ছুটির দিনেও ফাঁকা হাতিরঝিল, খাঁ খাঁ করছে রেস্তোরাঁ-ফুড কোর্ট
2026-03-26 - 13:30
ঈদুল ফিতরের আমেজ এখনো ফুরোয়নি। নতুন করে যোগ হয়েছে মহান স্বাধীনতা দিবসের ছুটি। অথচ রাজধানীর অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র হাতিরঝিলে মানুষের আনোগোনা একেবারে কম। ঝিলের চারপাশে গড়ে ওঠা রেস্তোরাঁ, ফুড কোর্টগুলোও জনশূন্য। অলস সময় কাটছে বিক্রেতাদের। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে হাতিরঝিলের বিভিন্ন অংশে ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। সরেজমিন দেখা যায়, বিকেলে হাতিরঝিলের পুলিশ প্লাজা, এফডিসি জেটি, মহানগর আবাসিক, রামপুরা ও মেরুল বাড্ডা অংশ প্রায় ফাঁকা। হাতেগোনা কিছু মানুষ পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। তারা দৃষ্টিনন্দন ব্রিজগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে সেলফি তুলছেন। মহানগর আবাসিক এলাকায় ঝিলপাড়ের ব্রিজে দাঁড়িয়ে কথা হয় আহম্মদ আলীর সঙ্গে। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে এসেছেন তিনি। আহম্মদ আলী বলেন, ‘আজকে আবহাওয়াটা ভালো না। ভ্যাপসা গরম। তারপরও বের হলাম। ছেলেটা বারবার বলছিল রঙিন বেলুন কিনবে। ওর জন্য বেলুন কেনার উসিলায় ঘুরতে বের হওয়া।’ পুলিশ প্লাজা ধরে সামনে এগোলে হাতিরঝিলের মেরুল বাড্ডা অংশ। ঝিলের পাড়ে অসংখ্য ফুড কোর্ট। কিন্তু সেখানে ক্রেতা নেই। বিক্রি না থাকায় অলস সময় কাটাচ্ছেন বিক্রেতারা। ফুচকা বিক্রেতা আইয়ুব হোসেন বলেন, ‘ঈদের পর দুইদিন ভালো বেচাকেনা হইছিল। আজকে ২৬ মার্চ, ছুটির দিন; ভালো বিক্রি হবে ভাবছিলাম, কিন্তু ভাব ভালা ঠেকছে না। ভিড় নেই, লোকজন কম।’ মহানগর আবাসিক এলাকার পাশের অংশে কিছুটা ভিড় বেশি। এখানে অনেকে ব্রিজের রেলিংয়ের ওপর বসে গল্প-আড্ডায় মেতেছেন। তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি বেশি। সেখানে কথা হয় সাফওয়ান আব্দুল্লাহ নামে এক কলেজছাত্রের সঙ্গে। তিনি বলেন, বন্ধুরা আসবে। ওদের জন্য অপেক্ষা করছি। বাইকে ঘুরতে বের হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তেল নেই। লাইনে দাঁড়িয়ে তেল কিনতে অনেক ঝামেলা। সেজন্য সবাই রিকশায় করে হাতিরঝিলে আসার কথা। সন্ধ্যায় আড্ডা দেবো।’ এদিকে, ছুটির দিনে ভালো বেচা-বিক্রির আশা নিয়ে দুপুর থেকে রেস্তোরাঁ, ফুড কোর্ট খুলে বসা মালিক-কর্মীরা হতাশ। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী ক্রেতা পাননি বলে জানান ইটালিয়া ফুডের মালিকা সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘একুশে ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চে ছুটির দিনে ভালো বিক্রি হয়। কাস্টমার আসে ঝাঁকে ঝাঁকে। কিন্তু আজকে পুরাই ফাঁকা। ভাবছিলাম ঈদের আমেজ ও ২৬ মার্চের ছুটি মিলিয়ে ভালো ব্যবসা হবে। কিন্তু বিকেলে ফাঁকা গেলো। এখন সন্ধ্যায় যদি কিছুটা বিক্রি হয়, তাহলে খরচাটা উঠবে।’ ডে-নাইট ক্যাফে অ্যান্ড ফুড রেস্তোরাঁয় প্রায় সব চেয়ার-টেবিল ফাঁকা দেখা যায়। রেস্তোরাঁর কর্মী আরিফ বলেন, ‘এখন বিকেল সাড়ে ৫টা বাজে। সাধারণ দিনেও ২০-২৫ জন কাস্টমার থাকে। কিন্তু আজকে ফাঁকা। ঈদের পর দুই-তিনদিন ভালো ভিড় ছিল। হঠাৎ আজকেই খারাপ দেখছি। মনে হচ্ছে ছুটিতে মানুষ আবার গ্রামে চলে গেছে।’ এএএইচ/এমএএইচ/