বসুন্ধরা সিটিতে ঈদের রঙিন প্রস্তুতি
2026-03-05 - 03:44
দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে ১৫ রোজা। আর মাত্র কিছুদিন পরই ঈদ আনন্দে মেতে উঠবেন সবাই। তাই চলছে প্রস্তুতি। নগরীর ব্যস্ত জীবনের ফাঁকেও ঈদের প্রস্তুতিতে মেতে উঠেছেন সবাই। নতুন পোশাক আর প্রিয়জনের জন্য উপহার কিনতে ভিড় করছেন শপিংমলে। এরই মধ্যে জমে উঠেছে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের কেনাকাটা। কেউ দেখছেন নতুন পাঞ্জাবি, কেউ মাপ নিয়ে দেখছেন পছন্দের জামা। শিশুদের কর্নারে যেন ছোট্ট উৎসব বসেছে হাসি, কোলাহল আর রঙের মেলা। একসময় ঈদ কেনাকাটা মানেই ছিল পুরান ঢাকার অলিগলি বা নিউ মার্কেটের ভিড়। এখন আধুনিক শপিং মলগুলোর আরামদায়ক পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং বৈচিত্র্যময় ব্র্যান্ডের কারণে অনেকেই ঝুঁকছেন এক ছাদের নিচে কেনাকাটার দিকে। বসুন্ধরা সিটিতে ঢুকলেই চোখে পড়ে আলোকসজ্জা, অফারের ব্যানার আর প্রতিটি ফ্লোরে সাজানো ঈদ কালেকশন। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোজার শুরুতে ভিড় তুলনামূলক কম থাকলেও দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ক্রেতার চাপ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে ইফতারের পরপরই ভিড় বেড়ে যায়। তারাবির নামাজের আগে ও পরে অনেকেই পরিবার নিয়ে কেনাকাটায় বের হন। ফলে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জমে ওঠে বেচাকেনা। পাঞ্জাবি ও ফ্যাশনে ট্রেন্ডের ছোঁয়া পুরুষদের ফ্যাশনে এ বছর হালকা প্যাস্টেল রঙের পাঞ্জাবির চাহিদা বেশি। মিনিমাল কাজ, সূক্ষ্ম এমব্রয়ডারি ও লিনেন কাপড়ের পাঞ্জাবি নজর কাড়ছে। তরুণদের মধ্যে শর্ট কুর্তা ও ফিউশন স্টাইলের চাহিদাও চোখে পড়ার মতো। অনেকেই আবার পাঞ্জাবির সঙ্গে ম্যাচিং স্যান্ডেল ও ঘড়ি কিনছেন, যেন ঈদের দিন লুক সম্পূর্ণ হয়। নারীদের পোশাকে রয়েছে বৈচিত্র্য। থ্রি-পিস, গাউন, কিমোনো স্টাইলের টপ সবই পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতারা দোকানে দোকানে ঘুরে কাপড়ের মান, ডিজাইন এবং দাম মিলিয়ে দেখছেন। অনেকেই মাপ নিয়ে অর্ডার করছেন, যেন ঈদের আগে ঠিকঠাক ফিটিং পাওয়া যায়। শিশুদের কর্নারে আলাদা উৎসব শিশুদের কর্নারেই যেন সবচেয়ে বেশি প্রাণচাঞ্চল্য। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা নিজেরাই বেছে নিচ্ছে পছন্দের জামা। কারও চোখে সুপারহিরোর ছবি, কারও পছন্দ রাজকন্যার গাউন। অভিভাবকেরা একদিকে বাজেট সামলাচ্ছেন, অন্যদিকে সন্তানের হাসি ধরে রাখতে চেষ্টা করছেন। বিক্রেতারা জানান, শিশুদের পোশাকে আরামদায়ক কাপড়ের চাহিদা বেশি। গরমের কথা মাথায় রেখে কটন ও সফট ফেব্রিকের জামা বেশি বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি ম্যাচিং জুতা ও হেয়ার অ্যাকসেসরিজও কিনছেন অনেকেই। সন্ধ্যার পর বাড়ে ভিড় বসুন্ধরা সিটির একাধিক দোকানের বিক্রেতারা জানান, দিনের বেলায় তুলনামূলক কম ভিড় থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকেই ক্রেতার চাপ বাড়তে থাকে। অফিস শেষে অনেকেই সরাসরি চলে আসেন কেনাকাটায়। ইফতারের পর পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা ক্রেতাদের ভিড় সবচেয়ে বেশি হয়। এ সময়টাতে বিক্রি ভালো হয় বলে জানান তারা। অনেক দোকান রাত পর্যন্ত খোলা রাখছেন, যেন শেষ মুহূর্তের ক্রেতারাও সুযোগ পান। কেউ কেউ আবার বিশেষ ছাড় বা ‘ঈদ অফার’ দিচ্ছেন নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডে। আরও পড়ুন: জমজমাট ঈদের পাইকারি বাজার, খুচরা ব্যবসায়ীদের যা জানা জরুরি প্রিমিয়াম খেজুর থেকে সুলভ জাত, সব মিলেছে বাজারে ঈদ কেনাকাটায় বাজেট একটি বড় বিষয়। বাড়তি খরচের চাপ এড়াতে অনেকেই আগে থেকেই তালিকা তৈরি করে আসছেন। কে কোন পোশাক নেবেন, আনুমানিক কত বাজেট এসব নির্ধারণ করে কেনাকাটা করলে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমে। এছাড়া গরম ও ভিড়ের কথা মাথায় রেখে অনেকেই দিনের অপেক্ষাকৃত ফাঁকা সময়ে আসার চেষ্টা করছেন। শিশু বা বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে এলে বিশ্রাম ও পানির ব্যবস্থা রাখার পরামর্শও দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। এক ছাদের নিচে দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ড, ফুড কোর্ট, বিনোদনের ব্যবস্থা সব মিলিয়ে বসুন্ধরা সিটি এখন শুধু শপিং নয়, এক ধরনের পারিবারিক আড্ডাকেন্দ্র। কেনাকাটার ফাঁকে কেউ কফি খাচ্ছেন, কেউ ছবি তুলছেন। অনেকের কাছে এটি ঈদের প্রস্তুতির অংশ হয়ে গেছে। ঈদ মানে কেবল নতুন পোশাক নয়, প্রিয়জনের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া। বসুন্ধরা সিটির জমজমাট কেনাকাটা সেই আনন্দেরই বহিঃপ্রকাশ। শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়ো হোক বা পরিকল্পিত কেনাকাটা সব মিলিয়ে এখন রাজধানীতে ঈদের আমেজ স্পষ্ট। সন্ধ্যা নামলেই আলো ঝলমলে এই শপিং মলে বাড়তে থাকে মানুষের ঢল। পাঞ্জাবি হাতে কেউ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখছেন কেমন লাগছে, কেউ সন্তানের জামা গুছিয়ে রাখছেন ব্যাগে। এই ব্যস্ততার মাঝেই ধরা পড়ে ঈদের আসল রং প্রত্যাশা, প্রস্তুতি আর ভালোবাসা। জেএস/