মাদরাসায় শিশু ধর্ষণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের
2026-03-18 - 10:11
শিশুদের ওপর চলমান যৌন সহিংসতার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। কুষ্টিয়ার একটি মাদরাসায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের সাম্প্রতিক ঘটনা এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত নজরদারি ও জবাবদিহির ঘাটতিকে আবারও স্পষ্ট করেছে। বুধবার (১৮ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এমজেএফ জানিয়েছে, শিশুদের প্রতি এ ধরনের সহিংসতা ঘটছে ব্যক্তিগত পরিসরে, জনসমাগমস্থলে এবং মাদরাসার মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে শিশুদের প্রতি সহিংসতার ৭১টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮ জন কন্যাশিশু ও ২ জন ছেলেশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ছাড়া ১৪ জন কন্যাশিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাও রয়েছে এ তালিকায়। ২০২৫ সালে শিশুদের প্রতি সহিংসতার মোট ১ হাজার ২৪টি ঘটনা নথিভুক্ত করেছে আসক। এমজেএফ এই বিষয়ে দ্রুত, কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জরুরি আহ্বান জানাচ্ছে। সংসদে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আইন পাস না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন নিশ্চিত করতে হবে। এমজেএফের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, ভয় ও নীরবতার কারণে মাদরাসায় শিশুদের ওপর যৌন সহিংসতার ঘটনা সচরাচর প্রকাশ পায় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গুরুতর শারীরিক ক্ষতি বা মৃত্যুর মতো ঘটনা না ঘটলে এসব বিষয় সামনে আসে না। অপরাধীরা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে নিজেদের লুকিয়ে রাখে এবং শিশুরা কথা বলার সুযোগ না পাওয়ায় তারা আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার শিশুটি এখন জীবন রক্ষার লড়াই করছে বলেও দুঃখ প্রকাশ করেন শাহীন আনাম। একই সঙ্গে শিশুটির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সংহতি প্রকাশ করেছেন তিনি। বিবৃতিতে বলা হয়, যে মাদরাসায় শিশুটি আবাসিক ছাত্রী ছিল। সেই মাদরাসার প্রধানসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে শুধু গ্রেফতার করলেই শিশুদের ওপর চলমান এই নৃশংসতা বন্ধ হবে না। এর জন্য প্রয়োজন আইনের কঠোর প্রয়োগ, নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচারিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ, এবং অভিভাবকদের মধ্যে আরও সচেতনতা তৈরি। কারণ, শিশুরা ঘর, স্কুল, মাদরাসা কিংবা জনসমাগমস্থল, সব জায়গাতেই সহিংসতার ঝুঁকিতে রয়েছে। শিশুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়ের দায়িত্ব। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, এই দায়িত্ব পালনে উভয় ক্ষেত্রেই বড় ঘাটতি রয়ে গেছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে সরকারকে সহযোগিতা করতে এবং কার্যকর উদ্যোগে যুক্ত হতে প্রস্তুত রয়েছে নাগরিক সমাজ, নারী অধিকার সংগঠন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো। আমাদের লক্ষ্য, এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে শিশুরা নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও স্বাধীনতার সঙ্গে বেড়ে উঠতে পারবে। আইএইচও/এমএমএআর