উল্টো কৃতজ্ঞতা জানালেন হানিফ সংকেত
2026-03-05 - 15:44
চমকপ্রদ পরিকল্পনা, বৈচিত্রপূর্ণ গ্রন্থণা ও জাদুকরি উপস্থাপনার ত্রিশ বছর! কোটি কোটি মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় পাত্র হয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মানে মনোনীত হলেন হানিফ সংকেত। খবরটি পাওয়ার পর সেই মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এই টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব। জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ (৫ মার্চ) বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুরস্কারের খবর ছড়িয়ে যাওয়ার পর সন্ধ্যায় ফেসবুকে হানিফ সংকেতে লিখেছেন, ‘সুহৃদ, আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এ বছর আমাকে সংস্কৃতিতে “স্বাধীনতা পদক”-এ ভূষিত করছেন। এই অর্জন আমার একার নয়, যাদের ভালোবাসা, সমর্থন ও সহযোগিতায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আমার এই দীর্ঘ যাত্রা সম্ভব হয়েছে, এই অর্জন তাদের সবার। আজকের এই আনন্দের দিনে আমি তাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই পুরস্কার আমি আমার লক্ষ-কোটি দর্শকদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করছি।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সুস্থ সংস্কৃতিই পারে একটি সমাজকে আলোকিত করতে এবং দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে। আমৃত্যু আমি সুস্থ সংস্কৃতির চর্চায়, দেশের জন্য কাজ করে যেতে চাই। অতীতেও আমি যেমন দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করে যাব। এই পুরস্কার আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে আরও উৎসাহিত করবে। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।’ ১৯৫৮ সালের ২৩ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন হানিফ সংকেত। তার প্রকৃত নাম এ কে এম হানিফ। তিনি একাধারে উপস্থাপক, পরিচালক, লেখক ও প্রযোজক। ১৯৮৯ সালে তিনি শুরু করেন ‘ইত্যাদি’। অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা, গ্রন্থনা, রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা তিনি নিজেই করেন। ‘ইত্যাদি’র মাধ্যমে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন তিনি। রসাত্মক ভঙ্গিতে সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরায় এ অনুষ্ঠান মানুষের মাঝে দ্রুত প্রভাব সৃষ্টি করেছে। এমনকি অচেনা অনেক শিল্পী ও সমাজের নানান শ্রেণি-পেশার ব্যক্তি ইত্যাদির মঞ্চ থেকে খ্যাতির শিখরে পৌঁছে গেছেন। এক সময় কৌতুকের অডিও ক্যাসেট বের করতেন হানিফ সংকেত। সেখান থেকে অনুষ্ঠান নির্মাণ। নিজে অভিনয় করেছেন বেশ কয়েকটি সিনেমায়। এমনকি টিভিনাটক পরিচালনায়ও মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন হানিফ সংকেত। তার পরিচালিত জনপ্রিয় নাটকের মধ্যে ‘আয় ফিরে তোর প্রাণের বারান্দায়’, ‘দুর্ঘটনা’, ‘তোষামোদে খোশ আমোদে’, ‘কিংকর্তব্য’, ‘কুসুম কুসুম ভালোবাসা’, ‘শেষে এসে অবশেষে’ দর্শকের প্রীতি কুড়িয়েছে। বেশ কয়েকটি ব্যঙ্গ ও রম্য রচনা লিখেছেন তিনি। তার মধ্যে ‘চৌচাপটে’, ‘এপিঠ ওপিঠ’, ‘ধন্যবাদ, ‘অকান্ড কান্ড, ‘খবরে প্রকাশ’, ‘ফুলের মতো পবিত্র’, ‘প্রতি ও ইতি, ‘আটখানার পাটখানা’ অন্যতম। হানিফ সংকেত ২০১০ সালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘একুশে পদক’ পেয়েছেন। পেয়েছেন ‘জাতীয় পরিবেশ পদক’ এবং ‘মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার’সহ বেশ কিছু দেশি-বিদেশি সম্মাননা। আরও পড়ুন: হানিফ সংকেত পাচ্ছেন স্বাধীনতা পুরস্কার মৃত্যুর ১২ বছর পর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বশির আহমেদ এমআই/আরএমডি