গোপন ছক, প্রকাশ্য ব্যর্থতা: ইরান নিয়ে ভুল পাঠ, নিঠুর বাস্তবতা
2026-03-24 - 15:11
ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা হলে দেশটিতে স্তিমিত জনবিক্ষোভ আবারও শুরু হবে। এই জনবিক্ষোভ উসকে দেওয়ার মাধ্যমে ইরানে সরকার পতন ঘটানো যাবে। এমন পরিকল্পনাই করেছিল ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর মূল্যায়ন ভিন্ন ছিল। সিআইএ জানিয়েছিল, ইরানের বর্তমান সরকার পতনের সম্ভাবনা খুবই কম। ইরানের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা হলে ইরানে ‘আরও কঠোরপন্থী’ নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসতে পারে। এছাড়া মার্কিন সামরিক নেতারা ট্রাম্পকে জানিয়েছিলেন, বোমাবর্ষণের মধ্যে ইরানের জনগণ রাস্তায় নামবে না। একইভাবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন ছিল- হামলার মাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা খুবই কম। মার্কিন সংবাদ মাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে ইরানে গণবিক্ষোভ উসকে দিতে পারবে-এই ধারণাটি যুদ্ধ পরিকল্পনার একটি ‘মূলগত ভুল’ ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর কয়েকদিন আগে মোসাদের প্রধান ডেভিড বারনিয়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু -এর সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকে বারনিয়া নেতানিয়াহুকে আশ্বস্ত করেন যে, হামলা করা সংস্থাটি ইরানের বিরোধী শক্তিকে সক্রিয় করে সরকার পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হবে। একই প্রস্তাব তিনি জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ওয়াশিংটন সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছেও তুলে ধরেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পরবর্তীতে এই পরিকল্পনাটি নেতানিয়াহু ও ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রহণ করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কিছু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে এ নিয়ে সন্দেহ ছিল। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই পরিকল্পনার সম্ভাবনা দেখিয়েই নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ইরানের সরকার পতন সম্ভব বলে বোঝান। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে ইরানের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা হবে এবং এরপর ধারাবাহিক গোয়েন্দা অভিযান চালিয়ে অভ্যুত্থান উসকে দেওয়া হবে। মোসাদের ধারণা ছিল, এতে ব্যাপক গণবিক্ষোভ সৃষ্টি হয়ে শেষ পর্যন্ত সরকার পতন ঘটতে পারে। যুদ্ধ শুরুর পর ট্রাম্পের বক্তব্যেও এর প্রতিফলন দেখা যায়। এক ভিডিও বার্তায় তিনি ইরানের জনগণকে উদ্দেশ করে বলেন, তোমাদের স্বাধীনতার সময় এসেছে... আমরা শেষ করলে তোমরা তোমাদের সরকার নিজেদের হাতে নাও। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার পরিবর্তনের এই আলোচনা স্তিমিত হয়ে যায়। যুদ্ধ শুরুর দুই সপ্তাহেরও কম সময় পর মার্কিন সিনেটররা ব্রিফিং শেষে জানান, ইরানের সরকার উৎখাত এই অভিযানের লক্ষ্য নয় এবং বাস্তবে এ ধরনের কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনাও নেই। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, মোসাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গণ-অভ্যুত্থান না হওয়ায় হতাশ হয়েছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর কয়েকদিন পর এক নিরাপত্তা বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, যদি মোসাদ-এর পরিকল্পনা প্রত্যাশিত ফল না দেয়, তাহলে ডোনাল্ড ট্রাম্প যেকোনো সময় যুদ্ধ থামিয়ে দিতে পারেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই তথ্য প্রকাশ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের পেছনের কৌশল ও উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। কেএম