডিজেল ছিল, এখন শেষ। এলপিজি আছে। এদিকে রোববার (২২ মার্চ) রাতে এক বার্তায় বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে যে কোনো সময় সারাদেশের পেট্রোল পাম্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পর দেশে জ্বালানি তেলের ঘাটতি নিয়ে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্বালানি কিনতে শুরু করলে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত ৬ মার্চ থেকে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রিতে সীমা বেঁধে দেয় সরকার। সরকার গত ৬ মার্চ জ্বালানি বিক্রিতে রেশনিং চালু করলেও ১৫ মার্চ তা তুলে নেয়। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় সংকট কাটেনি। বরং টানা ছুটির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এমআরএম