TheBangladeshTime

ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন কড়াইল বস্তিতে, থাকবেন প্রধানমন্ত্রী

2026-03-05 - 06:53

আগামী ১০ মার্চ রাজধানীর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশের ১৪টি স্থানে কর্মসূচিটির উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১০ মার্চ সকাল ১০টায় কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। দেশের ১৪টি স্থানে কর্মসূচিটির উদ্বোধন ঘোষণা করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যহীন ও মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার চালু করতে যাচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’—এই দর্শনকে সামনে রেখে কর্মসূচিটি প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে ২৩টি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৯৫টিরও বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু থাকলেও সমন্বয়হীনতা, দ্বৈত সুবিধা গ্রহণ (ডাবল-ডিপিং) এবং প্রায় ২২-২৫ শতাংশ প্রকৃত দরিদ্রের বাদ পড়ার মতো সমস্যা রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলে এসব ত্রুটি দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপকারভোগী নির্বাচন হবে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) স্কোরিং’ পদ্ধতিতে। ০ থেকে ১০০০ স্কোরের ভিত্তিতে ১ম (০–৭৭৭) ও ২য় (৭৭৮–৭৯৬) কোয়ান্টাইলভুক্ত অতি দরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারগুলো পাইলট পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত হবে। পিএমটি হলো—সম্পদ ও আয়ের ভিত্তিতে দারিদ্র্য নির্ধারণের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। গ্রামীণ এলাকায় বসতভিটাসহ আবাদি জমি সর্বোচ্চ ০.৫০ একর হতে হবে। সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগী সদস্য, বড় ব্যবসা বা বাণিজ্যিক লাইসেন্সধারী পরিবার এবং বিলাসবহুল সম্পদ (গাড়ি, এসি) থাকলে তারা অযোগ্য বিবেচিত হবে। ভূমিহীন, গৃহহীন, প্রতিবন্ধী এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠী যেমন হিজড়া, বেদে ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবারগুলো এই তালিকায় অগ্রাধিকার পাবে। নারীর নামে কার্ড, মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কার্ডটি পরিবারের ‘মা’ বা নারী প্রধানের নামে ইস্যু করা হবে। পাইলট পর্যায়ে প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। অর্থ সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। একই স্মার্ট কার্ড ও ওটিপি ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে সাশ্রয়ী খাদ্য সহায়তা পাওয়া যাবে। ভবিষ্যতে শিক্ষা উপবৃত্তি, কৃষি ভর্তুকি ও অন্যান্য ভাতা এ কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্যমান টিসিবি কার্ডকে ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি (ডিএসআর)-এ একীভূত করা হবে। যেসব এলাকায় পাইলট বাস্তবায়ন পাইলট প্রকল্পের জন্য দেশের ১৩টি ভিন্নধর্মী এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ঢাকার বনানী (কড়াইল বস্তি), পাংশা (রাজবাড়ী), পটিয়া (চট্টগ্রাম), বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), লামা (বান্দরবান), খালিশপুর (খুলনা), চরফ্যাশন (ভোলা), দিরাই (সুনামগঞ্জ), ভৈরব (কিশোরগঞ্জ), বগুড়া সদর, লালপুর (নাটোর), ঠাকুরগাঁও সদর এবং নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর)। দারিদ্র্যের ঘনত্ব, ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও অনগ্রসরতার মাত্রা বিবেচনায় এসব এলাকা বাছাই করা হয়েছে। বাজেটের ৭৭ শতাংশ সরাসরি দরিদ্রদের হাতে মোট ২ কোটি ১০ লাখ ৭২ হাজার ৩২৫ টাকার বাজেটের মধ্যে ১ কোটি ৬২ লাখ টাকা (৭৭ শতাংশ) সরাসরি ৬ হাজার ৫০০ পরিবারের হাতে নগদ সহায়তা হিসেবে যাবে। বাকি অর্থ তথ্য সংগ্রহ, ডাটা এন্ট্রি (প্রতি ফর্ম ২৫ টাকা), কমিটির সম্মানী, স্মার্ট কার্ড প্রিন্টিং ও উদ্বোধনী ব্যয়ে ব্যবহৃত হবে। ২০৩০ সালের লক্ষ্য গাইডলাইনে ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডকে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’-এ রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৮ সালের মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা বাজেট জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। কোথায় কত অর্থ ব্যয় হবে তিনটি কমিটির সভাপতিদের জন্য প্রতি সভায় ২ হাজার টাকা এবং সদস্যদের জন্য ১ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এতে ১৩টি ইউনিটের ৩টি পর্যায়ের কমিটির জন্য মোট ব্যয় হবে ১০ লাখ ১৪ হাজার টাকা। সভার গুরুত্ব বিবেচনায় জনপ্রতি ৩০০ টাকা হারে নাস্তা ও আপ্যায়ন খরচ ধরা হয়েছে। এছাড়া ১৩টি ইউনিটের জন্য ২ লাখ টাকা ‘অন্যান্য ব্যয়’ হিসেবে রাখা হয়েছে, যা সিল তৈরি, কাগজ ও জরুরি যাতায়াতে ব্যয় হবে। পাশাপাশি ১ হাজার পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে যাচাই শেষে ৫০০ পরিবার চূড়ান্ত করা হবে। প্রতি ফর্মে ২৫ টাকা এন্ট্রি ফি ধরা হয়েছে। আর উদ্বোধন অনুষ্ঠানের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। এমএএস/এমএমকে

Share this post: