ঈদের ছুটিতে মানব কল্যাণ, ২ হাজার রোগী পেলেন ফ্রি চিকিৎসা
2026-03-23 - 03:10
ঈদের ছুটি পরিবারের সঙ্গে কাটানোর পরিবর্তে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র (পঙ্গু হাসপাতাল) এর অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আলমগীর হোসেন জনি। তিনি চুয়াডাঙ্গার সন্তান। তার উদ্যোগেই আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় দুই হাজার রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ প্রদান করা হয়েছে। প্রতি ঈদেই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করেন চুয়াডাঙ্গার এই কৃতী সন্তান। রোববার (২২ মার্চ) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গা শহরের ভিক্টোরিয়া জুবিলি (ভি জে) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ ক্যাম্প শুরু হয়। নির্ধারিত সময় বিকেল পর্যন্ত থাকলেও রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে চিকিৎসাসেবা দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে যেতে হয়। আগত প্রায় সব রোগীকেই চিকিৎসা সেবা দিয়ে এ ক্যাম্পের কার্যক্রম সমাপ্ত করা হয়। এ ক্যাম্পে অর্থোপেডিক, মেডিসিন, চর্ম, শিশু ও গাইনি বিভাগসহ বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে অংশ নেন। বিনামূল্যে রোগী দেখা ছাড়াও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ, ইনজেকশন প্রদান এবং কিছু ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়। এই উদ্যোগের সিনিয়র সাংবাদিক ফাইজার চৌধুরী, আশাদুল হক বটুল, কিংকর দে সহ ডা. জনির শতাধিক বন্ধু ও সহকর্মীরা সার্বিক সমন্বয়ে ছিলেন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ক্যাম্পটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। ডা. আলমগীর হোসেন জনি বলেন, আমি চুয়াডাঙ্গার সন্তান। ঈদের ছুটিতে সময়টা মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে চাই। বন্ধুদের সহযোগিতায় গত কয়েক বছর ধরে এই মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করছি। এবার দশমবারের মতো আয়োজন করা হলো। তিনি আরও বলেন, গ্রামাঞ্চলের অনেক গরিব মানুষ অর্থের অভাবে চিকিৎসা নিতে পারেন না। বিশেষ করে হাড় জোড়া ও ব্যথাজনিত সমস্যায় ভোগা রোগীদের জন্য এই ক্যাম্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সুমিরদিয়া গ্রামের হোসেন আলী বলেন, এখানে বিনামূল্যে ডাক্তার দেখাতে পেরে অনেক উপকার হয়েছে। ওষুধও ফ্রি পেয়েছি, যা আমাদের মতো মানুষের জন্য বড় সহায়তা। মেডিকেল ক্যাম্পে আসা বৃদ্ধা রোকেয়া বেগম বলেন, অনেক দিন ধরে হাঁটু ও কোমরের ব্যথায় ভুগছি। টাকার অভাবে ঠিকমতো ডাক্তার দেখাতে পারিনি। এখানে বিনামূল্যে ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ পেয়েছি। আল্লাহ তাদের ভালো করুক, আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য এটা অনেক বড় পাওয়া। পৌর এলাকার নুর কলোনীর আশাদুল হোসেন বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ খুবই প্রয়োজন। গরিব মানুষের জন্য এটি অনেক বড় সুযোগ। আমি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই। আমি নিজেই স্ত্রীসহ চিকিৎসা নিতে এসেছে। দীপ্তি রানী বিশ্বাস নামের চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হাতিকাটা গ্রামের এক নারী বলেন, এই ডাক্তার আমাদের এলাকার ছেলে। ঢাকাতে থাকে। প্রতি ঈদের পরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করেন। আমি আজ এসেছি চিকিৎসা নিতে। হুসাইন মালিক/এফএ/জেআইএম