যেসব ফল খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়তে পারে
2026-03-18 - 03:10
অনিয়মিত জীবনযাপন এখন নানা শারীরিক সমস্যার বড় কারণ হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক হলো হার্ট অ্যাটাক। আগে এটি মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও বর্তমানে অল্প বয়সীদের মধ্যেও এর ঝুঁকি বেড়েছে। হৃদযন্ত্রের কোষগুলো ঠিকভাবে কাজ না করলে এই সমস্যা দেখা দেয়। আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে হৃদযন্ত্রের সুস্থতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুষ্টিকর ও সুষম খাবার হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলমূল সবসময়ই স্বাস্থ্যকর হিসেবে পরিচিত হলেও সব ফল আবার হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী নাও হতে পারে। কিছু ফল আছে যেগুলো অতিরিক্ত খেলে উপকারের বদলে ক্ষতির কারণ হতে পারে। সাম্প্রতিক পুষ্টিবিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক ফলেই ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থাকলেও কিছু ফলের মধ্যে প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। এই অতিরিক্ত চিনি, বিশেষ করে ফ্রুক্টোজ, রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ফলগুলো সাবধানতার সঙ্গে খাওয়া উচিত। তরমুজ ও কলা গরমের দিনে তরমুজ অনেকেরই প্রিয় ফল। এটি শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে এবং পানিশূন্যতা দূর করে। তবে এতে থাকা প্রাকৃতিক চিনি রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। একইভাবে অতিরিক্ত পাকা কলায় থাকে দ্রুত হজমযোগ্য চিনি, যা রক্তচাপ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। আঙুর ও লিচু আঙুর ও লিচুও অনেকের পছন্দের তালিকায় থাকে। কিন্তু এই ফলগুলোতে ফ্রুক্টোজের পরিমাণ বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যাদের সুগার নিয়ন্ত্রণে সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আম আম স্বাদে অতুলনীয় এবং পুষ্টিগুণেও ভরপুর। তবে এতে প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ বেশি থাকায় হৃদরোগীদের জন্য এটি ‘রেড জোন’-এ পড়ে। অতিরিক্ত আম খেলে শরীরে শর্করার মাত্রা বেড়ে গিয়ে হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। কোন ফল বেশি নিরাপদ তবে এর মানে এই নয় যে এসব ফল সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলতে হবে। বরং মূল বিষয় হলো পরিমিত পরিমাণে খাওয়া। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এমন ফল রাখা উচিত যেগুলোতে ফাইবার বেশি এবং প্রাকৃতিক চিনি তুলনামূলক কম। এই ক্ষেত্রে আপেল, পেয়ারা বা পেঁপের মতো ফল হৃদযন্ত্রের জন্য বেশি উপকারী। এসব ফলে ফাইবার বেশি থাকায় তা হজমে সহায়তা করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়তে দেয় না। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া আরও পড়ুন: ওজনের ওপর ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং ও রোজার প্রভাব কি একইরকম ডায়াবেটিস রোগী কি ইফতারে খেজুর খেতে পারবেন এসএকেওয়াই