TheBangladeshTime

সড়কের পাশের গাছ কাটতে কীভাবে অনুমতি নিতে হবে, হাইকোর্টের রায় প্রকাশ

2026-03-09 - 10:05

শহর, জেলা ও উপজেলায় সড়কের পাশে থাকা গাছ কাটার জন্য আদালতের নির্দেশে গঠিত কমিটি থেকে অনুমতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রিটের রায় পুনর্বিবেচনার রায় প্রকাশিত হয়েছে। রায়ে ঢাকা মহানগরীর জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের অধীনে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছেন আদালত। কমিটিতে পরিবেশবাদী, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক থাকবেন। তারা গাছ কাটার অনুমতি দেবেন। একই অনুমতি দিতে জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি), জেলা পরিবেশ কর্মকর্তা, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, বন কর্মকর্তা, পরিবেশবিদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক ও জেলা সিভিল সার্জনকে নিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে সাত সদস্যের কমিটিতে থাকবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), কলেজের অধ্যক্ষ, সমাজকর্মী, পরিবেশবাদী, সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা এবং এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী। রিট আবেদনকারীর পক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সোমবার (৯ মার্চ) জানান, সারাদেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও পরিবেশ দূষণ বন্ধ করে মানুষের জীবন ও সুস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ ২০২৪ সালে একটি রিট করে। এতে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা শহর ও উপজেলায় সড়কের গাছ কাটার জন্য নির্দিষ্ট একটি কমিটি গঠন এবং কমিটির কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করা হয়। প্রাথমিক শুনানি শেষে একই বছরের ৭ মে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ১ জানুয়ারি হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে গাছ কাটার অনুমতির জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের অধীনে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। তবে সরকারি প্রকল্পের গাছকে রায়ের বহির্ভূত রেখে আদালতে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। ব্যাপারটি মূল রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় একটি রিভিউ পিটিশন করা হয়। এর শুনানি শেষে গত ১৭ জুলাই রুল জারি করা হয়। সেই রুলের শুনানি শেষে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি রিভিউয়ের ওপর রায় দেন হাইকোর্ট। মনজিল মোরসেদ বলেন, রায়ে সুনির্দিষ্টভাবে পরিবেশ সংরক্ষণের জন্যই গাছ কাটা নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে অনুমতির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রিট পিটিশনের উৎপত্তি হয়েছিল সরকারি রাস্তার পাশের গাছ কাটা নিয়ে এবং সেটাও আদালত বন্ধ করে দিয়েছেন। এমন অবস্থায় সরকারি প্রকল্পের গাছ কাটা যদি রায়ের বহির্ভূত রাখা হয় তবে রিট পিটিশনের মূল উদ্দেশ্যই অকার্যকর হয়ে যাবে। অপরদিকে রায়ের পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন স্থানে কমিটি করার নির্দেশনা থাকলেও মূল অংশে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কমিটি করার কথা বলা হয়েছে। যার কারণে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয় এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি। সে কারণে উক্ত রায়ের মূল অংশে ঢাকাসহ জেলা ও উপজেলায় আলাদা আলাদা কমিটি গঠন করা এবং সরকারি প্রকল্পের গাছ রায়ের বহির্ভূত করার নির্দেশনা রায় থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন। আদালত রিভিউ আবেদনের প্রার্থনা মঞ্জুর করেছেন জানিয়ে মনজিল মোরসেদ জানান, সরকারি প্রকল্পের গাছ রায়ের বহির্ভূত রাখার নির্দেশনা পুনর্বিবেচনার রায় থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে রায়টি চলমান রেখে আগামী ছয় মাসের মধ্যে আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। এফএইচ/একিউএফ

Share this post: