TheBangladeshTime

গরম গরম নয়, রান্না ভাত ফ্রিজে রেখে খেলে পাবেন বিশেষ উপকার

2026-03-11 - 13:14

ভাত বাঙালির প্রধান খাবার। সেই ভাত গরম গরম না খেরে অনেকের যেন পেটই ভরেনা। তবে বেশি ভাত খেলে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যায়। তাই ডায়াবেটিস বা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেকে ভাত খাওয়া কমিয়ে দেন। কিন্তু পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, ভাত খাওয়ার একটি সহজ কৌশল আছে, যা শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। রান্না করা ভাত কিছু সময় ফ্রিজে রেখে পরে গরম করে খেলে এর পুষ্টিগুণে ভিন্নতা আসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্না করা ভাত যদি প্রায় ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা ফ্রিজে রাখা হয়, তাহলে ভাতের সহজে হজমযোগ্য স্টার্চের একটি অংশ রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চে রূপান্তরিত হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় রেট্রোগ্রাডেশন। রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ এমন এক ধরনের কার্বোহাইড্রেট, যা শরীরে ধীরে হজম হয় এবং অনেকটা ফাইবারের মতো কাজ করে। এই পরিবর্তনের ফলে ভাত খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ার প্রবণতা কিছুটা কমে। তাই যারা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য এটি তুলনামূলকভাবে উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ অন্ত্রের জন্যও ভালো, কারণ এটি উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। গবেষণা বলছে, রান্না করা ভাত যদি ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ফ্রিজে রাখা হয়, তবে ১২–২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই রূপান্তর সবচেয়ে ভালোভাবে ঘটে। অন্তত ১২ ঘণ্টা রাখা হলে পরিবর্তনটি শুরু হয়। পরে সেই ভাত আবার গরম করে খাওয়া নিরাপদ এবং এতে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চের পরিমাণ অনেকটাই বজায় থাকে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো - এই প্রক্রিয়ায় ভাতের ক্যালোরির ব্যবহারযোগ্য অংশ কিছুটা কমে যেতে পারে। ঠান্ডা করার সময় স্টার্চের অণুগুলো নতুন করে স্ফটিক কাঠামো তৈরি করে, যা শরীর সহজে ভাঙতে পারে না। ফলে এটি অনেকটা ফাইবারের মতো আচরণ করে এবং শরীরে শোষিত ক্যালোরির পরিমাণও তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, ভাত যতই স্বাস্থ্যকরভাবে খাওয়া হোক না কেন, পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করাই আসল। অতিরিক্ত ভাত খেলে ক্যালোরির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। তাই সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে ভাত, সবজি ও প্রোটিনের ভারসাম্য রাখা সবচেয়ে ভালো। সব মিলিয়ে বলা যায়, রান্না করা ভাত ফ্রিজে রেখে পরে গরম করে খাওয়ার অভ্যাস শুধু সুবিধাজনকই নয়, বরং পুষ্টিগত দিক থেকেও কিছু বাড়তি উপকার দিতে পারে। সূত্র: হার্ভার্ড টি.এইচ. চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ, ওয়েবএমডি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউট্রিশন এএমপি/জেআইএম

Share this post: