TheBangladeshTime

ঈদ শেষে কর্মস্থলমুখী মানুষের স্রোত, টিকিট সংকটে ভোগান্তি

2026-03-23 - 06:30

ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফিরতে শুরু করেছেন সাতক্ষীরার মানুষ। তবে ট্রেন ও নৌপথের সুবিধা না থাকায় পুরো চাপ এখন সড়কপথে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। ঈদের আগেই ঢাকাগামী প্রায় সব বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ায় অনেকেই বিপাকে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে অনেকে লোকাল বাসে যশোর বা খুলনায় গিয়ে সেখান থেকে ট্রেনে ঢাকায় ফিরছেন। জেলার শ্যামনগর, কালিগঞ্জ ও সাতক্ষীরা শহরের সঙ্গীতা মোড় এলাকার বাস কাউন্টারগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। টিকিটের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে খালি হাতে ফিরছেন। ঢাকাগামী যাত্রী আব্দুল করিম বলেন, অনেক কষ্টে একটি টিকিট পেয়েছি। কয়েকদিন ধরে কাউন্টারে ঘুরতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বেশি টাকা দিয়েই নিতে হয়েছে। আরেক যাত্রী নাজমুল হোসেন জানান, যশোর-নড়াইল হয়ে চলাচলকারী বাসগুলোতে সময় বেশি লাগে। এ কারণে অনেকেই ওই রুট এড়িয়ে চলছেন। খুলনা-গোপালগঞ্জ হয়ে চলাচলকারী বাসগুলো দ্রুত পৌঁছায়, ফলে ওই রুটের টিকিটের চাহিদা বেশি। যাত্রী রুবিনা খাতুন বলেন, বিআরটিসির বাস খুব কম, আবার সরাসরি ঢাকায়ও যায় না। সরকারি বাস বাড়ানো হলে আমাদের ভোগান্তি অনেকটা কমতো। ঢাকাগামী যাত্রী রাশেদুল ইসলাম বলেন, তিনদিন ধরে চেষ্টা করেও বাসের টিকিট পাইনি। শেষ পর্যন্ত যশোর গিয়ে ট্রেনে উঠতে হবে। এতে ভোগান্তি বাড়বে। শারমিন আক্তার জানান, ছোট বাচ্চা নিয়ে এত কষ্ট করে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সাতক্ষীরা থেকে সরাসরি ট্রেন চালু থাকলে এ দুর্ভোগ কমত। বাড়তি ভাড়া নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। যাত্রী সাইফুল ইসলাম বলেন, সাধারণ সময়ে ভাড়া ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা থাকলেও এখন নন এসি ৯৫০ থেকে এসি ১৪০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। একটি পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার সোহেল হোসেন বলেন, আমরা সরকার নির্ধারিত ভাড়াই নিচ্ছি। অন্য সময় যাত্রী কম থাকায় ভাড়া কিছুটা কম রাখা হয়। এখন ঢাকায় যাত্রী নিয়ে গেলেও ফেরার পথে গাড়ি প্রায় খালি আসে, এতে খরচ বেড়ে যায়। তিনি আরও জানান, ডিজেল সরবরাহেও সমস্যা হচ্ছে। অনেক সময় তেল সংকটের কারণে নির্ধারিত ট্রিপ ছাড়তে দেরি হচ্ছে। জেলা পরিবহন (দূরপাল্লার বাস) মালিক সমিতির সভাপতি তাহমিদ চয়ন জানান, সাতক্ষীরা থেকে প্রতিদিন ৩০০টির বেশি বাস ঢাকায় চলাচল করে। ঈদের সময় অতিরিক্ত বাস চালিয়েও চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। প্রায় সব পরিবহনের টিকিট আগামী ২৭ মার্চ পর্যন্ত আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। ঈদ উপলক্ষে জেলার বাইরে কর্মরত কয়েক লাখ মানুষ এবার বাড়িতে এসেছিলেন। ছুটি শেষে তাদের একযোগে কর্মস্থলে ফেরার চাপেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে যাত্রী ভোগান্তি কমাতে মাঠে রয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সাতক্ষীরা বিআরটিএর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) উসমান সরওয়ার আলম বলেন, নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাস মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে। তবে বাস্তবতা বলছে, বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছর ঈদ এলেই একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটে সাতক্ষীরায়। যেখানে বাড়ি ফেরা যেমন আনন্দের, তেমনি কর্মস্থলে ফেরাটা হয়ে ওঠে ভোগান্তির আরেক নাম। আহসানুর রহমান রাজীব/এফএ/জেআইএম

Share this post: