ঈদে মিষ্টি ও ভারী খাবার, ডায়াবেটিস রোগীরা সতর্ক থাকবেন যেভাবে
2026-03-16 - 12:54
রমজানের এক মাস রোজা রাখার ফলে শরীর একটি নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে যায়। কিন্তু ঈদের দিন হঠাৎ করে অনেক ভারী ও মিষ্টি খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ঈদের দিন খাবারের আনন্দ উপভোগ করা সম্ভব, তবে সেটি হতে হবে সচেতনভাবে। জেনে নিন কোন কোন বিষয়ে সতর্ক থাকবেন - ১. খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখুন ঈদের দিন বিভিন্ন ধরনের খাবার সামনে থাকলে অনেক সময় একসঙ্গে বেশি খেয়ে ফেলার প্রবণতা থাকে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই অল্প অল্প করে খাবার খাওয়া এবং পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। ২. মিষ্টি খাবার সীমিত রাখুন সেমাই, পায়েস বা নানা ধরনের মিষ্টি ঈদের প্রধান আকর্ষণ। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এগুলো বেশি খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চাইলে খুব অল্প পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে, তবে তা যেন নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত না হয়। ৩. খাবারের মাঝে বিরতি রাখুন একটানা অনেক কিছু না খেয়ে খাবারের মাঝে কিছুটা সময়ের বিরতি রাখা ভালো। এতে শরীর খাবার হজম করার সময় পায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে খুব বেশি বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। ৪. সবজি ও প্রোটিন বেশি রাখুন ঈদের খাবারের সঙ্গে সালাদ, সবজি বা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার (যেমন ডাল, মাছ বা মাংস) রাখলে তা রক্তে শর্করার ওঠানামা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে। ৫. পর্যাপ্ত পানি পান করুন উৎসবের ব্যস্ততায় অনেক সময় পানি পান কম হয়ে যায়। কিন্তু পর্যাপ্ত পানি শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং হজম প্রক্রিয়াও সহজ করে। ৬. হালকা হাঁটা উপকারী খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হালকা হাঁটা শরীরকে সক্রিয় রাখে এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে। ৭. ব্লাড সুগার পরীক্ষা করুন ঈদের দিন খাবারের ধরন বদলে যাওয়ায় রক্তে শর্করার মাত্রাও ওঠানামা করতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ব্লাড সুগার পরীক্ষা করা ভালো। সব মিলিয়ে বলা যায়, ঈদের আনন্দ মানেই অতিরিক্ত খাওয়া নয়। একটু সচেতন থাকলে ডায়াবেটিস রোগীরাও নিরাপদভাবে উৎসব উপভোগ করতে পারেন। সূত্র: আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন, সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন, ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস এএমপি/এএসএম