TheBangladeshTime

ঈদ উৎসবে ঐতিহ্য হারিয়েছে ঈদ কার্ড

2026-03-19 - 04:41

এক সময় ঈদ এলেই রাজশাহীর বাজারগুলোতে দেখা যেত রঙিন ঈদ কার্ডের বাহার। দোকানের সামনে ভিড়, ছোটদের কার্ড বাছাই নিয়ে হইচই। এমনকি কে আগে কার্ড কিনবে তা নিয়ে ছিল নিত্যদিনের প্রতিযোগিতা। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই চিত্র এখন প্রায় হারিয়ে গেছে। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ফোনের ক্ষুদেবার্তা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের প্রবণতায় হারিয়েছে ঈদ কার্ডের সংস্কৃতি। রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার এলাকার জামাল সুপার মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, কয়েকটি দোকানে এখনও ঈদ কার্ড সাজিয়ে রাখা হলেও ক্রেতার উপস্থিতি খুবই কম। দোকানগুলোতে নেই আগের মতো ভিড় বা উৎসবের আমেজ। বিভিন্ন ধরনের ঈদ কার্ড ২০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে এসবের মধ্যে তুলনামূলক বেশি বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে পাওয়া ডিজাইন করা কার্ড, যেগুলোর দাম ৪০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। ঈদ কার্ড কিনতে আসা সাহরিয়ার পাভেল বলেন, আগের মতো মানুষ এখন আর ঈদ কার্ড কেনে না। এখন সবাই মোবাইলে মেসেজ বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে দেয়। ফলে কার্ডের সেই আলাদা ভালোবাসা আর অনুভূতিটা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। একই মার্কেটে কার্ড কিনতে আসা কলেজ শিক্ষার্থী সুমাইয়া বলেন, আমি ছোট বোনদের জন্য কয়েকটা ঈদ কার্ড কিনতে এসেছি। প্রতি বছরই বাসায় যাওয়ার আগে পরিবারের ছোটদের জন্য এখান থেকে কার্ড কিনি। আমার কাছে এই কার্ডগুলো খুবই ভালো লাগে। ঈদের আনন্দের সময় প্রিয়জনকে কার্ড দিলে একটা আলাদা অনুভূতি কাজ করে। জামাল সুপার মার্কেটের উপহার কর্নার দোকানের বিক্রেতা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আগের মতো এখন আর ঈদ কার্ডের বেচাকেনা নেই। ছোট বাচ্চারাও এখন মোবাইলেই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। আগে দোকানে অনেক কার্ড বিক্রি হতো, তখন আমরা এই ব্যবসার ওপরই নির্ভর করতাম। এখন আর বেশি নতুন কার্ডও আনি না, কারণ চাহিদা অনেক কমে গেছে। সাহেব বাজারের উৎসব কর্নার দোকানের মালিক নুরুল ইসলাম বলেন, মোবাইল ফোন আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে ঈদ কার্ডের বিক্রি কমে গেছে। মানুষ এখন দ্রুত ও সহজভাবে অনলাইনে শুভেচ্ছা জানাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। ফলে হাতে লেখা বা হাতে দেওয়া কার্ডের সেই ঐতিহ্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। তবে অনেকেই বলছেন, প্রযুক্তির এই যুগেও হাতে লেখা একটি ঈদ কার্ডে যে আন্তরিকতা ও আবেগ থাকে, তা কোনো ডিজিটাল বার্তায় পাওয়া যায় না। তাই এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে নতুন প্রজন্মকে আবারও ঈদ কার্ড বিনিময়ের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করার প্রয়োজন রয়েছে। এফএ/এমএস

Share this post: